অনন্ত অম্বানীর হাতঘড়ি দেখে চমকে গিয়েছিলেন মার্ক জ়াকারবার্গও। মেটার কর্ণধার জ়াকারবার্গ, যিনি নিত্যনতুন গ্যাজেট বানান, যিনি চশমার কাচেই বিশ্বদর্শনের ব্যবস্থা করে ফেলেছেন, তাঁকেও দেখা গিয়েছিল অনন্তের ঘড়ির উপর ঝুঁকে পড়ে তা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করতে। কারণ, অনন্তের হাতঘড়ির সংগ্রহ দেখার মতোই। ধনকুবেরের সন্তান। রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর একাধিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছেন তিনি। তাঁর পক্ষে বিশ্বের সেরা এবং বিরল সব ঘড়ি, যাকে ‘কালেক্টরস আইটেম’ বলা হয়, তা সংগ্রহ করা কোনও কঠিন ব্যাপার নয়।
ঘড়ি তো শুধু সময় জানানোর যন্ত্র নয়, অনেক সময় তা হয়ে ওঠে ব্যক্তিত্ব, রুচি ও গল্প বলার এক অনন্য মাধ্যম। এমনই এক গল্প বলছে বিলাসবহুল ঘড়ির সংস্থা জেকব অ্যান্ড কোং–এর তৈরি নতুন বহুমূল্যবান ঘড়ি, যা অনন্ত অম্বানী ও তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প 'বনতারা'র দ্বারা অনুপ্রাণিত। ঘড়ির প্রতি অনন্তের ভালবাসা ও তাঁর 'বনতারা' প্রকল্পকে সম্মান জানিয়ে আমেরিকান লাক্সারি ব্র্যান্ড জেকব অ্যান্ড কোং তৈরি করল এক অভিনব মাস্টারপিস, ‘অপেরা বনতারা গ্রিন ক্যামো’। ঘড়িটিকে গুজরাতের বনতারা গ্লোবাল ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ অ্যান্ড কনজারভেশন সেন্টার–এর প্রতি এক শিল্পসম্মত শ্রদ্ধার্ঘ্য বলা যেতেই পারে।
সবুজ ক্যামোফ্লাজ থিমে তৈরি এই ঘড়ির ডায়াল যেন এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ছবি: সংগৃহীত।
সবুজ ক্যামোফ্লাজ থিমে তৈরি এই ঘড়ির ডায়াল যেন এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ডায়াল জুড়ে রয়েছে এক টুকরো 'বনতারা', মূল্যবান রত্নপাথর এবং হাতে আঁকা অনন্ত অম্বানীর একটি ক্ষুদ্র মূর্তি। ডায়ালের কেন্দ্রে থাকা এই মূর্তিটি 'বনতারা' প্রকল্পে তাঁর নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধের প্রতীক। মূর্তির দু’পাশে রয়েছে ভারতের বন্যপ্রাণী ঐতিহ্যের দুই শক্তিশালী প্রতীক, একটি সিংহ ও একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। এই দুই প্রাণী মিলিয়ে গড়ে উঠেছে সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও তত্ত্বাবধানের এক দৃশ্যমান বার্তা। ঘড়ির কাঁটাগুলি বসানো হয়েছে একটি হাতির শুঁড়ের উপর। এই বিশেষ ঘড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৯০টিরও বেশি মূল্যবান রত্নপাথর, প্রতিটি পাথর যেন 'বনতারা'-র গল্পের এক একটি অধ্যায় তুলে ধরছে। নিখুঁত কারিগরি ও শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি এই ঘড়ির নকশায় স্পষ্ট। সংস্থার তরফে এই ঘড়ির মূল্য এখনও প্রকাশ করা না হলেও, অনুমান করা হচ্ছে প্রায় দেড় মিলিয়ান ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৭ কোটি টাকা)।