ডায়াবিটিস এক দিনে হয় না। দীর্ঘ দিনের অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরের অসহযোগিতা, এই সব কিছু মিলিয়েই ধীরে ধীরে শুরু হয় ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স। যা আদতে আসন্ন বড় বিপদের পদধ্বনি।
ইনসুলিন যদি নিজের কাজ যথাযথ ভাবে না করতে পারে, তবে খাবারের মাধ্যমে শরীরে যাওয়া শর্করা ভাঙবে না। আর সে ক্ষেত্রে দু’টি মূলগত অসুবিধা হবে। এক, শর্করা ভেঙে শরীর যে শক্তি পায়, তাতে ঘাটতি হবে। ফলে দ্রুত ক্লান্তি আসবে। দুই, শর্করা ভেঙে শক্তিতে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে অতিরিক্ত শর্করা জমতে শুরু করবে শরীরে।
শরীরে যদি শর্করা জমতেই থাকে তবে তা থেকে ডায়াবিটিসের পাশাপাশি আরও নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিপাকের হারে প্রভাব পড়তে পারে। ওজন বাড়তে পারে। তা থেকে বাড়বে হার্টের রোগের ঝুঁকি। তৈরি হবে ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ। তাতে রোগ প্রতিরোধ শক্তি দুর্বল হবে। দেখা দেবে নানা ধরনের জটিল রোগ। এই বিপদ দূর করতে হলে সঠিক সময়ে উপসর্গ বুঝে সক্রিয় হওয়া দরকার। রক্ত পরীক্ষায় ডায়াবিটিস ধরা পড়ার আগে সতর্ক হলে বিপদ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। কিন্তু কী ভাবে সতর্ক হবেন? আমেরিকানিবাসী এক ভারতীয় মেডিসিনের চিকিৎসক কুণাল সুদ উপায় বলে দিয়েছেন।
কুণাল জানিয়েছেন, কয়েকটি উপসর্গ খেয়াল করলে, ইনসুলিনের কাজে বাধা পড়ছে কি না বোঝা যাবে—
১। খাওয়ার পরেই আবার খিদে পাচ্ছে? তবে বুঝতে হবে শরীরে ইনসুলিন তার কাজ করতে পারছে না। কারণ, ইনসুলিন খাবার খাওয়ার পরে পেট ভরানোর অনুভূতি দেয়।
২। বিকেল ৩টের পরেই ঝিমিয়ে পড়ছেন? তার মানে খাবার থেকে পাওয়া শর্করা ভেঙে শক্তির জোগান দিতে পারছে না ইনসুলিন। ফলে পেশির কোষে গ্লুকোজ় পৌঁছোচ্ছে না। এমন হলে দুপুরের খাবার খাওয়ার পরে ঘুম পেতে পারে। এমনকি, মাথা খেলাতেও অসুবিধা হতে পারে।
৩। মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করতে পারছেন না? প্রতিনিয়ত মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে হলে বুঝতে হবে ইনসুলিন তার কাজ করছে না।
৪। স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া করছেন। তেল-ঝাল-মশলায় ইতি টেনেছেন। অথচ কমতে চাইছে না পেটের মেদ? তবে বুঝতে হবে ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স হচ্ছে। চিকিৎসক বলছেন, ইনসুলিন নিজের কাজ ঠিকমতো না করতে পারলে সবার আগে পেটে মেদ জমতে শুরু করে।
৫। ত্বকেও দেখা যায় ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্সের উপসর্গ। খেয়াল করে দেখুন ত্বকের কোনও অংশ অনুজ্জ্বল বা খসখসে লাগছে কি না। ইনসুলিন কাজ না করলে ত্বকে অতিরিক্ত কোষ তৈরি হতে শুরু করে। যার ফলে ত্বক কালচে এবং খসখসে দেখায়।