অন্দরসজ্জায় ক্যানভাস হয়ে উঠতে পারে বাড়ির দেওয়ালই। উজ্জ্বল রঙেই যে দেওয়ালটিকে সুন্দর করে তুলতে হবে তা কিন্তু নয়। বরং হালকা রঙের অনুজ্জ্বল দেওয়ালও সেজে উঠতে পারে ছবি, শো-পিস, হাতের কাজের জিনিসের ছোঁয়ায়।
বাড়ির সাজে যেমন বৈভব থাকতে পারে, তেমন থাকতে পারে জীবনের নানা মুহূর্তের কোলাজ। নানা রকম ছবি ফ্রেম বাঁধাই করে ঘর সাজানোর কৌশল জনপ্রিয় হয়েছে আগেই। কিন্তু ঘর সাজানো মানে কি পছন্দের ছবি সুন্দর ফ্রেমে বাঁধাই করে ঝুলিয়ে দেওয়া? তা কিন্তু নয়। বরং সুচারু ভাবে তা কোলাজের আকারে মেলে ধরলেই, নজর পড়বে সেখানে। দৃষ্টিনন্দন হবে বাড়ি।
গ্যালারির মতো দেওয়াল সাজাতে কোন শর্তগুলি কাজ আসবে?
উপযুক্ত স্থান: বাড়ির যে কোনও ঘরের যে কোনও দেওয়াল নয়। বরং বাড়িতে ঢুকলে যে দেওয়ালটিতে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে সেটি হতে পারে উপযুক্ত। বাড়িতে প্রবেশের সময় প্রথমেই দরজার উল্টো দিকে চোখ যায়। বেছে নিতে পারেন সেই দেওয়াল। আবার বসার ঘরের সোফাটি যেখানে, সেখানে বসলে চোখ যে স্থানগুলিতে ঘুরতে পারে তেমন কোনও একটি জায়গাও বেছে নেওয়া চলে।
আরও পড়ুন:
ফ্রেমের বৈচিত্র: চটকদার কারুকাজ করা ফ্রেম নয়, বরং আধুনিক এবং পুরনো ফ্রেমের একটা মেলবন্ধন করা যেতে পারে। রকমারি ফ্রেম দিয়ে একটি দেওয়ালে ছবির কোলাজ করা হলেও, তা যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
আলো: যে দেওয়ালটি ছবি লাগানোর জন্য বেছে নিচ্ছেন সেখানে আলো আসে কি? জানলা বা দরজা দিয়ে আলো এসে পড়ে এমন দেওয়ালই ছবি দিয়ে সাজানোর জন্য বেছে নিন। প্রাকৃতিক আলো কম থাকলে প্রতিটি ছবির উপরে স্পটলাইটের ব্যবস্থা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ছবিগুলি বড় ফ্রেমে রাখলেই ভাল দেখাবে।
জবরজং নয়: দেওয়ালে জুড়ে অংসখ্য ছোট-বড় ছবি, একাধিক ছবি অনেক সময় জবরজং দেখায়। তার চেয়ে তিনটি বা পাঁচটি ছবি রেখে বাকি দেওয়াল ফাঁকা রাখলেও সুন্দর দেখায়। যে ছবিটি ব্যবহার করছেন, সেটি কী ভাবে কোথায় রাখলে ভাল লাগবে নিজেকে বুঝে নিতে হবে।
থিম: ছবিতেও থিম থাকতে পারে। কোনও দেওয়ালে সন্তানের ছোট থেকে বড় হওয়ার মুহূর্ত জায়গা পেতে পারে, আবার কোনও একটি দেওয়ালে থাকতে পারে স্বামী-স্ত্রীর আনন্দঘন মুহূর্ত। ভাবনা নিয়ে গ্যালারি তৈরি করলে তা অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক হবে।