Advertisement
E-Paper

৬০ পর্যন্ত অপেক্ষা নয়! অবসর হতে পারে পঁচিশেও, জেন জ়ি-র জন্য তৈরি হচ্ছে অবসর-আবাস

কোনও কিছুই করার নেই আর। নেই কোনও তাড়া। ঘুম ভাঙলে তবেই হবে সকাল। নিশ্চিন্ত অখণ্ড অবসর। এমন দিন দেখার জন্য ৬০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৮

ছবি : এআই সহায়তায় প্রণীত।

রাতে ঘুমোতে গেলেন, সকালে অ্যালার্ম বাজল না। ভাঙল না ঘুম। সাত সকালে উঠে স্নান-খাওয়াদাওয়ার সময় গেল পেরিয়ে। বাড়ি থেকে কর্মক্ষেত্রে রওনা হওয়ার সময়ও বয়ে গেল। চলে গেল নির্দিষ্ট সময়ের ট্রেন, বাস, মেট্রো বা অফিসের পিক আপ কার। অথচ আপনি তখনও বিছানায়, গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও এই সময়ে উঠে পড়েন। ইচ্ছেমতো চা-জলখাবার খান। তার পরে হয়তো বিছানায় গড়িয়ে ফোন হাতে ঘাঁটাঘাঁটি, একটু আরামে বসে বইপত্র পড়া বা অন্য কোনও কাজ, অন্য কোথাও যাওয়া। সে সব কিছুই হল না। যেন কোনও কিছুই করার নেই আর। নেই কোনও তাড়া। ঘুম ভাঙলে তবেই হবে সকাল। নিশ্চিন্ত অখণ্ড অবসর।

এমন দিন দেখার জন্য ৬০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। চাইলে কর্মব্যস্ত জীবন থেকে অবসর নেওয়া যেতে পারে ২৫ বছর বয়সেও। যদি মনে হয়, ওই চূড়ান্ত ব্যস্ততার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। আর পারছেন না। আর নিজেকে যেকোনও সময়ে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার ওই ভাবনাকেই উৎসাহ দিতে তৈরি হচ্ছে কমবয়সিদের জন্য অবসর আবাস। মালয়েশিয়ায় তৈরি তেমনই এক ‘জেন-জ়ি রিটায়ারমেন্ট হাউস’ এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

আট একর পাহাড়ি জমিতে তৈরি হয়েেছে ছোট ছোট কটেজ। এক একটি কটেজই নিভৃতে অবসর যাপনের ঠিকানা। কেউ বিরক্ত করার নেই। কেউ হুকুম করারও নেই। নেই কারও প্রতি দায়বদ্ধতা। চাইলে যত ক্ষণ খুশি ঘুমোনো যাবে, আকাশের দিকে তাকিয়ে বসে থাকা যাবে। বা কিচ্ছুটি না করে স্রেফ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো যাবে। এমনকি, পেট ভরানোর জন্য রান্নাবান্নার চিন্তাও করতে হবে না। যথা সময়ে খাবার পৌঁছে যাবে মুখের সামনে কোনওরকম বাড়তি কথা ছাড়াই। প্রয়োজনে মিলবে চিকিৎসা পরিষেবাও।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি ওই অবসর আবাস নিয়ে তাই আলোচনা শুরু হয়েছে ইন্টারনেটে। এ যুগে কর্পোরেট জগতের কর্মসংস্কৃতির চাপে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। এক দিকে সামাজিকতা সামলানোর চাপ আর অন্য দিকে অফিস সামলানো— সব মিলিয়ে মাঝে মধ্যেই জীবনের তাল কাটছে এ যুগের ক্রমাগত ছুটে চলা পেশাদারদের। ‘বার্নআউট’-এর মতো মানসিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যা নিয়ে বছর পাঁচেক আগেও আলোচনা করার প্রয়োজন হত না, তা দৈনন্দিন কথাবার্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চাপমুক্ত হতে খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো মানুষ ‘সাবাটিকাল’ নিচ্ছেন কর্মজীবন থেকে। আর সেই অস্থায়ী অবসরের জন্যই দরকার পড়ছে এমন ঠিকানার যে খানে পরিচিত জগতের বাইরে সম্পূর্ণ একা নিজের মতো করে থাকা যাবে।

মালয়েশিয়ার ওই অবসর আবাসটির ব্যবস্থাও সেই রকমই। একটি কুটির নিজের জন্য ১ মাসের জন্য সংরক্ষণ করতে খরচ পড়ছে ২০০০ মালয়েশিয়ান মুদ্রা। যা ভারতীয় হিসাবে প্রায় ৪৬ হাজার টাকার সমান। তবে এই অর্থে মাথার ছাদ ছাড়াও দিনে তিন বারের খাওয়াদাওয়ার জোগান মিলবে। সঙ্গে কুকুর বা বিড়ালের মতো পোষ্যও রাখতে দেওয়া হবে।

Retirement Age Retirement Plan Burn Out
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy