নেশা বড় বিষম বস্তু! তা মনের কোণে এমন এক ভাল লাগার অনুভূতি তৈরি করে, যার আকর্ষণ এড়ানো মুশকিল। তার টানে কে যে, কোথায় গিয়ে পড়বে, তা একমাত্র নেশাড়ুরাই বলতে পারে। মুশকিল হল, সে আবেগ বোঝার সমঝদার কম। সমানুভূতি মিললেও সহানুভূতি মেলে না। রাষ্ট্র তো নেশাড়ুদের খানিক বিষনজরেই দেখে। তাদের বাগে আনতে ফি বছর বাজেটে দাম বাড়িয়ে দেয় মদ, সিগারেট, পান, গুটখার। শরীরের ক্ষতির পাশাপাশি পকেটের ক্ষতি হলে যদি টনক নড়ে। এ বছরও সেই ধারা বজায় থেকেছে। তবে তার পাশাপাশি আরও কিছু ‘নেশা’র দ্রব্য দামী হতে চলেছে, যা সেই অর্থে তেমন ক্ষতিকর নয়।
১। কফি
কফি না খেলে দিন শুরু হয় না— এমন অনেককেই আশপাশে দেখতে পাবেন। আবার অনেকে এমনও আছেন, যাঁদের আড্ডা দেওয়ার জন্য হাতে কফির কাপ লাগে। কফির টানে একা ক্যাফেতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া মানুষও কম নেই। হয়তো সে জন্যই দিনে দিনে ক্যাফের সংখ্যা রেস্তরাঁকেও টেক্কা দিচ্ছে। সেরামিকের কাপে ফোম উথলে পড়া কফিতে চুমুক দেওয়ার আরাম নেশাগ্রস্ত করছে তার একান্ত ভক্তদের। আর এই নেশার জিনিসটিই দামি হতে চলেছে। সরকার ভর্তুকি তুলে নিচ্ছে বিদেশ থেকে আনানো কফি রোস্ট করা, কফি গুঁড়িয়ে তা থেকে পানীয় তৈরি করা এবং ফোম বানানোর মেশিন থেকে। ফলে এই সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলতে পারে মেশিনে বানানো কফির দামেও।
২। ক্যামেরা
ঘাড়ে ক্যামেরা নিয়ে অ্যাডভেঞ্চারে বেরিয়ে পড়লেন। কেউ তুললেন পাখির ছবি, পাখির ডাক, পাখির ভিডিয়ো, কেউ বা প্রকৃতি অথবা মানুষের দৈনন্দিন যাপনের ঝকঝকে চলচ্ছবি ধরে রাখলেন বিদেশ থেকে আনা শখের ক্যামেরার লেন্সে। এই শখ বা এই নেশার টানে কত মানুষ ছুটে চলেছেন পৃথিবীর উত্তর থেকে দক্ষিণে। এ বছরের বাজেটে সেই নেশার সঙ্গী ঝকঝকে ছবি-ভিডিয়ো তোলা বিদেশি ক্যামেরার খরচ বাড়তে চলেছে। বাড়তে চলেছে সাউন্ড রেকর্ডিংয়ের যন্ত্রের দামও। ফলে বাড়তে চলেছে চলচ্ছবির নেশাড়ুদের শখের দাম।
আরও পড়ুন:
৩। ভিডিয়ো গেম
ভিডিয়ো গেমের নেশা শুধু ছোটদের নয়। সে নেশায় বুঁদ হয়ে থাকেন প্রাপ্তবয়স্কেরাও। ২০২৫-২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের পরে সেই নেশারও দর বাড়ছে। কারণ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছেন, ভিডিয়ো গেম তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি বন্ধ করতে চলেছে সরকার।
৪। ঘড়ি
দামি ঘড়ি কেনাও এক এক জনের নেশা। অবশ্যই এ নেশার নেশাড়ুদের পকেটের চিন্তা বেশি করতে হয় না। তা বলে এমন লোক নেই, তা নয়, যাঁরা সাজের শখের নেশা মেটাতে সাধ্যের বাইরে যান না। বিদেশ থেকে আনানো দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ির নেশা তাঁদের পকেটে সামান্য ভারী হবে।