জামাইষষ্ঠী মানেই ভূরিভোজ। সকালে ফলার দিয়ে শুরু, দুপুরে মাছ, মাংস নিয়ে এলাহি কাণ্ড। ভাত ফুরোলে থাকবে আবার দই, মিষ্টি, আইসক্রিমও। এতেই শেষ নয়, জামাই রাত পর্যন্ত থাকলে সান্ধ্য খাবার, নৈশভোজ সবই জুড়ে যায়।
জামাইষষ্ঠীর এলাহি বন্দোবস্তে খাবার বাড়তি হবে না, তা কি হয়? একে রান্না করা খাবার, তার উপর পার্বণ উপলক্ষে আনা মিষ্টি এবং ফল, এত কিছু কি আদৌ ফ্রিজে আঁটবে? ভাবনায় পড়েছেন? কাজ সহজ হোক বুদ্ধিদীপ্ত কৌশলে।
১। প্রথমেই খাবারগুলি বড় পাত্র থেকে ছোট কৌটোয় ঢেলে নিন। কারণ, হাঁড়ি, বড় বাটি-সহ ফ্রিজে রাখতে লাগলে, জায়গা লাগবে অনেক বেশি। সবচেয়ে ভাল হয় যদি চৌকো কৌটো থাকে। ইদানীং খাবার রাখার এই সব কৌটো মাত্র আধ ঘণ্টায় অনলাইনে আনিয়ে ফেলা যায়।
২। কৌটোগুলিতে খাবার রেখে একটির উপর একটি সাজিয়ে নিন। বড় কৌটো নীচে, তার উপর ছোট কৌটো। থাকে থাকে সাজালে জায়গা কম লাগবে। চাইলে ফ্রিজের তাক খুলে উপর-নীচে করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে রাখার সুবিধা হবে।
৩। উৎসবে পায়েস রান্না হলে, বাড়তি পায়েস দ্রুত বায়ুনিরোধী কৌটোয় ভরে ফ্রিজে ভরে দিন। কারণ, দুধের জিনিস ভ্যাপসা গরমে নষ্ট হয়ে যায় তাড়াতাড়ি। রকমারি মিষ্টি একসঙ্গে রাখলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি। প্রথমেই দুধের মিষ্টি আলাদা করে ফেলুন। সেগুলি একটি কৌটোয় রাখুন। নরমপাকের সন্দেশ রাখুন অন্য একটি কৌটোয়। কড়াপাকের সন্দেশ বাইরেই রাখা যায়। মোটামুটি ১-২দিন তা ভাল থাকবে।
৪। ফলও কি বাড়তি? তবে কলা, লিচু, আম একসঙ্গে রাখলে ফল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ছিদ্রযুক্ত গামলায় ফল আলাদা করে রাখুন। পাতলা কাপড় বা খবরের কাগজ দিয়ে সেগুলি ঢেকে দিতে পারেন। কলা বেশি থাকলে সুতো দিয়ে দড়িতে ঝুলিয়ে দিন বা বৃন্তের অংশ কাগজ মুড়িয়ে রাখুন। এতে কলা ভাল থাকবে। পাকা আম কাগজের ঠোঙায় বা কাগজের ব্যাগে রেখে দিলেও ২-৩ দিন বেশ ভাল থাকবে।
৫। শুকনো ভাজাভুজি, পাঁপড় বেঁচে গেলে পরিষ্কার জ়িপলক ব্যাগ ব্যবহার করা যায়। যদিও তা খুব একট স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে এক-আধদিন সেটি ব্যাবহার করতে পারেন। কাঁচা সব্জিও যদি বাড়তি হয়, একসঙ্গে না রেখে আলাদা করে জ়িপলক ব্যাগে ভরে ফ্রিজে সব্জির ঝুড়িতে রাখতে পারেন।