E-Paper

আমি কে, এই প্রশ্নটা মনে হয় প্রত্যেকের ভিতরে আছে

দীর্ঘ দিন পরে কলকাতায় এলেন ঝুম্পা লাহিড়ী। তাঁর নতুন বই, জীবনবোধ, আত্মানুসন্ধানের কথা শোনালেন লেখিকা।

পায়েল সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৮
কলকাতায় ঝুম্পা লাহিড়ী। ছবি: শুভেন্দু চাকী।

কলকাতায় ঝুম্পা লাহিড়ী। ছবি: শুভেন্দু চাকী।

আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেডের অফিসে নতুন অনূদিত বই‘হদিশ’-এর ঘ্রাণ নিতে ঝুম্পা লাহিড়ী উপস্থিত হলেন যেন আলোর মতো। শোনালেন শিকড় সন্ধানের অস্বস্তি কাটিয়ে শিকড় প্রসারিত করে নিজেকে মুক্ত করার গল্প।

প্র: কলকাতায় এসে কেমন লাগছে? কতটা পরিবর্তন অনুভব করছেন এই শহরের?

উ: ভালই লাগছে, কলকাতায় সব সময়েই ভাল লাগে। কিন্তু সত্যিই অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এই শহরটা আমার বাবা-মায়ের জগৎ। এখন মা আর নেই, বাবারও বয়স হয়েছে। সব কিছুই আসলে পাল্টে যাচ্ছে। এখন আমি নিজের মতো আসি, নিজের মতো থাকি, ঘুরে বেড়াই। উত্তর কলকাতার মামার বাড়িতেই আমার বেশির ভাগ সময় কেটেছে। কলকাতায় এসে ওখানেই থাকতাম। কিন্তু এখন আর ওঁরাও কেউ নেই। সব কিছু অন্য রকম হয়ে গিয়েছে।

প্র: ইংরেজি থেকে ইটালিয়ান ভাষায় যে সাবলীল ভাবে শিফট করলেন, সে ভাবে বাংলায় লেখার কথা কিছু ভেবেছেন?

উ: প্রথমে তো শিখতে হবে ঠিক ভাবে। আমি কখনও সে ভাবে বাংলা লিখতে-পড়তে শিখিনি। বাংলা বলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে বলতে পারি কিছুটা, এটুকুই। ‘ইন আদার ওয়ার্ডস’-এ যেমন আমি বলেছি, বাংলা ও ইংরেজি দুটো ভাষার মধ্যেই আমার ছোট থেকে দোলাচল রয়েছে। সব সময়েই এটা না ওটা, কোনটা গ্রহণ করব, এ রকম একটা দ্বন্দ্ব রয়ে গিয়েছে। ছোট থেকে মনের মধ্যে সব সময়েই যেন একটা টেনশন চলত, বাংলা না ইংরেজি, আমেরিকা না ইন্ডিয়া, কোন দিকে যাব, কে খুশি হবে, কে দুঃখ পাবে! ইটালিকে আমার মনে হয়েছে নিউট্রাল প্লেস, থার্ড প্লেস। তিন নম্বরটা এই কারণেই সারা পৃথিবীতে খুব স্পেশ্যাল। দুটো হলেই ঝগড়া (হাসি)! তিন নম্বর হলে অনেক সময়ে জটিলতা আসে ঠিকই, কিন্তু একটা ভারসাম্যও আসে।

প্র: ইটালিয়ান ভাষাকে কি নিজের বলে মনে হয়?

উ: আমার কোনও নিজস্ব ভাষা নেই। এই ভাষাটা আমি নিজে শিখেছি, আজ বারো-তেরো বছর হয়ে গেল। বাংলার চেয়েও ইটালিয়ান বেশি ভাল জানি শিক্ষার কারণেই। কিন্তু এত বছর পর, এত বই লিখে, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যেটা আমি বুঝতে পারলাম, আমার নিজের কোনও ভাষা নেই। এত দিনে আমি সেটা নিজের ভিতরে কোথাও গ্রহণ করতে পেরেছি। সব সময়েই আমার-তোমার ব্যাপারটা, অর্থাৎ এটা আমার ওটা তোমার... এ ভাবেই শুনে গেলাম সারা জীবন। ছোটবেলা থেকে মাকে বলতে শুনেছি, এটা তোদের জিনিস, এটা তোদের খাবার, আমাদেরটা এ রকম, আমরা এ ভাবে চলি... এই ‘আস’ অ্যান্ড ‘দেম’ দেখে দেখে কোথাও যেন ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আজকের পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, ‘আস অ্যান্ড দেম’ কত বড় ক্ষতি করে দিচ্ছে। পৃথিবীর অবস্থা এখন খুবই খারাপ। রাজনীতি নিয়ে আমি বিশদে কিছু বলতে চাই না। কিন্তু এই আমাদের-তোমাদের ব্যাপারটা অনেক বড় বিরোধ তৈরি করে দিচ্ছে।

প্র: রাজনীতির কথার সূত্র ধরেই জিজ্ঞেস করি, আপনার ‘দ্য লোল্যান্ড’ উপন্যাসে বাংলার রাজনীতির সবচেয়ে উত্তাল সময়কে নিয়ে লিখেছেন। আজকের পারিপার্শ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এই বিশ্বব্যাপী বিক্ষুব্ধ একটা সময়ের কথা কি আসবে আপনার লেখায়?

উ: আসবে কি না এখনই সে কথা বলতে পারি না। ‘দ্য লোল্যান্ড’-এ এসেছিল, কারণ আমার বাবা-মা দু’জনের দিক থেকেই এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আমরা সে সময় এখানে ছিলামও না। মা-বাবা বাইরে বসে সব খবর শুনতেন। তখন তো টিভি-ইন্টারনেট, কিচ্ছু ছিল না। ওই টুকরো টুকরো কথা শুনে বুঝতে পারতাম। বাড়িতেও নানা আলোচনা হত, সেখান থেকে শুনতাম। আমার তো মনে হয়, শুনতে শুনতে গল্পগুলো তৈরি হয়ে যায়। ছোটবেলায় আমি সব শুনতাম, তবে বিশেষ কথা বলতাম না। সেটা খানিকটা ভাষার কারণেই। ইংরেজি বললে মা বলতেন, বাংলা বলো। আবার বন্ধুরা শুনলে বলত, এটা কী বলছ! বাংলা-ইংরেজির দ্বন্দ্ব এড়াতে আমি চুপ করে থাকতাম। এমনকি, স্কুলেও বন্ধুদের কাছ থেকে বাংলার ব্যাপারটা লুকিয়ে রাখতে হত। এখন ভাবলে খারাপ লাগে, একটা অন্য ভাষা জানতাম, কিন্তু কখনও তা সে ভাবে প্রকাশ্যে আনতে পারেনি। এই যে আমার মা-বাবা, অন্য দেশ থেকে অন্য সংস্কৃতি থেকে এসেছেন, একে গ্রহণ করে নেওয়ার মতো উদারতা সেখানকার মানুষের ছিল না। আমার খুব লজ্জা করত। নাম বলতে চাইতাম না। মনে হত এই বিশাল কলকাতা শহরটা বেঁচে আছে একটা বাড়ির ভিতর। সেখানে মা গান বাজাচ্ছেন, বাবা-মা চিঠি লিখছেন, উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছেন... এই পুরো ব্যাপারটা আমি কাউকে বোঝাতে পারতাম না। লিখতে লিখতে নিজেকে প্রকাশ করতে পারলাম। এ ভাবেই তৈরি হল ‘ইন্টারপ্রেটার অব ম্যালাডিজ়’-এর গল্পগুলো। ভাষা, সংস্কৃতির ক্রাইসিসটা আমার ভিতরে লেখা তৈরি করেছে। ভাষার এই জার্নিটা আমার নিজস্ব। কিন্তু এখন আমি ইটালিয়ান ভাষার ভিতরে যে জার্নিটা করলাম বা করছি, সেটাও পাল্টে গিয়েছে। যদি ভাবি, এখন এই তৃতীয় ভাষাটাকেই আঁকড়ে থাকব, কোনও এক দিন আবার মনে হবে এটা আমার ভাষা নয়।

প্র: এর জন্য কোথাও কি একটা ‘সেন্স অব ডিট্যাচমেন্ট’ কাজ করে?

উ: হ্যাঁ একটা পজ়িটিভ ডিট্যাচমেন্ট। যেমন আমি লিখেছি, এই লিমিটেশনগুলোই আমাদের মুক্তি দেবে। দর্শন তো আমাদের এটাই শেখায়। তাই না? নিজের জায়গা, বাড়ি, ভাষা... এগুলো নিয়েই তো আমরা এত মাথা ঘামাই। কেউ চলে গেলে তাঁর ছেলেমেয়েরা সম্পত্তির জন্য ঝগড়া শুরু করে। এ তো শুধু ভারতে নয়, পৃথিবীর সব জায়গায় হচ্ছে। কোনটা আমাদের দেশ, কী আমাদের ভাষা, প্রশ্ন তো ওঠে। মা বলতেন দ্যাখ, বাংলাদেশে ভাষার জন্য ওরা যুদ্ধ করল। একটা ভাষার জন্য যুদ্ধ করাকে মা খুবই অ্যাপ্রিশিয়েট করতেন। বুঝতে পারি যে যুদ্ধ না করলে হারিয়ে যাবে। সেটা এক দিক থেকে ইতিবাচক। কিন্তু অন্য দিক থেকে যদি ভাবি, আমেরিকায় শুধু আমেরিকানরাই থাকবে, তা হলে তো অনেক পথ বন্ধও হয়ে যায়। যদিও জানি না কী ভাবে ওরা নিজেদের আমেরিকান বলে ডিফাইন করবে। আমাকে জিজ্ঞেস করা হত, কোনটা তোর ভাষা, বাংলা না ইংরেজি, কোথায় থাকতে ভাল লাগে ইন্ডিয়া না আমেরিকা, বিয়ে কাকে করবি, ইন্ডিয়ান না আমেরিকানকে... উত্তর দিতে ভয় পেতাম। তাই পছন্দের ক্ষেত্রে আমি সব সময় থার্ডে চলে গিয়েছি। তবে বাংলার ক্ষেত্রে আমার একটা ইচ্ছা রয়েছে। আমার মা কবিতা লিখতেন। বাংলায় হাতে লেখা তাঁর কবিতা সব রাখা আছে। কারও সঙ্গে বসে সেটা পড়া আর অনুবাদ করে এক দিকে বাংলা, এক দিকে ইংরেজি— এ ভাবে কোনও ছোট বই যদি বার করা হয়। জানি না কবে, কিন্তু আশা করি... একদিন না একদিন হবে।

প্র: আপনার যে দোলাচল, এটা কি আপনার ছেলেমেয়েদের মধ্যে আছে? নাকি তুলনায় ওরা বেশি নিশ্চিন্ত?

উ: প্রত্যেক প্রজন্মের নিজস্ব কিছু ক্রাইসিস থেকেই যায়। হয়তো আমি যেগুলো নিয়ে ভাবতাম, ওরা সেগুলো নিয়ে ভাবে না। কিন্তু ওদের হয়তো অন্য রকম কিছু আছে, যা ওদের ভাবায়। ওরা জানে না, আজ থেকে ২০-৩০ বছর পরে পৃথিবী থাকবে কি না। এগুলো নিয়ে তো আবার আমাকে ভাবতে হয়নি। তা ছাড়া আমার যেমন বাঙালি বাবা-মা, কলকাতা, আত্মীয় পরিজন ছিল। ওরা দেখছে মা, বাবা, দাদু আলাদা আলাদা ভাষায় কথা বলছে। এটা ওদের জন্য ক্রাইসিস। ‘আমি কে’ এই প্রশ্নটা আমার মনে হয় পৃথিবীর সব প্রান্তে প্রত্যেকের মধ্যে আছে। গল্প, উপন্যাস বা যে কোনও ধরনের সাহিত্য এটাই মানুষকে ভাবায়। ‘আমি কে’ এই প্রশ্নটা প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই ভীষণ ইউনিক। প্রত্যেকেই নিজের মতো করে তার উত্তর খোঁজে। এটাই তো জার্নি, এটাই তো আমাদের জীবন। হয়তো আমি কে বুঝতে বুঝতেই একদিন আমরা চলে যাই।

প্র: আমি কোন দেশের নাগরিক বা কোন দেশের পাসপোর্ট আছে, এই ব্যাপারটা কি মনে কোথাও প্রভাব ফেলে?

উ: না। জন্মসূত্রে আমার কাছে ইউ কে-র পাসপোর্ট আছে, আবার আমেরিকান নাগরিক হয়ে গেলাম কিছু দিন পরে। একটা সময় পর্যন্ত মনে হত, ইটালির নাগরিক হয়ে গেলে বোধহয় সেটা আমার জন্য ভাল হবে। এখন আর সেটাও মনে হয় না। এই সব কাগজপত্রের সঙ্গে আমার কোনও আবেগ জড়িয়ে নেই। কারণ আমি জানি, এগুলো সব ওরা যে কোনও দিন ইচ্ছে করলেই কেড়ে নিতে পারে। আমার জন্য জরুরি হচ্ছে, লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে পারছি। এই যে আমি কলকাতায় এসে আপনাদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলতে পারছি, এটাই আমার ভাল লাগা। ওসিআই কার্ড করিয়ে নিতে বলেন বন্ধুরা, কিন্তু সত্যি বলতে আমার এগুলো দিয়ে কিচ্ছু এসে যায় না। তবে মামদানিকে যে দিন আমি ভোট দিলাম সিটিজ়েন হিসেবে, সেটা আমার খুব ভাল লাগল। তেমন ভাবেই যে দিন ওবামাকে ভোট দিয়েছিলাম, আমার খুব ভাল লেগেছিল।

প্র: ‘ইন্টারপ্রেটার অব ম্যালাডিজ়’ থেকে ‘হোয়্যারঅ্যাবাউটস’, এই যাত্রাপথে সাহিত্যিক ঝুম্পার আবেগ ও দর্শনে কী পরিবর্তন ঘটেছে?

উ: আমার কাজটা একই রয়ে গিয়েছে। কাজ বলতে আমার অনুভূতিকে কী ভাবে প্রকাশের ভাষা দেব, এটা পাল্টায়নি। ইচ্ছে আছে, সব সময় পরিষ্কার ভাবে লিখব, কোনও কিছু লুকিয়ে না রেখে। প্রথম লেখার ক্ষেত্রে অনেক দ্বিধা ছিল। যখন বই ছাপা হতে শুরু করল, সব কথা দ্বিধাহীন ভাবে লিখলে কে কী ভাববে, এটা নিয়ে বেশি চিন্তা করতাম। এখন মনে হয়, এই সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব অনেকটাই কাটিয়ে ফেলতে পেরেছি। এখন অনেক পরিষ্কার ভাবে সব কিছু বলে দিতে পারি।

প্র: আপনার লেখায় মহিলা চরিত্ররা খুব গভীর ও অনুভূতিপ্রবণ। পৃথিবীতে যে ধরনের জেন্ডার ডিসকোর্স চলছে, তাতে কি মেয়েদের কথা আলাদা করে বলার দরকার আছে?

উ: সব সময় বলা দরকার, শান্ত ভাবে বা চিৎকার করে। এখন এই বয়সে এসে মনে হয়, যা যা কথা বলা দরকার, সব বলতেই হবে। হাই টাইম। এখন না বললে আর কোনও দিনই বলা হবে না। লেখার দর্শনের ক্ষেত্রে এটা একটা পরিবর্তন বলতে পারেন। একটা কথা বলতে পারি এখানে, আমার মায়ের কথা খুব মনে হয়। মা তো ওই দেশে যেতে চাননি, কিন্তু বিয়ের পরে যেতেই হল। শি ওয়জ় ফোর্সড টু গো। অনেকে যখন আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কেন এলে এই দেশে? আমি বলি, আমার বাবা আসতে চেয়েছিলেন আর আমার মায়ের কাছে কোনও অপশন ছিল না। এটা নিয়ে আমি খুব ভাবি আজকাল। সত্যি আমার মায়ের বলার কোনও জায়গা ছিল না। তিনি ওই সময়ে দাঁড়িয়ে বলতে পারেননি, আমি থাকতে চাই না এখানে, এই দেশে আমার ছেলেমেয়েদের বড় করতে চাই না। তাই এখন আরও বেশি করে মনে হয় মেয়েদের কথা বলা কতটা জরুরি।

প্র: আপনি যেমন আপনার বাবা-মায়ের অনুভূতির সঙ্গে একাত্ম, আপনার ছেলেমেয়েরাও কি এতটাই যুক্ত তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে?

উ: ভালবাসাটা আছে, সেটা থেকে যাবে আশা করি। আমরা একটু অন্য ভাবে ওদের বড় করেছি জানেন! সব সময়েই বলেছি, আমরা আছি, কিন্তু তোমরা তোমাদের জীবনটা তৈরি করো। আমার বাবা-মায়েরা যেমন চাইতেন, এই কালচারে চেপে ধরে রাখতে, বারবার বলতেন, যাস না, থাক। আমি এটা বুঝতে পারি, কারণ আমাদেরও যে সেই ইচ্ছেটা হয় না, তা নয়। আমার একটা পকেটে ছেলে, একটা পকেটে মেয়ে। কিন্তু জানি যে ওদের আটকানো যাবে না। আমাদের কাজ হল ওদের এমনি করে এগিয়ে দিয়ে আকাশে উড়িয়ে দেওয়া (হাত মুঠো করে পাখিওড়ানোর ভঙ্গি)।

ঝুম্পার গভীর চোখে দূরতর দৃষ্টি। আত্ম-অন্বেষণকেই আইডেন্টিটি ক্রাইসিস বলে কি না, এই প্রশ্ন তাঁকে করা হয়নি। হয়তো সেই উত্তরই তাঁর লেখা নতুন কোনও বইয়ের ‘হদিশ’ দেবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Jhumpa Lahiri

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy