Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১২ অগস্ট ২০২২ ই-পেপার

URL Copied

লাইফস্টাইল

এক সঙ্গে দু’জনকে ভালবাসা কি সম্ভব? কী বলছেন মনোবিদরা

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ০৬ মে ২০১৯ ১৪:০৫
প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে। তা বলে সেই ফাঁদে একসঙ্গে দু’জনের সঙ্গেই জড়িয়ে পড়া! সমাজের চোখে এ বড় অনাচার। প্রেম মানেই নাকি মনের দুয়ারে এক জনই দাঁড়িয়ে। আধিপত্যও একা তার। একাধিক ব্যক্তি মনে ঠাঁই পেলেই সামাজের চোখরাঙানি, হাজারো জবাবদিহি, চরিত্র নিয়ে কাটাছেঁড়া। কিন্তু সত্যিই কি এটা অন্যায়?

দেশ-বিদশের নানা সমীক্ষা বলছে, বেশির ভাগ মানুষের মনেই ঘাপটি মেরে থাকে অন্য আর একজনের প্রতি টান। সেই টানে কেউ কেউ সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ান, কেউ বা সমাজের ভয়ে ঢোঁক গেলেন ওখানেই। কিন্তু কেন এমন হয়? কী বলছে বিজ্ঞান?
Advertisement
মনোবিজ্ঞানের মতে, প্রত্যেকটি মানুষই বিভিন্ন পৃথক বৈশিষ্ট্যযুক্ত হন। এক জন মানুষের মধ্যে সবটুকু পছন্দের বৈশিষ্ট্য যে মিলবেই, এমন নয়। তাই ভাল লাগার কোনও গুণ বা স্বভাব থেকে প্রেম বা ভালবাসার অনুভূতি দু’জনের প্রতিই জন্মাতে পারে। পিটুইটারি গ্রন্থি ও ফিল গুড হরমোনরাই এর জন্য দায়ী।

এ প্রসঙ্গে মনোবিদ অনুত্তমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ‘‘জন্মের শুরু থেকেই এক সঙ্গে দু’জনকে অর্থাৎ মা-বাবাকে ভালবাসে মানুষ। কাজেই একসঙ্গে দু’জনকে ভালবাসার ক্ষমতা তার জন্মগত। কিন্তু যখনই সম্পর্ক বা দাম্পত্যের কথা আসে, তখনই আমরা সতর্ক হয়ে যাই।’’ কেন যাই জানেন?
Advertisement
মনোবিদের মতে, ‘‘আসলে সমাজ এই সব সম্পর্ককে বাঁধে সামাজিক ও আর্থিক সুবিধা বুঝে। এই সব জটিলতা এড়াতেই সে নিজস্ব কিছু নিয়ম চালু করে ও সেখানে যৌনতাকেও জুড়ে দেয়। তবে মনে রাখা দরকার, সম্পর্ক কিন্তু মোটেও শরীরসর্বস্ব নয়। শরীরে এক জনের হয়ে মনে মনে দু’জনের হয়ে থাকাও যা, মন ও শরীর উভয়েই দু’জনের হয়ে থাকায় কোনও ফারাক নেই।’’

তাঁর মতে, ‘‘কেউ দু’জনকেই ভালবাসি বললে, তাকে ‘মিথ্যে’ বলে ধরে নেওয়ার প্রবণতা আমাদের রয়েছে। বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে সেখানে। কিন্তু অনেকেই দায়-দায়িত্ব দু’জনের ক্ষেত্রেই পালন করেন। এখানে অবশ্যই সঙ্গের মানুষদের অভিমান বা কষ্টের বিষয়টি আলাদা প্রসঙ্গ। কিন্তু কেউ দু’জনকে ভালবাসার দাবি করলে তা মিথ্যে নয়।’’

এই জটিলতার অন্যতম কারণ আমাদের সমাজ এখনও ভালবাসা ও যৌনতাকে পৃথক ভাবার মতো সাবলীল হতে পারেনি। তাই দু’জনকে ভালবাসার কথায় আঁতকে ওঠে। প্রতিটি ভালবাসাতেই যে যৌনতা থাকবে, তার কোনও মানে নেই। আবার ভালবাসাহীন যৌনতার সম্পর্কও হতে পারে। আবার স্রেফ যৌন ইচ্ছে পূরণের জন্য ভালবাসা তৈরি করতে গিয়েই সমস্যার সুত্রপাত করেন অনেকে।

তবে ভালবাসার মধ্যেও রকমফের হয়। কোনওটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, কোনওটা কিছুদূর হেঁটেই পথ বদলায়। তাই বুঝে নেওয়া দরকার, কোনটা ক্ষণিকের ভাললাগা আর কোনটা টিকে থাকার মতো অনুভূতি। তবে দুই সঙ্গীকেই দু’টি সম্পর্কে থাকার কথা জানানোর বুকের পাটা পান না অশান্তি আর সমাজের ভয়েই।তাই বেছে নিতে হয় একজনকে। তৈরি হয় জটিলতা।

বিভিন্ন মাপকাঠিতে মাপতে গেলে সমস্যা যেন আরওই বেড়ে যায়। এক জনের সঙ্গে গল্পে মশগুল থাকা আপনার পছন্দের, তো আর একজনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত। এমন পর্যায়ও তৈরি হতেই পারে।

কিছু ভালবাসা হয় ঘরের মতো, যেখানে নিজের মতো করে শ্বাস নেওয়া যায়, মুক্তির স্বাদ আসে। আবার কিছু ভালবাসা হয় সপ্তাহান্তে একবার দেখা পাওয়ার উল্লাসের মতো। আপনার প্রায়োরিটি লিস্টে কোনটা এগিয়ে, এবার সেটা আপনাকেই বিচার করতে হবে। কারণ দিনের শেষে প্রয়োজন মেটানোর হাত এগিয়ে এলে সেটাকে আগলে নিলে জটিলতা এড়ানো যায় বলেই মনোবিদদের মত।

অতএব মনোবিদদের মতে, সঙ্গী থাকা সত্ত্বেও অন্য একজনকে মনে ঠাঁই দিলে আত্মদংশনে ভোগার কারণ নেই। কোনও সম্পর্কে কোনও প্রতিযোগিতা থাকে না। দায়-দায়িত্বে অবহেলা না করে, নিজের অবস্থান ও সাহস বুঝে তবেই এগোন। অন্তত সমাজ ও নিজের অনুভব, এই অসম লড়াই লড়তে পারার মতো শক্তি আছে কি না ভেবেই এগোন, তবে মনে রাখবেন একসঙ্গে দু’জনকে ভালবাসায় কোনও অন্যায় নেই।