টানটান, উজ্জ্বল ত্বক কে না পছন্দ করে! কিন্তু দূষণ, মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন— সব মিলিয়ে এখন ক্রমেই ত্বক জেল্লা হারায়। কৈশোর থেকে যেন নাজেহাল করে দেয় ব্রণ, ত্বকের শুষ্কতা কিংবা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বলিরেখা। রূপচর্চা বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, যদি ঠিক সেরাম ব্যবহার করা যায়, তা হলে ত্বকের জেল্লা ফেরানো সম্ভব। কিন্তু কী ভাবে বাছবেন আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত সেরাম?
রেটিনল সেরাম
রেটিনল আদতে ভিটামিন এ-র এক সক্রিয় রূপ। ত্বকের কোষ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এই উপাদান। এর ব্যবহারে মৃতকোষ উঠে যায়, নতুন কোষ তৈরি হয়। ব্রণর সমস্যা থাকলে, ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে রেটিনল। ফলে ত্বক দেখায় আরও মসৃণ, উজ্জ্বল। রূপচর্চা বিশেষজ্ঞ মৌসুমি মিত্র বলছেন, “২০-২৫ বছর বয়স থেকেই রেটিনল সেরাম ব্যবহার করা যায়। এই সেরাম ব্যবহার শুরু করার সময়ে খেয়াল রাখবেন, তাতে রেটিনলের মাত্রা যেন খুব বেশি না থাকে। ক্রমে ১ শতাংশ পর্যন্ত তা বাড়ানো যায়। কোলাজেন, হায়ালুরনিক কিংবা নায়াসিনামাইড সেরামের সঙ্গে মিলিয়ে এটি ব্যবহার করা যায়।
রেটিনল সেরাম ব্যবহার করার আগে বেশ কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলছেন মৌসুমি। তাঁর মতে, এই সেরাম যদি ত্বকের ধরনের জন্য উপযুক্ত না হয়, তা হলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এই সেরাম ব্যবহারে ব্রণ বাড়তে পারে। জেনে নেওয়া জরুরি, ত্বকের জন্য রেটিনল, রেটিন্যাল না রেটিনয়েড, কোনটা সবচেয়ে ভাল। দিনের বেলায় এই সেরাম ব্যবহার করা উচিত নয়।
হায়ালুরনিক অ্যাসিড সেরাম
ত্বকের আর্দ্র ভাব ধরে রাখতে এই সেরামের জুড়ি মেলা ভার। মৌসুমি জানাচ্ছেন, যে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এক দিন অন্তর এই সেরাম ব্যবহার করতে পারেন। সব ধরনের ত্বকেই এটি কার্যকর। বাজারে নানা ধরনের হায়ালুরনিক সেরাম পাওয়া যায়। ত্বকের জন্য সবচেয়ে ভাল হাইড্রোলাইজ়ড হায়ালুরনিক অ্যাসিড ও সোডিয়াম হায়লুরনেট। এই সেরাম সব সময়ে ভিজে ত্বকের উপরে ব্যবহার করবেন।
কোলাজেন সেরাম
ত্বকের জন্য জরুরি প্রোটিন হল কোলাজেন। শরীরে পর্যাপ্ত মাত্রায় কোলাজেন থাকলে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে না। ভাল থাকে দাঁত, চুল, নখ, টেন্ডনও। তবে ২৫-এর পর আমাদের শরীর থেকে কোলাজেন কমতে থাকে। প্রথম দিকে সে ভাবে বোঝা না গেলেও সময় থাকতে যদি যত্ন শুরু না করা হয়, তা হলে ত্বক কুঁচকে যাওয়া থেকে মুখে-চোখে ক্লান্তির ছাপ কিংবা আর একটু বয়স বাড়তেই অজস্র বলিরেখা পড়তে শুরু করে। দিনে দু’বার ভিজে ত্বকে লাগিয়ে নেওয়া যায় এটি। সঙ্গে ভিটামিন সি সেরামও ব্যবহার করা যায়। তবে মৌসুমি জানাচ্ছেন, কোলাজেন সেরামের মলিকিউল এতটাই বড় হয় যে ত্বকের গভীরে ঢুকে কাজ করতে পারে না সহজে। তাই এই ধরনের প্রডাক্ট লাগানোর চেয়ে ঠিক খাদ্যাভ্যাস ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে বেশি সহায়ক।
— প্রতীকী চিত্র।
পেপটাইড সেরাম
ত্বকের গুণমান ধরে রাখতে, কোলাজেনের উৎপাদনের মাত্রা বাড়াতে ভীষণ ভাবে কার্যকর পেপটাইড। এক ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড এটি। যেহেতু এটি কোলাজেন উৎপাদনের মাত্রা বাড়ায়, তাই ত্বক আরও মসৃণ হয়। কমায় বলিরেখাও। কপার পেপটাইড সেরাম সবচেয়ে বেশি কার্যকর। দিনে দু’বার ক্লেনজ়িং, টোনিংয়ের পরে ব্যবহার করা যায় এই সেরাম।
মনে রাখা জরুরি
সেরাম ব্যবহারের আদর্শ পরিমাণ হল চার ফোঁটা। অতিরিক্ত সেরাম ব্যবহার করলে কোনও লাভ হয় না।
যে কোনও সেরাম ব্যবহারের পরেই ময়শ্চারাইজ়ার লাগাতে হবে। না হলে ত্বকের আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে উপকারী সেরামাইড-যুক্ত ময়শ্চারাইজ়ার।
সেরাম ব্যবহার করলে রোদে বেরোলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। না হলে ত্বকে ট্যান পড়বে। সেরামের কার্যকারিতাও নষ্ট হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)