মাত্র একটা গিঁট! আর তা দিয়েই ভোল পাল্টে দেওয়া যায় যে কোনও পোশাকের। তবে এই গিঁটেরও কিন্তু রকমফের আছে। শাড়ি থেকে শুরু করে ব্লাউজ়ে, টপে, ড্রেসে... সব ধরনের পোশাকেই বিভিন্ন রকমের নট বেঁধে ফেলতে পারেন। 

 

ব্লাউজ়ে: সাধারণত ব্লাউজ়ের পিঠে বিভিন্ন রকমের নট বাঁধা হয়। কিন্তু শুধু পিঠে না বেঁধে ব্লাউজ়ের হাতায় বা কাঁধে এই নট স্টাইল আনতে পারেন। হাতার ঠিক নীচের দিকে ফিতের মতো কাপড়ের ঝুল বাড়িয়ে ব্লাউজ় বানান। তা হলে সেই ফিতে দিয়েই নট বেঁধে নিতে পারবেন।

স্লিভলেস ব্লাউজ়ে যে দিকের কাঁধটা খোলা থাকবে, সে দিকে ব্লাউজ়ের কাঁধ সেলাই না করে বরং নট বেঁধে নিন। তা হলে কিন্তু বেশ অন্য রকম দেখাবে।

 

শাড়িতে: সবচেয়ে বেশি এক্সপেরিমেন্ট করা যায় শাড়ি দিয়ে। শাড়ির আঁচলে কাঁধের কাছে নট বেঁধে নিতে পারেন। ওড়নাতেও একই কারসাজি করা যায়। এতে আলাদা করে সেফটি পিনও লাগাতে হবে না শাড়িতে। আবার শাড়ি ঠিক জায়গায় ধরাও থাকবে।

 

টপ, শার্ট বা টি-শার্টে: শার্ট হলে বেশ সুবিধে। নীচের দু’টি বোতাম খুলে নীচের দু’দিকের কাপড় দিয়ে গিঁট বেঁধে নিতে পারেন। অন্য দিকে টি-শার্ট বা টপের নীচে রাউন্ড নট বেঁধে নিতে পারেন।

 

গিঁটের বাহার

স্কার্ফ নট: এই গিঁটও অনেক ধরনের হয়। গলার এক পাশে ছোট স্কার্ফ একটি গিঁট দিয়ে অ্যাসকট নট ও দু’টি গিঁটে ডাব্‌ল নট বেঁধে নিতে পারেন। স্কার্ফের নট বেঁধে তা স্কার্ফের ঝুলের নীচে ঢুকিয়ে দিলেই হয়ে যাবে হিডন নট। স্কার্ফকে লম্বায় দু’ভাঁজ করলে যে লুপ তৈরি হয়, তার মধ্য দিয়ে স্কার্ফের একটি অংশ ঢুকিয়ে দিয়ে লুপ অ্যান্ড থ্রু নট বেঁধে ফেলতেও পারেন।

 

রাউন্ড নট: টপ বা টি-শার্টের নীচের অংশের কাপড় লম্বায় টেনে লুপ বানিয়ে তার মধ্য দিয়ে এক বার কাপড়টা ঢুকিয়ে নিলে পেয়ে যাবেন রাউন্ড নট। ওড়না বা শাড়ির আঁচলে একটি লুপ তৈরি করে তার মধ্য দিয়ে তিন বার কাপড় ঢুকিয়ে বার করে নিলে পেয়ে যাবেন ফ্লোরাল নট। তার পরে গিঁটের কাপড়গুলো একটু লুজ় করে দিন। ফুলের পাপড়ির মতো ফুলে থাকবে।

 

টাই নট: টাইয়ে যে ভাবে নট বাঁধা হয়, ঠিক সে ভাবেই নট বাঁধতে পারেন ওড়না দিয়ে বা পোশাকের বেল্টে। বেল্টের দুই প্রান্ত দিয়ে বো তৈরি করে বো নট বাঁধা যেতে পারে। এ ছাড়াও টাই বাঁধার মতো ট্রিনিটি নট, কেলভিন নট, প্র্যাট নট বেঁধে নিতে পারেন স্কার্ফ বা ওড়না দিয়ে। 

 

গিঁটের সুবিধে

• পোশাক, শাড়ি বা ওড়না পাটপাট করে ইস্ত্রি করা না থাকলেও একটি গিঁটেই সেই সমস্যা চাপা পড়বে।

• পোশাকের কোনও অংশে রং লেগে গেলে বা হালকা ছিঁড়ে গেলে সেখানেও গিঁট বেঁধে নিতে পারেন।

• শরীরের তুলনায় একটু বড় পোশাকও গিঁট দিয়ে শরীরের মাপ মতো করে নেওয়া যেতে পারে খুব সহজেই।

একই পোশাকে এক বা একাধিক গিঁট বেঁধে তাকে নতুন লুক দিতে পারেন। তা হলে এই গিঁটই কিন্তু আপনার ফ্যাশন কার্ডের নাম্বার বাড়াবে।

মডেল: সৌরসেনী, মঞ্জুরী