বিয়ে তো হল। প্রেমে গদগদ হয়ে এক হল চার হাত। কিন্তু তার পর? সেই বিয়েকে সামলে রাখার জন্য সামনে তো দীর্ঘ পথ। সেই পথ বেশ কণ্টকাকীর্ণও। সেখানে প্রতি মুহূর্তে সমঝে পা ফেলতে হয়। কাঁটা বিঁধলেও মুখ বুজে থাকতে হয় শান্তি বজায় রাখতে। বলিউডের অভিনেতা জয়দীপ আহলওয়াত জানালেন দাম্পত্য জীবনকে ভাল রাখার জন্য তিনি কোন পন্থা অবলম্বন করেন।
জয়দীপের বিয়েও হয়েছিল দীর্ঘ প্রেমপর্বের পরেই। ফিল্ম ইনস্টিটিউটে পড়তে গিয়ে জ্যোতি হুডার সঙ্গে আলাপ, তার পরে মন দেওয়া নেওয়া এবং বহু বছর সম্পর্কে থাকার পরে বিয়ে। জ্যোতি নিজে ফিল্ম জগতের সঙ্গে যুক্ত। তবে জয়দীপ তারকা হওয়ায় তাঁর ব্যস্ততা থাকে বেশি। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, দাম্পত্য জীবনে শন্তি বজায় রাখতে তিনি কী করেন? জয়দীপের সটান উত্তর—“বিয়ের পর একটা জিনিস সব সময় স্বামীরই হয়, আর সেটা হল ভুল!” অর্থাৎ জয়দীপের মতে, সংসারে শান্তি বজায় রাখতে গেলে কোনও তর্ক না বাড়িয়ে চটজলদি ক্ষমা চেয়ে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয়েছিল, তবে কি তিনি ‘হ্যাপি ওয়াইফ হ্যাপি লাইফ’ (স্ত্রী খুশি থাকলেই সুখী জীবন নিশ্চিত) দর্শনে বিশ্বাসী। এর জবাব দিতেও দেরি করেননি জয়দীপ। তিনি বলেছেন, "জীবন যদি সুখে কাটাতে হয় তবে স্ত্রীর কথা মেনে চলাই ভাল, নয়তো কপালে দুঃখ বা পিটুনি জুটতে পারে।"
বাংলার এক পুরনো প্রবাদ বলছে, ‘কথায় কথা বাড়ে’। কোনও সমস্যার সমাধানে যুক্তি, প্রমাণ, সাক্ষ্য পেশ করে কে ভুল কে ঠিক, নিরূপণ করতে গেলে পাল্টা যুক্তি, পাল্টা প্রমাণে তর্ক বাড়ে। দেখা যাচ্ছে, অভিনেতা সেই নীতিতেই চলেন।
অবশ্য দাম্পত্য ভাল রাখার জয়দীপের ওই দর্শনে সকলে আস্থা না-ও রাখতে পারেন। দু'জনের সম্পর্কে যদি কোনও এক জন ক্রমাগত সমস্যার দায় নিতে থাকেন, তবে সেই দ্বিতীয় জন ভারাক্রান্ত বোধ করতে পারেন। তাতে সম্পর্ক ভাল হওয়ার বদলে খারাপও হতে পারে।