দৌরাত্ম্য করে বেড়াতে ক্লান্তি নেই, কিন্তু জল খাওয়ার নাম নেই। বাড়িতে বিড়াল, কুকুর থাকা মানে, তাদেরও মনুষ্য সন্তানের মতোই যত্ন করতে হয়। তাদের আদর-আবদার যেমন বুঝতে হয়, তেমনই কোনটি কখন খাওয়া প্রয়োজন সেই দিকেও খেয়াল রাখতে হয়।
গরমে যেমন ঘামের ফলে মানবদেহে জলের ঘাটতি হতে পারে, তেমনই হতে পারে পোষ্যেরও। অনেক বিড়াল আছে যারা সারা দিনে জল প্রায় ছুঁয়েই দেখে না। কিন্তু পর্যাপ্ত জল না খেলে, তাদেরও ক্ষতি হতে পারে। কুকুর হোক বা বিড়াল— গরমের দিনে তাদের জল খাওয়াবেন কী করে।
জলের ফোয়ারা: বাড়িতে বিড়াল থাকলে তাদের জল খাওয়ানোর জন্য ফোয়ারা কিনতে পারেন। এটি অনেকটা কলের মতোই। সহজেই অনলাইনে মেলে। বিড়াল অনেক সময় জল দিলে খেতে চায় না। এ ক্ষেত্রে যে হেতু কল থেকে জল পড়ছে বলে মনে হয়, তাই তারা জল খেতে উৎসাহী হতে পারে।
স্টক বা ব্রোথ: বিড়াল হোক বা কুকুর যদি শুকনো খাবার খেতে অভ্যস্ত হয়ে থাকে তাহলে তার মধ্যে একটু জল ঢেলে দিন। অথবা যোগ করতে পারেন মুরগির হাড় সেদ্ধ করা জল। তবে তাতে নুন-হলুদ দেওয়া যাবে না। হাড়ের ব্রোথ উপাদেয় এবং স্বাস্থ্যের জন্যও ভাল।
নানা জায়গায় জল রাখুন: গরমে খাওয়ার জল তেতে গেলে পোষ্যেরা তা খেতে চায় না। তা ছাড়া, অনেক সময়ে আলস্যের কারণে দূরে গিয়ে জল খেতে চায় না। ফলে পোষ্য যে জায়গাগুলিতে ঘোরাফেরা করে বা শুয়ে থাকে সেখানে পানীয় জল রাখুন। চোখের সামনে জল থাকলে সে খেয়ে নিতে পারে।
স্ট্যু: শুধুই পশুখাদ্য না রেখে গরমের দিনে সব্জি মিষ্টি আলু, কুমড়ো, গাজর দিয়ে মাছের ঝোল করে দিতে পারেন বা মুরগির মাংস এবং সব্জি সেদ্ধ করে দিতে পারেন। তেল, নুন-হলুদ ছাড়াই সেটা করতে হবে। ভাত বা রুটির সঙ্গে তরল খাবার মেখে দিলেও পোষ্যের শরীরে জল যাবে। সে জল কম খেলেও তরল খাবার ঘাটতি পূরণ করবে।
বরফ: জল খেতে না চাইলে মাঝেমধ্যে বরফ খেতে দিতে পারেন। এতেও তাদের শরীরে জল যাবে।
পোষ্য জলশূন্যতায় ভুগছে কোন লক্ষণে বুঝবেন
জিভ-মাড়ি শুকিয়ে যাবে। ঝিমিয়ে পড়বে। স্বাভাবিক আচরণে তফাত আসবে। লোমের মসৃণতাও কমতে পারে। সমস্যা বেশি হলে অবিলম্বে পোষ্যদের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।