জরুরি কাজ করছেন, ঠিক সেই সময় আচমকা এসে কিবোর্ডে বসে পড়ল আদরের পোষ্য বিড়াল। তার পরেই হয়তো জুলজুল করে তাকাল আপনার দিকে। জরুরি কাজ পণ্ড হওয়ায় রেগে যে চোখ রাঙাবেন, তা-ও সম্ভব নয়। এমন মিষ্টি করে মুখের দিকে তাকিয়ে সে ম্যাঁও করবে, রাগ গলে জল হয়ে যাবে।
মিল পাচ্ছেন কি বাড়ির পোষ্য বিড়ালটির সঙ্গে? ভাবছেন, কিবোর্ড সে না বুঝেই বসেছে? এ নিছক দুষ্টুমি! মোটেই তা নয়। বিড়ালের এমন আচরণের নেপথ্যে লুকিয়ে থাকে আধিপত্য প্রকাশের ভাবনা। পশুমনস্তত্ত্ব নিয়ে কর্মরত আমেরিকান পশুরোগ চিকিৎসক ডেভিড স্যান্ডস বলছেন, ‘‘কিবোর্ডে লেগে থাকে মানুষের গায়ের গন্ধ। বিড়াল যাকে পছন্দ করে সেই মানুষটির গন্ধের টানেই সে সেখানে আসে। আবার অনেক সময় কাজ করতে করতে হালকা গরম হয়ে যাওয়া কিবোর্ডের উপর বসে আরাম পায় পোষ্য। শুধু সে অভিভাবকের গন্ধ পেতে নয়, সেই গন্ধের উপর নিজের গায়ের গন্ধটিও জুড়ে দিতে আসে।’’ এ হল আসলে মার্জারের ভালবাসার প্রকাশ।
বিড়ালের আচরণ নিয়ে অন্য কিছু গবেষণা জানাচ্ছে, এই ভাবে পোষ্য মার্জার তার মনিব বা প্রিয় মানুষটির মনোযোগ আকর্ষণেরও চেষ্টা করে। কাজে ডুবে থাকার ফলে, মার্জারের প্রতি মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। সেটা লক্ষ করেও অনেক সময় বিড়াল এমন কাজ করতে পারে।
পোষ্যেরা যে বাড়িতে থাকে, সেই বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে মানসিক ভাবে যুক্ত হয়ে যায়। তার মধ্যেও কেউ কেউ বিশেষ প্রিয় হয়ে ওঠে।
কেউ যখন একমনে ল্যাপটপের দিকে কাজ করে তখন তার দৃষ্টি সেই দিকে স্থির থাকে। প্রিয় মানুষটিকে এমন ভাবে লক্ষ করলে বিড়ালও ভাবে সেখানে কিছু কৌতহূলদ্দীপক আছে। তা ছাড়া মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা থাকে। পশুরোগ চিকিৎসকেরা বলছেন, মনোযোগ পাওয়ার জন্য অভিভাবকের খবরের কাগজ মুখ দিয়ে টেনে নেয় সারমেয়। অনেক সময় কাগজের উপর বসেও পড়ে।