ধরুন কোনও ক্যাফেতে বসে আপনি স্যান্ডউইচ অর্ডার করলেন, তবে খাবার যখন টেবিলে এল, তখন দেখা গেল বার্গার! এমনটা হলে নিশ্চয়ই খুব রেগে যাবেন? ভুলের জন্য ক্যাফের কর্তাদের নিজের অসন্তোষের কথা জানাবেন? তবে এমন একটি ক্যাফে আছে, যেখানে গেলে সব সময়ে ভুল খাবারই আসবে টেবিলে। আর মজার কথা হল, সব কথা জেনেও সেই ক্যাফেতে ভিড় জমান মানুষ।
জাপানের টোকিয়োতে এক ছোট্ট ক্যাফে রয়েছে, যার নাম ‘অরেঞ্জ ডে’। কাজের জায়গায় ভুল করলে সেই ভুলের মাসুল দিতে হয়। তবে টোকিয়োর ওই ক্যাফেতে কিন্তু কর্মীদের ভুল করার স্বাধীনতা রয়েছে। তার উপর, কর্মীদের সেই ভুলের জন্য গ্রাহকেরাও কোনও অভিযোগ জানাতে পারবেন না। বরং ভুল খাবার টেবিলে নিয়ে এলে তার জন্য উৎসাহিত করা হয় কর্মীদের। ভাবছেন তো, কেন এত উদারতা দেখান গ্রাহকেরা?
আসলে ওই রেস্তরাঁয় কর্মরত সব কর্মচারীই ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। এই রোগে আক্রান্ত হলে স্মৃতিশক্তি কমে যায়, ভাবনাচিন্তা করার ক্ষমতা কমে যায়, যুক্তি দিয়ে বিচার করার ক্ষমতাও কমতে শুরু করে। সাধারণত বয়স বাড়লে অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হন। ক্যাফেটি ডিমেনশিয়া রোগটির বিষয়ে সচেতনতা আনতে বিভিন্ন রকম কর্মসূচির আয়োজন করে। ক্যাফের কর্মীরা টেবিলের নম্বরও মনে রাখতে পারেন না, তাই টেবিল বোঝানোর জন্য টেবিলে রাখা থাকে রঙিন ফুল।
ডিমেনশিয়ার রোগীদের সমাজে খুবই অবহেলার চোখে দেখা হয়। অথচ তাঁদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করলে, তাঁদের হাসিখুশি রাখলে তাঁদের মানসিক পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ডিমেনশিয়ার রোগীরা কাজ করতে পারেন না, তাঁদের উপর ভরসা রাখা যায় না— এই ধারণাকেই ভুল প্রমাণ করতে ডিমেনশিয়ার রোগীদের দিয়েই ক্যাফেটি চালাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। সেই রেস্তরাঁর গ্রাহকদের মতে, এখানকার সব খাবারই সুস্বাদু। সুতরাং যা আপনি অর্ডার করছেন, তার বদলে অন্য কিছু আপনার টেবিলে এসে পৌঁছোলেও আপনার আক্ষেপ হবে না।