Advertisement
E-Paper

বাইরের ভাজাভুজিই কি শুধু ‘খলনায়ক’? বদহজমের কারণ হতে পারে ঘরের স্বাস্থ্যকর খাবারও

- সকালে উঠে ওট্‌স,দুপুরে মিলেট, রাতে প্রোটিন স্যালাড, খাচ্ছেন টকদইও। সবই স্বাস্থ্যকর, তবু পেটের সমস্যা হচ্ছে মাঝেমধ্যেই? পুষ্টিকর খাবার খেয়েও এমন সমস্যা কেন হয়?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ১৩:৪২
স্বাস্থ্যকর খেয়েও পেট গন্ডগোলের কারণ কী?

স্বাস্থ্যকর খেয়েও পেট গন্ডগোলের কারণ কী? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

ভাজাভুজি, অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত জাঙ্ক ফুড যে শরীরের পক্ষে ভাল নয়, কে না জানেন! কিন্তু ঘরের স্বাস্থ্যকর খাবার কি সব সময় ভাল? বাইরের খাবার না খেয়েও কিন্তু অম্বল-গ্যাস, বদহজম হয় অনেকের। খাবার খান পুষ্টিগুণ জেনে, ভাজাভুজির ধারপাশ দিয়েও যান না। তবু পেটের সমস্যার কারণ কী?

পুষ্টিবিদেরা মনে করাচ্ছেন, পুষ্টিকর খাবার মানেই তা যে পেটের গন্ডগোলের নেপথ্য কারণ হতে পারে না, এমনটা ভাবা ভুল। ফাইবার, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট— শরীরে প্রয়োজন সবটাই। কিন্তু পুষ্টির দিকে নজর দিতে গিয়ে খাদাভ্যাস আমূল বদলে ফেললে বা খাওয়ার নিয়মে ভুল থাকলেই বিপদটি ঘটবে।

কেমন হতে পারে সেই ভুল?

স্যালাডের বিপদ!

ধরা যাক, চিকেন কিংবা ডিম দিয়ে তৈরি স্যালাড। প্রচুর শাকসব্জি, বীজ, বাদাম, মুরগির মাংস বা ডিম দিয়ে স্যালাড বানালেন। প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ, ফ্যাটের সামঞ্জস্যও বজায় রইল। কিন্তু তা কখন খাবেন? স্যালাড দুপুরে যেমন খাওয়া যায়, রাতেও খান অনেকেই। সমস্যা হতে পারে সেখানেই। বেশি রাত করে প্রচুর পরিমাণে স্যালাড খেলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য বিগড়ে যেতে পারে। অনেকে ভাত-রুটি ছেড়ে দিয়ে ওজন কমাতে শুধুই এমন স্যালাড খান দিনে ২-৩ বার। কতটা খাওয়া চলে, কতটা নয়, সে মাত্রা বুঝতে না পারলে কিন্তু ঝক্কির শেষ থাকবে না।

পুষ্টিবিদেরা বলছেন, কাঁচা স্যালাড উপকারী হলেও হজম করা একটু কঠিন। ফলে রাতে স্যালাড খেতে হলে কাঁচার বদলে ভাপিয়ে নেওয়া সব্জি খাওয়া যেতে পারে। বেশি রাতে সে সব না খেয়ে বা স্যালাডে মেয়োনিজ়, অলিভ অয়েল প্রচুর পরিমাণে না ঢেলে তা খেতে হবে। সন্ধের দিকেই নৈশাহার সেরে নেওয়া ভাল।

ভাত-ডাল-রুটি

ভাত-ডাল, রুটি-তরকারি এই সব ঘরোয়া খাবার। কিন্তু তা থেকেও কি কখনও কখনও পেট ভার হয় না? ডাল নিয়ে সমস্যার মূল থাকে তা না ভিজিয়ে খাওয়া। ডালের মধ্যে থাকে ফাইটিক অ্যাসিড, ট্যানিন জাতীয় উপাদান। শরীরের জন্য উপকারী আয়রন, জ়িঙ্ক, ক্যালশিয়াম শোষণে বাধা দেয় এই উপাদানগুলি। এদের বলে অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টস। ডাল ভিজিয়ে রাখলে অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টস বাদ যায়। ডালে থাকে অলিগোস্যাকারাইড। এটি এক ধরনের শর্করা। এর জন্য হজমে সমস্যা হয়। পেট ফোলার মতো উপসর্গ দেখা দেয় অনেক সময়। ডাল ভিজিয়ে রাখলে, শরীরের পক্ষে ডালের পুষ্টিগুণ শোষণ করা সহজ হয়ে যায়, একই সঙ্গে হজম না হওয়ার সমস্যাও কমে। রাজমা, তড়কার সবুজ মুগ, মুসুর, যে কোনও ডালই রান্নার আগে ভিজিয়ে রাখা দরকার।

টক দই

দই খেলে পেটে উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। খাবার হজম করা সহজ হয়। নিয়ম করে দই খেতেও বলেন পুষ্টিবিদেরা। কিন্তু সব সময় কি দই খাওয়া চলে? পেটখারাপ, হজম হচ্ছে না, অম্বল হয়ে যায়, এমন পরিস্থিতিতে কিন্তু দই খেলে হিতে-বিপরীত হবে। বরং পেট ঠিক হলে নিয়ম মতো দই খাওয়া দরকার।

পুষ্টিবিদেরা মনে করাচ্ছেন, ওট্স থেকে জোয়ার, বাজরা, রাগি নিয়মিত খাওয়ার যে রেওয়াজ দেখা দিয়েছে তা-ও ঠিক নয়। খাওয়ার পদ্ধতি বা পরিমাণ না বুঝলে স্বাস্থ্যকর খাবারেই পেট বিগড়ে যেতে পারে। উল্টে হতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য। মিলেটের মতো শস্য নিয়মিত না খেয়ে এক দিন বা দু’দিন অন্তর পরিমিত পরিমাণে খেতে বলছেন পুষ্টিবিদেরা। নিয়ম করে খেলে তার মাত্রা ঠিক রাখা জরুরি।

Gut Health Healthy Foods
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy