বৃষ্টির জমা জল নামতেই আন্ত্রিক ছড়িয়েছে হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি এলাকায়। বমি-পায়খানার উপসর্গ নিয়ে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কিছু শিশু-সহ অন্তত ৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ১৭ জনকে। হাসপাতালের সুপার সুভাষ মণ্ডল জানিয়েছেন, চিকিৎসার পরে সুস্থ হয়ে অনেকেই বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। পর্যবেক্ষণের জন্য ১৭ জনকে ভর্তি রাখা হয়েছে। তাঁরাও প্রায় সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। তবে, তাঁরা কী কারণে আক্রান্ত হলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। পরীক্ষার জন্য আক্রান্ত এলাকার জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুরপ্রধান গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায়।
পুরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি অতি বর্ষণের জেরে ২ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজি নগর, সারদা পল্লি, খাঁ পুকুর, সংহতি পল্লি প্রভৃতি এলাকায় জল জমে যায়। সেই জল ইতিমধ্যে নেমেছে ঠিকই, কিন্তু সোমবার রাত থেকে ওই সব এলাকার পাঁচ-সাত বছরের শিশু-সহ বড়রাও অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। খবর দেওয়া হয় পুরসভাতেও। পুরপ্রধান, উপ-পুরপ্রধান সহ পুরসভার প্রতিনিধিরা এলাকা পরিদর্শনে যান। পুরসভা এবং স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে ক্যাম্প করেও চিকিৎসা শুরু হয়। প্রতিটি বাড়িতে ওআরএস এবং পানীয় জল পরিস্রুত করা এবং বমি-পায়খানা বন্ধের ওষুধ বিলি করা হয়। সদর হাসপাতাল থেকে একদল স্বাস্থ্যকর্মীও ঘটনাস্থলে চিকিৎসার জন্য যান। কী থেকে এই সব এলাকার মানুষ আন্ত্রিকে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুরসভার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
সারদা পল্লির বাসিন্দা রূপা দে বলেন, ‘‘মঙ্গলবার সকালে কয়েক জনের অনবরত বমি-পায়খানা হওয়ায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বেলা যত বাড়তে থাকে, আক্রান্তের সংখ্যাও তত বাড়তে থাকে। আমরা পুরসভাকে জানাই। তবে, কী থেকে হল, বুঝতে পারছি না।’’ অসুস্থ হয়ে পড়া খাঁ পুকুরের বাসিন্দা অর্পিতা মণ্ডল বলেন, ‘‘সোমবার রাত থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ি। ওষুধও খেয়েছিলাম। কিন্তু কাজ না হওয়ায় হাসপাতালে যাই।’’
হুগলির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘‘দফতরের কর্মীরা ওখানে ক্যাম্প করে চিকিৎসা করছেন। আন্ত্রিক যাতে না ছড়ায় তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আতঙ্কের কিছু নেই।’’ পুরপ্রধান জানান, ওই সব এলাকা পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা নজর রাখছেন। বর্ষায় জমা জলে মশা বা মাছি বাহিত হয়ে রোগ ছড়িয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে।