দিনের কাজ সেরে রাতে গা ধুয়ে ঘুমোতে যাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। রাতে স্নান করার প্রবণতা নতুন নয়। কিন্তু ‘ডার্ক শাওয়ার’-এর ধারণা খানিক নতুন বলেই দাবি করছেন মনোবিদেরা। রাতে উজ্জ্বল আলো জ্বেলে গা ধোয়ার অভ্যাস বদলে নিভু নিভু আলোয় স্নানের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমি দেশে এই ‘ডার্ক শাওয়ার’-এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে।
সুস্থ থাকা, স্বাস্থ্যসচেতন হওয়া, ফিটনেসের প্রতি আকর্ষণ এই মুহূর্তে নতুন ভাবে বিকশিত হচ্ছে। পুরনো পন্থা নতুন মোড়কে ফিরছে বা একেবারে নতুন কিছুর আবিষ্কার হচ্ছে। তবে আগেকার দিনে যখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ঘরে ঘরে পৌঁছোয়নি, বা নানা ধরনের আলোর আবিষ্কার হয়নি, তখনও রাতের ক্লান্তি ও গরমের কষ্ট দূর করে টিমটিমে আলো জ্বালানো স্নানঘরেই গা ধুয়ে নিতেন এ দেশের মানুষেরা। এখন বলা হচ্ছে, সেই অভ্যাসই নাকি সুনিদ্রার জন্য অতি প্রয়োজনীয়।
মনোবিদ এবং অধ্যাপিকা আত্রেয়ী ভট্টাচার্য মনে করেন, এই নামকরণ নতুন। কিন্তু কোনও না কোনও রূপে এই ধারণার সঙ্গে সকলেই পরিচিত বলে মত মনোবিদের। তাঁর কথায়, ‘‘সারা দিন কাজকর্মের পর রাতে বাড়ি ফিরে সকলেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে চাই আমরা। অনেকেই সারা দিনের ক্লান্তি এবং ধুলোময়লা দূর করার জন্য স্নান করে নেন। এই ধারণা থেকেই ডার্ক শাওয়ারিংয়ের কথা বলা হচ্ছে। এই অনুশীলনে রাতের বেলা স্নান করতে হবে এবং আলো উজ্জ্বল থাকলে চলবে না। নিভু আলোয় গা ধুতে হবে। এর ফলে মানসিক ক্লান্তি, চাপ, উদ্বেগ অনেকটাই কমে আসবে। স্বাভাবিক ভাবেই সারা শরীর ও মন প্রশান্ত হবে। ঘুমোনোর সময়ে ঠিক যেমন ডিম লাইট জ্বালানোর প্রচলন রয়েছে, এর সঙ্গে সেই প্রথার সম্পর্ক রয়েছে। এমন আলো মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ বাড়াতে পারে। ফলে সহজেই চোখে ঘুম নেমে আসে। আমাদের মস্তিষ্ক সেই সঙ্কেতগুলিকে বিশ্রামের ইঙ্গিত হিসেবেই ধরে।’’
আরও পড়ুন:
উজ্জ্বল আলোর সংস্পর্শে এলে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ কমে যেতে পারে, তাই এই অভ্যাস বিশেষ ভাবে প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠতে পারে, স্নানই কেন? স্নান বা গা ধোয়া এমনিতেই ক্লান্তি দূর করার জন্য খুব প্রয়োজনীয় এক প্রথা। পাশাপাশি, নিভু আলোয় জলের আওয়াজ, উষ্ণ জলের ছোঁয়া, সাবানের গন্ধ— এ সবই ওই উদ্দেশ্য সফল করতে সাহায্য করছে।