দোল খেলতে নামলেন আর আচমকা মুখের উপর ছুঁড়ে দেওয়া হল এক মগ রং গোলা জল। সামলানোর আগেই মুখে ঢুকে গেল। চলে গেল পেটের ভিতরেও। তারপরেই শুরু হল আতঙ্ক। রং মাত্রই ক্ষতিকর রাসায়নিক। পেটে গিয়ে তা কোনও সমস্যা তৈরি করবে না তো? কী কী ক্ষতি হতে পারে? ইত্যাদি ইত্যাদি। বেশি ভয় পেয়ে অনেকে এমন হলে বমি করে রং বার করে দেওয়ারও চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে কি সত্যিই কোনও লাভ হয় না উল্টে ক্ষতি হতে পারে। রং খেলতে গিয়ে পেটে রং চলে গেলে কী করবেন জেনে নিন।
১. দ্রুত মুখ ধুয়ে ফেলা
রং মুখে ঢোকামাত্রই দেরি না করে প্রচুর পরিমাণে পরিষ্কার ও সাধারণ তাপমাত্রার জল দিয়ে বারবার কুলকুচি করুন। যাতে রং গলার আরও নীচে নেমে না যায়। ঠোঁটের চারপাশ এবং মুখের ভেতরটা আঙুল দিয়ে আলতো করে পরিষ্কার করে নিন।
২. বেশি করে জল পান করা
যদি সামান্য পরিমাণ রং পেটে চলে যায়, তবে তৎক্ষণাৎ প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন। জল পানের ফলে শরীরের ভেতরে যাওয়া রঙের ঘনত্ব কমে যায় এবং তা প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে।
৩. বমি করার চেষ্টা না করা
অনেকেই রং বের করার জন্য জোর করে বমি করার চেষ্টা করেন, সেটা করা একদমই উচিত নয়। জোর করে বমি করলে রাসায়নিক মিশ্রিত রং ফুসফুসে ঢুকে গিয়ে আরও বড় বিপদ ঘটাতে পারে। শরীর স্বাভাবিক নিয়মেই তা বের করে দেওয়ার চেষ্টা করবে।
৪. ঘরোয়া সমাধান
রঙের তিতকুটে ভাব বা রাসায়নিকের প্রভাব কাটাতে সামান্য পরিমাণ লেবুর শরবত বা দই খেতে পারেন। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড এবং দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করবে।
৫. কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
রং গিলে ফেলার পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখুন। যদি নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- অতিরিক্ত পেটে ব্যথা বা বমি ভাব
- শ্বাসকষ্ট বা বুকে অস্বস্তি।
- অ্যালার্জি বা ত্বকে র্যাশ ওঠা।
- মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা।