Advertisement
E-Paper

অবরোধের রণনীতিতে এ বার বেজিং! দক্ষিণ চিন সাগরে দ্বীপ ঘিরতে নৌবহর পাঠালেন জিনপিং, নিশানায় কোন দেশ?

একাধিক জলযান এবং মাছ ধরার নৌকা দিয়ে তৈরি প্রায় ৩৫২ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান বেড়া তৈরি করা হয়েছে। ফলত ফিলিপিন্সের মৎস্যজীবীরা দ্বীপের আশপাশ দিয়ে নৌকা নিয়ে চলাচল করতে পারছেন না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৪৬
চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: রয়টার্স।

হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ নিয়ে আমেরিকা-ইরানের টানাপড়েনের মধ্যেই এ বার একই রণনীতি অনুসরণ করল চিন। তাদের নিশানায় পড়শি দেশ ফিলিপিন্স! সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, দক্ষিণ চিন সাগরের ‘বিতর্কিত অঞ্চল’ স্কারবারো শোলের (পানাটাগ শোল নামেও যা পরিচিত) প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করতে নৌবহর পাঠিয়েছে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সরকার। ফলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, চিনা নৌসেনা এবং উপকূলরক্ষী বাহিনী স্কারবারো শোলের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করেছে। একাধিক জলযান এবং মাছ ধরার নৌকা দিয়ে তৈরি প্রায় ৩৫২ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান বেড়া তৈরি করা হয়েছে। ফলত ফিলিপিন্সের মৎস্যজীবীরা দ্বীপের আশপাশ দিয়ে নৌকা নিয়ে চলাচল করতে পারছেন না। ভৌগোলিক ভাবে এই অঞ্চল ফিলিপিন্সের অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে পড়লেও, ২০১২ সাল থেকে কার্যত জোর করে এলাকাটি দখলে রেখেছে চিনি। পরিস্থিতির মোকাবিলায় ফিলিপিন্স তাদের উপকূলরক্ষীদের মোতায়েন করেছে ওই এলাকায়। ফলে উত্তেজনার পারদ চড়ছে।

দক্ষিণ চিন সাগরে লালফৌজের দাপট প্রতিরোধ করতে এবং তাইওয়ানের নিরাপত্তার স্বার্থে ২০২৪ সালে সামরিক জোট ‘স্কোয়াড’ গঠন করেছে আমেরিকা। জাপানের পাশাপাশি ফিলিপিন্সও সেই জোটের সদস্য। ফিলিপিন্স এবং চিনের বিরোধের সূচনা দক্ষিণ চিন সাগরের সেকেন্ড টমাস শোলে দ্বীপকে কেন্দ্র করে। ফিলিপাইন দ্বীপের পালাওয়ান থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই দ্বীপে ১৯৯৯ সালে ফিলিপিন্স নৌবাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি জাহাজে অস্থায়ী নৌঘাঁটি বানিয়ে অবস্থান নিয়েছিল প্রায় দু’দশক আগে। এর পরে ২০১২ সালে ফিলিপিন্সের কাছ থেকে স্কারবোরো শোলে দ্বীপের দখল নিয়েছিল চিনা পিপল্‌‌স লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। যা নিয়ে দু’দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

Advertisement

২০১৬ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের মোট বাণিজ্য সামগ্রীর প্রায় ২১ শতাংশই দক্ষিণ চিন সাগরের জলপথ দিয়ে পরিবহণ করা হয়। বিগত কয়েক বছরে সেই পরিমাণ আরও বেড়েছে। ফলে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে চিনের সংঘাতের পারদ চড়ছে। ফিলিপিন্সের পাশাপাশি ভিয়েতনাম, ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশও শি জিনপিং সরকারের আগ্রাসী নীতির বিরোধিতা করেছে সাম্প্রতিক সময়ে। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক আদালত স্কারবারো শোলের উপর চিনের দাবি খারিজ করে দিলেও তা অগ্রাহ্য করে বেআইনি দখলদারি চালিয়ে যাচ্ছে জিনপিং সরকার।

Xi Jinping South China Sea Chinese Navy China PLA Philippines
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy