প্যারিস সঁ জরমঁ ইউরোপ-সেরা হতেই সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ঘিরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হল গোটা ফ্রান্সে। ফুটবলপ্রেমী এবং পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংঘর্ষে জখম হয়েছেন ২১৯ জন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জানিয়েছেন, জখমদের মধ্যে আট জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইংল্যান্ডের ক্লাব আর্সেনালকে হারিয়ে শনিবার ইউরোপ সেরা হয়েছে ফ্রান্সের পিএসজি। টাইব্রেকারে আর্সেনালকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে জিতে নেয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেতাব। তার পরেই গোটা ফ্রান্সে ক্লাব সমর্থকদের উচ্ছ্বাস শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী প্যারিসে কয়েক হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন ছিলেন। বিশৃঙ্খলা এবং অশান্তির মাঝে ৫৭ জন পুলিশকর্মীও জখম হয়েছেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত গোলমাল এবং অশান্তি পাকানোর ঘটনায় ৭৮০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতরাতে প্যারিসে রিং রোড অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল একদল জনতা। ওই রাস্তায় দুর্ঘটনায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানাচ্ছে বিবিসি। কী ভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাইক চালানোর সময়ে কংক্রিটের ব্লকে ধাক্কা খান তিনি।
পেনাল্টি শুটআউটে পিএসজি-র জয়ের পরেই প্যারিসের রাস্তায় ভিড় জমাতে থাকেন সমর্থকেরা। এর কিছু ক্ষণের মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে উচ্ছ্বাসের দৃশ্যও ধরা পড়েছে। রাস্তার ধারে বৈদ্যুতিক বাইক পুড়তে দেখা গিয়েছে। কোথাও আবার উল্লাসকারীরা রাস্তার ধারে দোকানও ভাঙচুর করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। শুধুমাত্র প্যারিস থেকেই এক রাতে ৪৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
যদিও ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, অভিযুক্তেরা কেউ পিএসজি-র সমর্থক নন। ধৃতেরা কেউ একটা ম্যাচও দেখেন না। পিএসজি-র জয়ের পরে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন ওই অভিযুক্তেরা। তিনি বলেন, “অধিকাংশ নাগরিকই জয় উদ্যাপনে শামিল হন এবং তা ভাল ভাবেই সম্পন্ন হয়। কিন্তু কিছু ব্যক্তি ঝামেলা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। তাঁরা পিএসজি-র সমর্থক নন। এমনকি ম্যাচও দেখেন না। আমরা তাঁদের আটকানোর জন্যই রয়েছি।” যাঁরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরও ইউরোপ সেরা ফুটবল ক্লাবের খেতাব পেয়েছিল পিএসজি। তখনও সমর্থকদের উদ্যাপন ঘিরে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। অশান্তির মাঝে মৃত্যুও হয়েছিল গত বছর। এ বার তাই আগে থেকে সজাগ ছিল প্যারিসের পুলিশ বাহিনী। রাজধানীতে পরিষেবা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা হলে, তা ঠেকাতে হাজার হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন রাখা হয়েছিল প্যারিসে। তাও এড়ানো গেল না অশান্তি।