প্রথম দফায় জেলায় রয়েছে ভোটগ্রহণ। ২৩ এপ্রিলের সেই ভোট উপলক্ষে জেলার সব বিধানসভা এলাকায় জোর প্রচার চালাচ্ছেন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। চায়ের দোকান থেকে কর্মস্থল— সবেরই ফাঁকে চর্চা ভোট নিয়ে। ব্যতিক্রম জেলার মীনদ্বীপ নয়াচর। এই দ্বীপ এলাকায় ভোটের কোনও তাপ উত্তাপ যেন পৌঁছয়নি। যেমন এখানে প্রচারে পৌঁছননি প্রার্থীরাও!
পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া সংলগ্ন হুগলি ও হলদি নদীর মোহনায় অবস্থিত নয়াচর দ্বীপ। আয়তন প্রায় ৫০ বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি। এই দ্বীপে ছ’টি প্লট রয়েছে। সবচেয়ে বেশি মানুষ বসবাস করেন ১৩৬ নম্বর প্লটে, যা প্রকল্প এলাকা এবং নয়াচর থানা সংলগ্ন। এ ছাড়া, ১৩৭ নম্বর (বড় খাল সংলগ্ন), ১৩৮ নম্বর (ইটভাটা এলাকা) এবং ১৩৯-১৪০ নম্বর প্লটে (খেজুরতলা ও কদমতলা) ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকেন বাসিন্দারা। তবে এঁরা দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দা নন। অধিকাংশরই ভোটার কার্ডে বাড়ির ঠিকানা রয়েছে মহিষাদল, হলদিয়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকার। জোয়ারের জল সেভাবে না ঢোকায় দ্বীপের ১০ শতাংশের বেশি জমিতে মাছ চাষ করেন তাঁরা। হয় অল্প বিস্তর চাষবাসও।
ভোটের বাজারে এই দ্বীপ একেবারে নিরুত্তাপ। হলদিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের অংশ হলেও এখানে কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে পড়েনি ব্যানার, পোস্টার। হয়নি সভা বা অন্য কোনও প্রচার। হলদিয়া বিধানসভায় শাসক এবং অন্যতম বিরোধী দলের প্রার্থীরও কার্যত দ্বীপে গিয়ে প্রচারের জন্য ভাবিত নন। হলদিয়ার তৃণমূল প্রার্থী তাপসী মণ্ডল বলছেন, ‘‘নিজে দ্বীপে প্রচারে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। তবে দলীয় কর্মীরা বৈঠক করেছেন। ভোটের সময় নৌকা করে ভোটারদের হলদিয়ায় আনার ব্যবস্থা করা হবে।’’
ভোট আসলে দ্বীপের ভোটার যে নৌকা করে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়, তা জানা যাচ্ছে স্থানীয়দের তরফেও। তবে অন্য সময় প্রয়োজনেও এমন বিশেষ পরিষেবা মেলে না বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা তপন প্রামাণিক বলেন, ‘‘দ্বীপে কার্যত কোনও পরিকাঠামো নেই। কেউ অসুস্থ হলে নৌকা ভাড়া করে হলদিয়া বা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যেতে হয়। একটি নৌকা ভাড়া করতে খরচ হয় হাজার টাকারও বেশি।’’ তপনের মতো আরও অন্যদের কথায়, ‘‘এখন ঘটা করে ভোট দেওয়াতে নিয়ে যাওয়া হবে।’’
দ্বীপে গিয়ে প্রচার না করলেও জিতলে নয়াচরের জন্য কী পরিকল্পনা রয়েছে, তা জানাচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী প্রদীপ কুমার বিজলি। তিনি বলছেন, ‘‘মজে যাওয়া ভেড়ি সংস্কার করা হবে। হলদিয়া বন্দরের নাব্যতা সমস্যার সমাধানে নয়াচরকে যুক্ত করা হবে। হুগলি নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করে নয়াচরের মধ্য দিয়ে নতুন চ্যানেল কাটলে বড় জাহাজ আসতে পারবে। এতে দ্বীপেরও উন্নয়ন হবে।’’
ভোটের পরে উন্নয়ন হবে কি না, সে সব পরের কথা। তবে পরিকাঠামোহীন মীনদ্বীপের বাসিন্দাদের কাছে বেঁচে থাকার লড়াই ভোটের উন্মাদনার থেকে অনেক বড় বিষয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)