ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং হরমুজ় প্রণালীর অবস্থা নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোদী। নিজেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে মাক্রোঁর ফোনের কথা জানিয়েছেন। কিছু দিন আগে হরমুজ় নিয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে জরুরি সম্মেলন আয়োজনের কথা ঘোষণা করেছিলেন মাক্রোঁ। সেই সম্মেলন শুরুর ঠিক আগেই তিনি মোদীকে ফোন করলেন।
মাক্রোঁকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন মোদী। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘আমার বন্ধু ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর ফোন পেলাম। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা এবং সুরক্ষা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমরা দু’জনেই একমত। ওই অঞ্চল এবং তার বাইরে শান্তি, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাব, পারস্পরিক সহযোগিতা চালিয়ে যাব।’’
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। ইরান ও আমেরিকার সমঝোতার ক্ষেত্রে মাক্রোঁর তরফে কিছু উদ্যোগও দেখা গিয়েছে। গত মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন মাক্রোঁ। ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে সমঝোতার জন্য ফের দুই দেশকে আলোচনায় বসার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। সে দিনই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের সঙ্গে মিলে মাক্রোঁ ঘোষণা করেন, তাঁরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে আগামী ১৭ এপ্রিল প্যারিসে একটি সম্মেলনের আয়োজন করবেন। হরমুজ় প্রণালীতে অবাধে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ফেরানো কতটা জরুরি, তা নিয়ে আলোচনা করাই এই সম্মেলনের লক্ষ্য। তার আগে কেন মোদীকে ফোন করলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এর আগেও সরব হয়েছেন মাক্রোঁ। তিনি বলেছিলেন, নিঃশর্তে, কোনও বিধিনিষেধ এবং শুল্ক ছাড়াই যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া উচিত। মাক্রোঁর আশা, এখনও পর্যন্ত যে সমস্ত দেশ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নীরব, সেই আপাত ‘যুদ্ধবিমুখ’ দেশগুলিকেও শুক্রবার প্যারিসের সম্মেলন একত্রিত করবে। তারাও এ বিষয়ে অবদান রাখতে প্রস্তুত হবে। হরমুজ়ে ট্রাম্প কিছু দিন আগে অবরোধ ঘোষণা করেছিলেন। ফ্রান্স, ব্রিটেন-সহ নেটো-র একাধিক সদস্য দেশ এই অবরোধে যোগ দিতে রাজি হয়নি। শুক্রবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে ভারতের কোনও প্রতিনিধি থাকবেন কি না, এখনও স্পষ্ট নয়।