তিন দিনে মৃত নয় সদ্যোজাত
নিজস্ব সংবাদদাতা • পুরুলিয়া
তিন দিনে নয় শিশুর মৃত্যু হল পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ন’জন শিশু মারা গিয়েছে। তার মধ্যে সোমবারই মৃত্যু হয়েছে ছ’জনের। মঙ্গলবার দু’জন এবং বুধবার দুপুর পর্যন্ত একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় ফের পুরুলিয়া হাসপাতালের শিশুদের চিকিৎসা পরিষেবার মান নিয়ে জেলাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সোমবার যে ছ’টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে এই হাসপাতালেই জন্ম হয়েছিল চারজনের। বাকি দু’জন এসেছিল বাইরে থেকে। হাসপাতাল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এখানে জন্মানো চারজনই জন্মগত শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। বাইরে থেকে আসা দু’টি শিশু অপরিণত ছিল। তাদের সকলকেই হাসপাতালের নিওনেট্যাল ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলেও তাদের বাঁচানো যায়নি। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের মতে, বাইরে থেকে আসা ওই দুই শিশুর অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তাদের বাঁচানো সম্ভব ছিল না। তবে অন্য চারজনকে হাসপাতালের নবজাত শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা গেলে বাঁচানোর আরও কিছুটা চেষ্টা করা যেত। কিন্তু এই পরিচর্যা কেন্দ্রে শয্যার সংখ্যা মোটে ২২টি। সব ক’টি শয্যা ভর্তি থাকায় ওই চারজনকে জায়গা দেওয়া যায়নি। ওই শিশুগুলির মায়েদের বাড়ি পুরুলিয়া মফস্সল, রঘুনাথপুর ও জয়পুর থানা এলাকায়। মঙ্গলবার যে দু’টি শিশুর মৃত্যু হয় তাদের মধ্যে একজনের হাসপাতালেই জন্ম, অন্যজন বাইরে থেকে এসেছিল। দু’জনেই ছিল জন্মগত শ্বাসকষ্টের শিকার।বুধবার যে শিশুর মৃত্যু হয় সেও একই উপসর্গের শিকার ছিল। এ ছাড়া অত্যন্ত কম ওজন ছিল। তাকেও নবজাত শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা যায়নি। হাসপাতালের সুপার নীলাঞ্জনা সেন বলেন, “তিন দিনে ৯টি শিশুর মৃত্যু দুঃখজনক হলেও তা আশঙ্কাজনক নয়। সুস্থ শিশুর জন্ম দেওয়ার জন্য গর্ভবস্থায় প্রসূতিদের ঠিকমতো যত্ন নেওয়া আগে দরকার। তা না হলে কম ওজনের শিশু জন্মাবে।”
বেআইনিভাবে রক্ত বিক্রি, গ্রেফতার যুবক
নিজস্ব সংবাদদাতা • আরামবাগ
ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে বেআইনিভাবে রক্ত বিক্রির অভিযোগে সেখানকার এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে পুলিশের হাতে তুলে দিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার বিকেলে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে। পুলিশ জানিয়েছে ধৃত ওই যুবকের নাম মুন্সি আসরাফুল আলম। হাসপাতাল সুপার নির্মাল্য রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার তাকে আরামবাগ আদালতে তোলা হলে বিচারক দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মাস দেড়েক ধরে বিভিন্ন সূত্র থেকে আভিযোগ আসছিল হাসপাতলের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত পাচারের। তার জন্য বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার রক্তদান শিবির থেকে প্রাপ্ত রক্তের সঙ্গে রোগীদের দেওয়া রক্তের হিসাবের গরমিলও হচ্ছিল। এই প্রসঙ্গে নির্মাল্যবাবু বলেন, “রক্ত সংক্রান্ত নানান গরমিল নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে এখানকার কর্মীদের। তাছাড়া দেড় মাস ধরে আমার কাছে কিছু অভিযোগ আসছিল। তার প্রেক্ষিতেই নজর রাখছিলাম। তাতেই হাতে নাতে ধরতে পেরেছি। বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরে জানিয়েছি।” এক মহিলা ৮০০ টাকার বিনিময়ে ওই কর্মীর কাছ থেকে রক্ত কেনেন বলে অভিযোগ। এই অভিযোগ অবশ্য মুন্সি আসরফ আলম অস্বীকার করেছে। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানায়, এই রক্ত চুরির চক্রে আরও কেউ আছে কিনা তার তদন্তে করবে পুলিশ।
এসএসকেএম সাফ হবে যন্ত্রে
নিজস্ব সংবাদদাতা • কলকাতা
এ বার যন্ত্র দিয়ে সাফাই হবে পিজি-র ওয়ার্ড, আউটডোর, ওটি। ১ জুলাই থেকে চালু হচ্ছে এই ‘মেকানাইজ্ড ক্লিনিং’ ব্যবস্থা। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থাকে। হাসপাতালের অধিকর্তা প্রদীপ মিত্র জানান, দিনে অন্তত চার বার সাফ হবে ওটি, ওয়ার্ড। কাজে নজর রাখবেন সুপারভাইজার। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে কর্মীদের পরিচয় করাতে আগামী সপ্তাহে সমন্বয় বৈঠক ডেকেছেন কর্তৃপক্ষ। তবে এই নয়া ব্যবস্থাকে ঘিরে শুরু থেকেই কর্মীমহলে নানা সংশয় দেখা দিয়েছে। নয়া ব্যবস্থায় কি বর্তমান সাফাইকর্মীরা কাজ হারাবেন? কর্তৃপক্ষের আশ্বাস, তেমন আশঙ্কা নেই। প্রদীপবাবুর কথায়, “হস্টেল, নানা বিভাগের অফিস-সহ বহু জায়গায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর পদ খালি। ওয়ার্ড, আউটডোর, ওটি থেকে কর্মীদের সেই সব জায়গায় পাঠানো হবে। চাকরি যাবে না।”
স্বাস্থ্য পরিষেবার দাবি
জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স মিলছে না। বেশিরভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। সামান্য অসুখেও বাইরে স্থানান্তর করে দেওয়া হচ্ছে। এমনই বেশ কিছু অভিযোগে কংগ্রেসের পুঞ্চা ব্লক কমিটি পুঞ্চা ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিএমওএইচকে বুধবার স্মারকলিপি দিল। কংগ্রেসের পুঞ্চা ব্লক সভাপতি বারিদবরণ মাহাতো বলেন, “পুঞ্চা ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাধারণ স্বাস্থ্য পরিষেবা মিলছে না। ওষুধ হাসপাতালে পাওয়া যায় না। প্রয়োজনে রোগীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স মেলে না এখানে। অথচ এই হাসপাতালের উপর এলাকার বেশ কয়েক হাজার মানুষ নির্ভরশীল। তাই ১৩ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।” পুঞ্চার বিএমওএইচ সত্যব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, “যে দাবিগুলি স্থানীয় ভাবে পূরণ করা সম্ভব সেগুলি পূরণ করা হবে। বাকি দাবিগুলি জেলা কর্তৃপক্ষকে জানান হয়েছে।