লক্ষদ্বীপ ও তার আশপাশের এলাকায় পর পর ভয়াবহ বিস্ফোরণের ছক কষেছে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা। সেই লক্ষ্যে আইএসের ১৫ জন জঙ্গি একটি সাদা নৌকায় চেপে শ্রীলঙ্কা থেকে লক্ষদ্বীপে আসার জন্য রওনা হয়েছে। কলম্বো থেকে এই সরকারি বার্তা পৌঁছেছে ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে। তার পরেই নড়েচড়ে বসেছে কেরল সরকার। কেরলের উপকূলে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট।

যে কোনও মুহূর্তে আইএস জঙ্গিদের ওই নৌকা কেরলের উপকূলে এসে পড়তে পারে, এই খবর পেয়ে মাছ ধরার সব নৌকা ও জাহাজের উপর কড়া নজরদারি শুরু হয়ে গিয়েছে। মৎস্যজীবী ও জাহাজগুলিকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

কেরলের উপকূল পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, কলম্বো থেকে ওই গোপন বার্তা এসে পৌঁছেছে গত ২৩ মে। লোকসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিন। তাতে স্পষ্টই জানানো হয়েছে, ওই সাদা নৌকাটিতে রয়েছে আইএসের ১৫ জন জঙ্গি।

উপকূল পুলিশের তরফে এও বলা হয়েছে, ‘‘গত এপ্রিলে শ্রীলঙ্কায় জঙ্গিদের ঘটানো একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই এমন একটা কিছু ঘটতে পারে বলে আঁচ করা হয়েছিল। গত ২৩ মে কলম্বোর পাঠানো গোপন বার্তায় সেই আশঙ্কা আরও জোরদার হয়েছে।’’

আরও পড়ুন- আগুন থেকে বাঁচতে জানালার কার্নিসে ঝুলছে যুবক! তার পর কী হল?

আরও পড়ুন- মসুল, রাকার গণকবরে কি ভারতীয়রা? ডিএনএ পাঠালেন সুষমা​

কেরলের উপকূল পুলিশ ও গোয়েন্দাকর্তারা জানাচ্ছেন, এমন বার্তা মাঝেমধ্যেই আসে উপকূল পুলিশের কাছে। কিন্তু এ বার যে ভাবে জঙ্গিদের সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, তাতে কলম্বোর ওই বার্তাটিকে যথেষ্টই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সঠিক তথ্য হাতে না থাকলে এই ভাবে জঙ্গিদের সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।

শ্রীলঙ্কায় বিস্ফোরণের পর জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) গোয়েন্দারা যখন এই তথ্য ফাঁস করে দেন যে, আইএস-ই ওই ঘটনায় জড়িত, তখন থেকেই কেরল উপকূলে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা শুরু হয়। কারণ, গোয়েন্দাদের কাছে খবর রয়েছে, ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের শক্তি প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর কেরলে ওই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনটি শক্ত ভিত গড়ে ফেলেছে। কেরলের যুব সম্প্রদায়ের একটি অংশ সরাসরি বা পরোক্ষে জড়িয়ে পড়েছেন আইএসের সঙ্গে বা তারা কোনও না কোনও ভাবে আর্থিক মদত জুগিয়ে যাচ্ছে আইএসকে। গত এপ্রিলে শ্রীলঙ্কায় একের পর এক বিস্ফোরণে ২৫০ জনের মৃত্যু হয়।

গোয়েন্দাদের সন্দেহের আরও কারণ, মে মাসের গোড়ার দিকেই প্রথম বারের জন্য আইএসের তরফে ঘোষণা করা হয়, ভারতের একটি ‘প্রভিন্স’ (রাজ্য)-এ তারা শক্ত ঘাঁটি গেড়েছে। গত শুক্রবার সেই ‘প্রভিন্স’-এর নামও জানিয়েছে আইএসের মুখপত্র সংবাদ সংস্থা ‘আমাক নিউজ এজেন্সি’। সেই নামটি হল, ‘‘ভিলাইয়া অফ হিন্দ’’।