আধার চ্যালেঞ্জ নিয়ে হেরে ভূত হয়েছিলেন আগেই। এবার ট্রাই চেয়ারম্যানের পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং সেগুলির  আইএফএসি কোড পর্যন্ত ফাঁস করে দিলেন হ্যাকাররা। প্রমাণস্বরূপ অ্যাকাউন্টে এক টাকা জমাও দিয়েছেন হ্যাকারদের একজন। যদিও আধার কর্তৃপক্ষ এখনও গোঁ ধরে বসে আছেন, আধার তথ্য সুরক্ষিত।

শনিবার ট্রাই চেয়ারম্যান আর এস শর্মা নিজের টুইটার হ্যান্ডলে আধার নম্বর দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন, ‘‘একটা প্রকৃত উদাহরণ দিয়ে দেখান, আধার নম্বরের মাধ্যমে কেউ আমার ক্ষতি করতে পারে।’’ ২৪ ঘণ্টাও পার হয়নি। তার মধ্যেই হ্যাকাররা ট্রাই চেয়ারম্যানের জন্ম তারিখ, বাড়ির ঠিকানা, প্যান ও ভোটার নম্বর, মোবাইল নম্বর ও সার্ভিস প্রোভাইডার, ফোনের মডেল-সহ অন্তত ১৪টি তথ্য অনলাইনে ফাঁস করে দেন।

এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে আর এস শর্মার পাঁচ-পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নম্বর প্রকাশ করে দিলেন ইলিয়ট অ্যাল্ডারসন, পুষ্পেন্দ্র সিংহ, কনিষ্ক সাজনানির মতো এথিক্যাল হ্যাকাররা (যাঁরা হ্যাক করে তথ্য হাতাতে পারেন, কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন না বলে দাবি করেন)। এসবিআই, আইসিআইসিআই, পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া এবং কোটাক মহিন্দ্রার অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং সেগুলির আইএফএসি কোড অর্থাৎ কোন ব্রাঞ্চে অ্যাকাউন্ট সেটাও সামনে এনেছেন তাঁরা। দাবি আরও পাকাপোক্ত করতে ট্রাই চেয়ারম্যানের ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার অ্যাকাউন্টে আধার এনেবল্‌ড পেমেন্ট সার্ভিসের (এইপিএস) মাধ্যমে এক টাকা জমা দেওয়ার স্ক্রিন শটও প্রকাশ্যে এনেছেন হ্যাকাররা। 

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার স্ক্রিন শট। 

আরও পড়ুন: চ্যালেঞ্জ করে হেরে ভূত, খোদ ট্রাই-প্রধানেরই আধার ফাঁস

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি ট্রাই প্রধানের ডি-ম্যাট অ্যাকাউন্টের তথ্যও পেয়েছেন হ্যাকাররা। এছাড়া এসবিআই ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটে তিন বছরের সাবস্ক্রিপশন বাবদ লেনদেন এবং আয়ুর্বেদিক পণ্য বিক্রিতে আধার ব্যবহারের তথ্য পর্যন্ত তাঁদের হাতে রয়েছে বলে দাবি হ্যাকারদের। স্বাভাবিকভাবেই ট্রাই প্রধানের ‘ছেলেমানুষি’র জেরে আরও কী কী এবং কত তথ্য হ্যাকাররা পেয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মশকরা করতেও ছাড়েননি ফরাসি ওয়েব-সুরক্ষা বিশারদ এলিয়ট অ্যাল্ডারসন। পরামর্শ দিয়েছেন, ট্রাই প্রধানের জি মেল-এর পাসওয়ার্ড পাল্টে নিতে। ওটাও তিনি জেনে গিয়েছেন।

ট্রাই প্রধানের চ্যালেঞ্জ ও তার পর হ্যাকারের পরপর টুইট। 

আরও পড়ুন: নীরব মোদী নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর ঢাল গাঁধী-বিড়লা যোগ

ট্রাই প্রধান অবশ্য এখনও উড়িয়ে দেওয়ার মেজাজেই রয়েছেন। বলেছেন, তিনি পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করবেন না। তাতে যা হওয়ার হবে। পাশাপাশি ভাঙলেও মচকাচ্ছেন না ট্রাই কর্তৃপক্ষও। শনিবার তাঁরা দাবি করেছিলেন, জন্ম তারিখ, বাড়ির ঠিকানা, প্যান নম্বরের মতো তথ্য অন্য কোনওভাবে পেয়েছেন হ্যাকাররা, আধার নম্বরের সূত্রে নয়। তবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে  টাকা জমা  পড়ার পর এখনও ট্রাইয়ের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।