সারদার মতো অর্থলগ্নি সংস্থাগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কংগ্রেস অসমবাসীর ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে— গুয়াহাটিতে এক জনসভায় আজ এমনই অভিযোগ তুললেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।

সিএজি রিপোর্টে রাজ্যে ১৩ হাজার কোটি টাকার গরমিলের প্রসঙ্গ টেনেও শাহ বলেছেন, ‘‘ছয় দশকের শাসনে কংগ্রেস মানুষের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ৩০ হাজার কোটি টাকা নয়ছয় করেছে। তাতে উন্নয়নের নিরিখে পিছিয়ে পড়েছে অসম-সহ গোটা উত্তর-পূর্ব।’’ অমিতের অভিযোগ, জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর জন্য কেন্দ্র ১৪০ কোটি টাকা পাঠালেও, ভোট ব্যাঙ্ক অক্ষত রাখতে কংগ্রেস বাংলাদেশি চিহ্নিত করতে চাইছে না। তাই এনআরসির কাজও এগোচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জনসভায় বলেন, ‘‘প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদে সমৃদ্ধ উত্তর-পূর্বকে ধ্বংস করছে কংগ্রেস। মদত দিয়েছে সন্ত্রাসকে। কিন্তু সেই পরিস্থিতি বদলাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তর-পূর্ব সফর করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়মিত তিনি এখানে পাঠাচ্ছেন।’’

জনসভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালও। এ দিন বিজেপির জনজাগরণ সমাবেশ হয় খানাপাড়ার মাঠে। বিজেপির দাবি, লক্ষাধিক মানুষ সেখানে এসেছিলেন। ওই মাঠের সামনের পাহাড়েই মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের নিবাস। তবে, এ দিন অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছেন গগৈ। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে অমিত বলেন, ‘‘ওই বাড়ি জলদি খালি করে দিন। জনতা এ বার আপনাদের হঠিয়ে দিতে প্রস্তুত।’’ তাঁর বক্তৃতায় নাম না করে রাহুল গাঁধীকেও খোঁচা দেন বিজেপি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘‘রুপোর চামচ মুখে জন্মানো রাজপুত্র কী ভাবে দারিদ্র্যের কথা জানবেন? আমাদের প্রধানমন্ত্রী এক সময় চা বিক্রি করেছেন। তিনিই বুঝবেন গরিবদের জন্য কী করতে হবে।’’

বিদেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্কে থাকা কালো টাকা উদ্ধারে সময় লাগছে মেনে নিয়ে অমিত জানান, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এ নিয়ে বিশেষ দল গড়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত আইন প্রণয়ন করা হবে।

অসম কংগ্রেসকে তুলোধোনা করে শাহ বলেন, ‘‘বিভিন্ন অর্থলগ্নি সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ডিমা হাসাওয়ের মতো স্বশাসিত পরিষদের টাকা নয়ছয় হয়েছে। উন্নয়নের জন্য আসা টাকা আত্মসাৎ করে নিজেদের উন্নত করেছে কংগ্রেস।’’ উত্তর-পূর্বে পর্যটনের জোয়ার আনতে, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান ও মহিলাদের নিরাপত্তা বাড়াতে এখানকার ৬টি রাজ্য থেকে কংগ্রেস হঠানোর ডাক দেন বিজেপি সভাপতি অমিত।