৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের ফের কড়া সমালোচনা করল ভারত। প্রকৃত পরিস্থিতি না জেনেই ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য’ করছেন পাক নেতারা, কটাক্ষ ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রাভিশ কুমারের তোপ, ‘‘ক্রমাগত উস্কানিমূলক মন্তব্য করে চলেছেন পাক নেতারা। বিশ্ববাসীর কাছে জম্মু-কাশ্মীরের ভুল ও বিকৃত ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।’’ ভারতে জঙ্গি ঢোকানোর চেষ্টা করে উপত্যকায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে পাকিস্তান— অভিযোগ তুলেছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র।

গত ৫ অগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া। নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে। বিশ্বের কাছে কাঁদুনি গেয়ে বেড়াচ্ছেন ইমরান খান। পাক রেলমন্ত্রী ‘নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভারত-পাক যুদ্ধ’-এর জিগির পর্যন্ত তুলে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে পাক নেতাদের এই সব মন্তব্যেরই তীব্র নিন্দা করেন রাভিশ কুমার।

তিনি বলেন, ‘‘ওদিক (পাকিস্তান) থেকে ক্রমাগত দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো মন্তব্য আসছে। মন্তব্য-টুইট মিলিয়ে অন্তত ৪০-৫০টি বক্তব্য উঠে এসেছে, যাতে বিশ্বের মনে হয় এখানে (জম্মু-কাশ্মীরে) কিছু একটা হচ্ছে। বিশ্বের কাছে এটা তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে পাকিস্তান।’’ ইসলামাবাদ ক্রমাগত উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে, জঙ্গি ঢোকানোর চেষ্টা করছে— এমন সব অভিযোগও তুলেছেন রাভিশ।

৩৭০ বিলোপ নিয়ে সারা বিশ্বকে ভারতের বিরুদ্ধে একজোট করা এবং নিজেদের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করছে পাকিস্তান। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রাষ্ট্রপুঞ্জে চিঠি লিখেছেন। এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রাভিশ বলেন, ‘‘পাকিস্তানকে বিশ্বের সবাই চেনে। সন্ত্রাসবাদকে ওঁরা কূটনীতির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। ভারতে জঙ্গি ঢোকানোর জন্য লাগাতার চেষ্টা করে।’’ রাষ্ট্রপুঞ্জে ইমরানের চিঠির প্রসঙ্গে রাভিশ বলেন, ‘‘ওটা এক টুকরো কাগজ ছাড়া আর কিছুই নয়।’’

আরও পড়ুন: ‘কাশ্মীর কবেই বা পাকিস্তানের ছিল? এত কান্নাকাটি কেন ইসলামাবাদের?’ কটাক্ষ রাজনাথের

আরও পড়ুন: ‘সাফল্যের জন্য লিফট নেই সিঁড়ি ভাঙতেই হবে’, ফিট ইন্ডিয়া অভিযান শুরু করলেন মোদী

পাকিস্তান থেকে কম্যান্ডো বা জঙ্গিরা জলপথে গুজরাতের উপকূল দিয়ে ভারতে ঢুকতে পারে বলে বৃহস্পতিবারই সেখানকার বন্দরগুলিতে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাভিশের কটাক্ষ, ‘‘পাকিস্তানের উচিত স্বাভাবিক প্রতিবেশীর মতো আচরণ করা। স্বাভাবিক কথাবার্তা বলা এবং বাণিজ্য চালু রাখা। কিন্তু পাকিস্তানের দিক থেকে সেটাই হচ্ছে না।’’ জঙ্গি ঢোকানোর চেষ্টা না করে ভদ্র ও সভ্য প্রতিবেশীর মতো আচরণ করার আহ্বানও জানিয়েছেন রাভিশ।

৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীর কার্যত গোটা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। ধীরে ধীরে মোবাইল, ইন্টারনেট, ল্যান্ডলাইন, কেবল পরিষেবা চালু হচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে উপত্যকা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে আসছে বলেও এদিন বোঝাতে চেয়েছেন রাভিশ কুমার। তিনি বলেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত এক জনেরও মৃত্যু হয়নি, একটিও গুলি চালাতে হয়নি নিরাপত্তা কর্মীদের। জম্মু-কাশ্মীরের ৮৫ শতাংশ থানা এলাকায় দিনের বেলায় নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হয়েছে। ওষুধের কোনও ঘাটতি নেই।’’

কিন্তু উেপত্যকার অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতি না জেনেই পাকিস্তান বিশ্বের কাছে ভুল ছবি তুলে ধরতে চাইছে— অভিযোগ বিদেশ মন্ত্রকের। সম্প্রতি পাকিস্তানে জেলবন্দি কুলভূষণ যাদবকে কনস্যুলার অ্যাকসেস দিয়েছে আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালত। রাভিশ কুমার এ দিন বলেন, এ নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।