সুপ্রিম কোর্টের অযোধ্যা মামলার রায়ের পর যে এ বার রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান লক্ষ্য হবে রামমন্দির নির্মাণ, তা স্পষ্ট করে দিলেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। তবে অযোধ্যায় আলাদা জমিতে মসজিদ নির্মাণের ইস্যুতে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক। বিষয়টি তিনি ছেড়ে দিয়েছেন সরকারের উপর। দেশের নাগরিকদের কাছে শান্তি, সম্প্রীতি রক্ষার আবেদন জানিয়ে আরএসএস প্রধান অবশ্য এও বলেছেন, “এই রায়কে কারও জয় বা পরাজয়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত হবে না।’’

অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার আড়াই ঘণ্টা পর শনিবার বেলা একটায় নাগপুরে আরএসএসের সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সরসঙ্ঘচালক। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মামলায় সহযোগিতা করার জন্য সবক’টি পক্ষ ও ভারতীয় নাগরিকদের অভিনন্দন জানান।

রায়ের পর আরএসএসের লক্ষ্য কী হবে, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ভাগবত বলেন, “এখন আমাদের লক্ষ্য হবে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ। আমরা রামমন্দির বানাব অযোধ্যায়। আর সেটা সকলকে নিয়েই আমাদের করতে হবে।’’

নাগরিকদের শান্তি. সম্প্রীতি রক্ষার আবেদন জানিয়ে আরএসএস প্রধান বলেন, “অতীতের সব বিরোধ, বিবাদ এখন ভুলে যেতে হবে। আদালতের এই রায়ের পর সব বিরোধ. বিবাদ মিটে গিয়েছে। কারণ, সব পক্ষের মতামত শুনেই মামলায় এই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এ বার আইন ও সংবিধানকে আমাদের সকলেরই মর্যাদা দিতে হবে।’’

তবে আলাদা জমিতে মসজিদ গড়ার ব্যাপারে এ দিন রায়ে যা বলেছে শীর্ষ আদালত, তা নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক। বলেছেন, “সেটা তো একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে হবে। যে প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকবে সরকার। আমরা (আরএসএস) সরকার নই, একটি সংগঠন। সেই প্রক্রিয়ার উপর আমাদের সকলকেই ভরসা রাখতে হবে।’’

আরও পড়ুন- সুপ্রিম কোর্টের রায়: অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির হবে, মসজিদ বিকল্প জায়গায়​

আরও পড়ুন- স্বাগত জানাল হিন্দু পক্ষ, খুশি নয় সুন্নি বোর্ড, তবে শান্তিরক্ষার আহ্বান সব পক্ষেরই​

শীর্ষ আদালত রায়ে বলেছে, অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির হবে। বিকল্প পাঁচ একর জমি পাবে মুসলিমদের পক্ষের ‘সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড’। অযোধ্যা মামলার অন্যতম পক্ষ নির্মোহী আখড়া। রায়ের পর আখড়ার মুখপাত্র কার্তিক চোপড়া বলেন, ‘‘শেষ ১৫০ বছর ধরে আমরা যে লড়াই চালাচ্ছি তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তাতে নির্মোহী আখড়া কৃতজ্ঞ। কেন্দ্রীয় সরকার শ্রী রাম জন্মস্থান মন্দির নির্মাণের জন্য যে ট্রাস্ট গঠন করবে তাতে নির্মোহী আখড়ার প্রতিনিধি থাকবেন।’’

রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন হিন্দু মহাসভাও। সংগঠনের আইনজীবী বরুণকুমার সিংহ বলেন, ‘‘এটা একটা ঐতিহাসিক রায়। সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে তাতে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের বার্তা রয়েছে।’’ হিন্দু মহাসভার আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন বলেছেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মুসলিমদের ৫ একর বিকল্প জমি দিতে বলেছে। সকলকে নিয়ে চলারই বার্তা দেওয়া হয়েছে।’’