কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে সুর চড়াচ্ছে চিন। প্রকাশ্যে তারা ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আজ সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে আধ ঘণ্টা কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত একান্ত ভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা নিয়ে পাকিস্তান অযথা রাজনীতি করছে। হোয়াইট হাউসের উদ্দেশে মোদীর বার্তা, ভারত-বিরোধী কথাবার্তা এবং চড়া সুর দক্ষিণ এশিয়ার শান্তির পক্ষে সহায়ক নয়।

মোদী-ট্রাম্প ফোনালাপের পরে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে যে-বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তাতে ইসলামাবাদের নাম করা হয়নি। তবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের সিদ্ধান্তের পর থেকে ইমরান খান সরকার যে-ভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে ভারতের বিরুদ্ধে প্রচার করছে, তা বরদাস্ত করা হবে না। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ‘প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন, অঞ্চলের কিছু নেতা উগ্র ভারত-বিরোধী হিংসা এবং ঘৃণা প্রচার করছেন। যা অঞ্চলের শান্তির পক্ষে অনুকূল নয়। সন্ত্রাস ও হিংসামুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করা এবং আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধ করা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই।’

আগামী বৃহস্পতিবার ফ্রান্সে যাচ্ছেন মোদী। সেখানে জি-৭ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির শীর্ষ সম্মেলনে তিনি যোগ দেবেন। ভারত জি-৭’এর অংশীদার রাষ্ট্র। সম্মেলনের পাশাপাশি কয়েক জন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নির্ধারিত থাকলেও সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে কোনও আলোচনায় বসার সম্ভাবনা এখনও তৈরি হয়নি। আজ ফোনে তাই কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা সেরে রাখলেন মোদী। ইমরান খানের আমেরিকা সফর এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের পরে ইসলামাবাদের পাল্লা ভারী বলে মনে করছিল কূটনৈতিক মহলের একাংশ। কিন্তু পাকিস্তান এবং চিনের প্রবল চাপে এখনও পর্যন্ত ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার নিয়ে আমেরিকা এমন কোনও বিবৃতি দেয়নি, যাতে অস্বস্তিতে পড়তে হয় ভারতকে। 

আরও পড়ুন: মোদীর পরেই কথা ইমরানের সঙ্গে, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে সংযত হতে পরামর্শ ট্রাম্পের