লখনউয়ে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে সমাজবাদী পার্টির (সপা) নেতা অখিলেশ সিংহ যাদব ও বহুজন সমাজ পার্টি (বসপা) নেতা মায়াবতী। বেলা ১২টা ১০ মিনিটে সাংবাদিক সম্মেলন শুরু করলেন মায়াবতী। 

‘গুরু নরেন্দ্র মোদী এবং চেলা অমিত শাহের ঘুম ছোটাতে ঐতিহাসিক ঘোষণা করতে চলেছি আমরা’। সম্মেলনের শুরুতেই বললেন মায়াবতী।

মায়াবতী বললেন, ‘‘১৯৯৩ সালে উত্তরপ্রদেশে জোট বেঁধেছিল সপা এবং বসপা। তখন উত্তরপ্রদেশে সরকার গড়েছিল এই জোট। সেই জোটের নেতৃত্বে ছিলেন কাঁসিরাম ও মুলায়ম সিংহ যাদব।’’

মায়াবতীর কথায়, ‘‘আজকের মোদী সরকার অহঙ্কারী। তাই তাদের হারতে হবেই। সামনের লোকসভা ভোটে সপা এবং বসপা জোট বেঁধে লড়বে। আর সেই জোট গড়ে তোলা হচ্ছে আমজনতার কথা মাথায় রেখেই।’’

বসপা নেত্রী বলেছেন, ‘‘মোদী-শাহের ঘুম ছোটাবে এই জোট। কারণ, এই জোট সমাজের গরিষ্ঠ অংশের মানুষের জোট। দলিত ও সংখ্য়ালঘু সম্প্রদায়ের এই জোট। বিজেপির দুর্নীতিতে বিরক্ত সাধারণ মানুষ।’’

‘‘বসপা আর সপা এক সঙ্গে লড়লে বিজেপিকে রোখা যায় অনায়াসেই। যে কোনও ভাবে রুখতেই হবে বিজেপিকে’’, বললেন মায়াবতী।

কেন এই জোটে সামিল করা হল না কংগ্রেসকে, তারও জবাব দিয়েছেন মায়াবতী। তাঁর কথায়, ‘‘কেন্দ্রে বিজেপি আর কংগ্রেস একই। ওই দুই সরকারের আমলেই প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে। বিরোধীদের উৎপীড়ন করে চলেছে বিজেপি। আর কংগ্রেসের সময় দেশে জরুরি অবস্থা চলেছিল। বিজেপির সময় রাফাল আর কংগ্রেসের সময় বফর্স। দুই সরকারের আমলেই হয়েচে একের পর এক কেলেঙ্কারি।’’

লখনউয়ে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে অখিলেশ ও মায়াবতী। শনিবার। ছবি- টুইটারের সৌজন্যে।

মায়াবতী বলেন, ‘‘কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে দেখেছি, বিন্দুমাত্র লাভ হয় না মানুষের। ওদের ভোট আমাদের দিকে আসে না।’’

আর অখিলেশের সপার সঙ্গে তাঁর নতুন জোটের প্রসঙ্গে মায়াবতী বলেন, ‘‘এই জোট উত্তরপ্রদেশে কোনও ভোটই বিজেপির দিকে যেতে দেবে না। রাজ্যের মোট ৮০টি লোকসভা আসনে কে কোথায় লড়বেন, তা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। অমেঠী আর রায়বরেলী ছাড়া বাকি ৩৮টি করে আসনেই প্রার্থী দেবে এই জোট। এমন অবস্থা যে, ইভিএমে গোলমাল না হলে একটি আসনেও জিতবে না বিজেপি।’’

এর পরেই সাংবাদিক সম্মেলনে বলতে শুরু কেরন সপা নেতা অখিলেশ সিংহ যাদব। অখিলেশ বলেন, ‘‘এই জোট ভাঙার জন্য পর্দার পিছন থেকে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে বিজেপি। আপনারা সতর্ক থাকুন। বিজেপি জমানায় মহিলা ও গরীবদের উপর অত্যাচার চলছে।’’

অখিলেশ এও বলেন, ‘‘গোটা দেশে রয়েছে অরাজকতার বাতাবরণ। হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসার আগে তাঁদের জাত জানতে চাওয়া হচ্ছে। গরীব চাষি আত্মহত্যা করছে। নিরীহদের এনকাউন্টার করা হচ্ছে। ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে দেশজুড়ে। তার অবসান ঘটাতেই এই জোট। ময়াবাতীর অসম্মান মানেই আমার অসম্মান।’’