• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ফিরতেই হবে! দিল্লি থেকে ২০০ কিমি হেঁটে মাঝপথেই মৃত্যু

lockdown
দুর্ভোগ: লকডাউনে আটকে পড়েছেন ওঁরা। ছবি: রয়টার্স।

দূরত্ব প্রায় অগম্য ছিল। কিন্তু পেটের জ্বালাই বোধ হয় শক্তি দিয়েছিল মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলার ৩৮ বছরের রণবীর সিংহকে। অর্ধভুক্ত অবস্থায় ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি হাঁটার পরে শরীর আর বইল না। নিজের গ্রাম থেকে প্রায় ১২৪ কিলোমিটার দূরে, আগরা হাইওয়েতে গত কাল সন্ধেয় লুটিয়ে পড়লেন দিল্লির এক রেস্তরাঁয় ডেলিভারি এজেন্টের কাজ করা মানুষটি। কিছু ক্ষণ পরে মৃত্যু হয় তাঁর।

রণবীর হয়তো শুধু একটা নাম। চমকে ওঠার মতো পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন সূত্রে। দাবি করা হচ্ছে, কেন্দ্র লকডাউন ঘোষণা করার পরে বাড়ি ফেরার বেপরোয়া চেষ্টা করতে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিজন মিলিয়ে সারা দেশে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন মারা গিয়েছেন। এর মধ্যে নাকি রয়েছে পাঁচটি শিশুও।

দিল্লির তুঘলকাবাদের এক রেস্তরাঁয় গত তিন বছর ধরে কাজ করতেন রণবীর। তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বাড়ির প্রধান রোজগেরে ছিলেন তিনিই। লকডাউনের জেরে উত্তরপ্রদেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য যোগী সরকার গত কাল দিল্লি থেকে বাসের ব্যবস্থা করলেও মধ্যপ্রদেশের প্রত্যন্ত জেলায় পৌঁছনোর কোনও উপায় ছিল না রণবীরের। অগত্যা দিল্লি থেকে সাড়ে ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের গ্রাম, মধ্যপ্রদেশের বডফরা-তে হেঁটেই পৌঁছবেন বলে ঠিক করেছিলেন। শুক্রবার সকালে তিনি রওনা দেন। পরের দিন সন্ধেয় আগরার কৈলাস মোড়ে রণবীরকে পড়ে যেতে দেখে দৌড়ে আসেন সঞ্জয় গুপ্ত নামে হার্ডওয়্যারের দোকানের এক মালিক। সিকন্দরার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) অরবিন্দ কুমার বলেন, ‘‘সঞ্জয়ই দোকানে নিয়ে গিয়ে রণবীরকে কার্পেটে শুইয়ে দেন। তার পরে চা-বিস্কুট খেতে বলেন। রণবীর জানান, বুকে ব্যথা হচ্ছে। ফোনে তাঁর অবস্থার কথা শ্যালককে বলেছিলেন।’’ এসএইচও জানিয়েছেন, এর পরেই হৃদ্‌রোগে মৃত্যু হয় রণবীরের।

দিল্লির রাস্তায় গত কাল হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের ভিড় হওয়ায় ক্ষুব্ধ মোদী সরকার। এই ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজীব ভল্লার সভাপতিত্বে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি আজ দিল্লির অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (পরিবহণ) রেণু শর্মা এবং অর্থ দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রাজীব বর্মাকে সাসপেন্ড করেছে। কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (আবাসন) সত্য গোপাল এবং সীলমপুরের মহকুমা শাসককে। সরকারি নির্দেশে বলা হয়েছে, লকডাউনের সময়ে জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন এই আমলারা।

আজও দিল্লির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শয়ে শয়ে লোককে হাঁটতে দেখা গিয়েছে আনন্দ বিহার বাস টার্মিনাসের দিকে। বহু স্কুলে অস্থায়ী শিবির খোলা হচ্ছে। শ্রমিকদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, লকডাউন চলাকালীন তাঁদের তিন বেলার খাবারের ব্যবস্থা করবে প্রশাসন। এ দিকে, কাশ্মীরের শোপিয়ান থেকে বরফ ভেঙে দু’দিন হেঁটে জম্মুর পুঞ্চে পৌঁছেছেন ২৪ জন শ্রমিক। সবাই এখন কোয়রান্টিনে।

সূত্রের দাবি, হেঁটে বাড়ি ফিরতে গিয়ে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক নন। কর্নাটকে দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন ৮ জন।

সুরাতে গত কাল হাসপাতাল থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার হেঁটে বাড়ি ফেরার সময়ে মৃত্যু হয় নামে ৬২ বছরের এক বৃদ্ধের। এমনকি বিহারের ভোজপুরে ১১ বছরের একটি বালক অনাহারে মারা গিয়েছে বলেও অভিযোগ।

এই হিসেব ধরলে সারা দেশে করোনা সংক্রমণের জেরে যত মৃত্যু  হয়েছে, তাকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলছে লকডাউনের জেরে মৃত্যু।

(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)
 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন