• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

শ্রমিকদের থেকে ট্রেনের ভাড়া নেওয়া যাবে না, পরিযায়ী নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশিকা সুপ্রিম কোর্টের

Migrant Labours
রাজ্যে রাজ্যে এ ভাবেই পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার ঢল। ছবি: এএফপি

ট্রেনের ভাড়া, খাবার কে দিচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, রাজ্যে ফেরার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে— পরিযায়ী শ্রমিক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এমনই এক গুচ্ছ প্রশ্নবাণের মুখে পড়ল কেন্দ্র। জবাবে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৯১ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক ঘরে ফিরেছেন। ট্রেনে তাঁদের খাবার দিয়েছে রেল। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা দূর করতে সরকার বহু পদক্ষেপ করেছে। শুনানির পর তিন বিচারপতির বেঞ্চের নির্দেশ, পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছ থেকে কোনও ভাবেই ট্রেন বা বাসের ভাড়া নেওয়া যাবে না। ব্যবস্থা করতে হবে খাবারেরও।

পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্কটের কথা মাথায় রেখে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টির শুনানি করে শীর্ষ আদালত। বুধবার তিন বিচারপতির বেঞ্চে শুনানির পর আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রধান সমস্যা হল পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘ঘরে ফেরানো এবং তাঁদের খাবারের সংস্থান করা’। এর পর ট্রেনের ভাড়া-সহ একাধিক নির্দেশ দেন বিচারপতিরা। তার মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাছ থেকে ট্রেনের টিকিটের টাকা না নেওয়া, খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার মতো নির্দেশিকা রয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিকদের দ্রুত ফেরানোর বন্দোবস্ত করা, হেঁটে ফেরা শ্রমিকদের থামিয়ে খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার মতো নির্দেশিকাও দিয়েছেন বিচারপতিরা। 

পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর জন্য ‘শ্রমিক স্পেশাল’ ট্রেন চালু করেছে কেন্দ্র। তাতে বহু শ্রমিক ঘরে ফিরলেও নানা অব্যবস্থা ও দুর্দশার অভিযোগ তুলেছেন। রেজিস্ট্রেশন করেও ফেরার ট্রেন পেতে দেরি, নিম্নমানের খাবার, ট্রেনে অব্যবস্থা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মতো নানা অভিযোগে সরব হয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। এ ছাড়া কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরফে এবং ব্যক্তিগত ভাবেও একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। এই শ্রমিকদের আশ্রয় এবং খাদ্য নিশ্চিত করার দাবিতে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন সমাজকর্মী মেধা পটেকরও। সেই সব মামলা এবং উদ্ভুত পরিস্থিতির জেরেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়।

গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ

আরও পড়ুন: ১ জুন থেকে রাজ্যে লোকাল ট্রেন ও মেট্রোতে নারাজ নবান্ন, জানাল কেন্দ্রকে

বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি অশোক ভুষণ, বিচারপতি এসকে কল এবং বিচারপতি এমআর শাহের বেঞ্চে। শুনানির শুরুতেই সরকার পক্ষের আইনজীবী সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে পরের পর প্রশ্ন শুরু করেন বিচারপতিরা। তিন বিচারপতি মিলে অন্তত ৫০টি প্রশ্ন করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, ট্রেনের ভাড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে কি না, সেই বিষয়টি। সলিসিটর জেনারেল আদালতে জানান, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বহু কার্যকরী পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। শ্রমিকরা যে রাজ্যে ফিরছেন, সেই রাজ্য সরকার তাঁদের ট্রেনের ভাড়া দিচ্ছে এবং রাজ্যে ফেরার পর বাসে করে বাড়ি পৌঁছনোর ব্যবস্থাও রাজ্য সরকারগুলি করছে।

আরও পডু়ন: বিমান পরিষেবা চালু কলকাতায়, দিল্লিফেরত যাত্রীকে পাঠানো হল হাসপাতালে

খাবারের প্রশ্নে তুষার মেহতা জানান, যে রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরছেন, ট্রেনে ওঠার আগে সেই রাজ্য সরকার তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা করছেন। ট্রেনের মধ্যে খাবার দিচ্ছে ভারতীয় রেল। রেলের হিসেবে মোট ৮৪ লক্ষ মিল দেওয়া হয়েছে বিনামূল্যে। আর নিজের রাজ্যে ফেরত যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৯১ লক্ষ। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তাঁদের ফেরানো হচ্ছে এবং রাজ্যে ফেরার পর করোনাভাইরাসের বিধি অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক বা বা হোম কোয়রান্টিনের বন্দোবস্ত করছে রাজ্য সরকারগুলি।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন