খাতায়-কলমে তৃণমূলের রাজ্যসভা সদস্য হলেও ইদানীং তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব রেখেই চলছিলেন কেডি সিংহ। তাঁর অ্যালকেমিস্ট ইনফ্রা রিয়ালটি সংস্থার বিরুদ্ধে লগ্নিকারীদের কাছ থেকে বেআইনি ভাবে টাকা তোলায় মামলায় বৃহস্পতিবার ইডি কেডি-র দুই ঠিকানায় হানা দিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করে তৃণমূল নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার দিল্লিতেই রয়েছেন। তার মধ্যেই ইডি-র এই হানায় রাজনৈতিক তাৎপর্য খুঁজছেন অনেকেই।

ইডি-সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার কেডি সিংহের দিল্লি ও চণ্ডীগড়ের দু’টি ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চলে। কেডি-র অ্যালকেমিস্ট ইনফ্রা রিয়ালটি সংস্থার বিরুদ্ধে ইডি ২০১৬-তে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ ছিল, সেবি-র অনুমতি ছাড়াই ওই সংস্থাটি লগ্নিকারীদের থেকে ১,৯১৬ কোটি টাকা তুলেছে। এই তদন্তে গত জানুয়ারি মাসেই কে ডি-র কুফরির রিসর্ট, চণ্ডীগড়ের শো-রুম, হরিয়ানার পঞ্চকুলার সম্পত্তি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ ২৩৮ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ইডি। কেডি অবশ্য আগেই অ্যালকেমিস্ট গোষ্ঠীর চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

গত ২৮ অগস্ট নারদ-কাণ্ডে সিবিআই কেডি সিংহ ও ম্যাথু স্যামুয়েলকে দিল্লিতে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তহেলকা সংবাদ সংস্থার মালিক হিসেবে কেডি-ই ম্যাথুকে স্টিং অপারেশন-এর নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ম্যাথুর দাবি ছিল, ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময় কেডি-র নির্দেশেই তিনি এ রাজ্যে স্টিং অপারেশন করেছিলেন। ম্যাথু তখন তহেলকার সম্পাদক ছিলেন। স্টিং অপারেশনের সময়ে নেতা-নেত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া টাকাও কেডি-র অর্থলগ্নি সংস্থার কলকাতার দফতর থেকে তিনি পেয়েছিলেন বলে ম্যাথুর দাবি।