কর্পোরেট কর ছাড়কে শিল্পমহল স্বাগত জানানোর পরের দিনই ফসলের ন্যায্য দাম-সহ একাধিক দাবিতে দিল্লি ঘেরাও করতে পথে নামলেন চাষিরা। অস্বস্তিতে পড়ে যাওয়া মোদী সরকার আজ তড়িঘড়ি কৃষকদের পনেরো দফা দাবির মধ্যে অন্তত পাঁচটি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় সাময়িক ভাবে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। তবে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দশ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বাকি দাবিগুলির কথা বলবেন তাঁরা। তাতেও সমস্যার সমাধান না-হলে ভবিষ্যতে ফের দিল্লি ঘেরাও করা হবে।

কৃষকদের নানা অসন্তোষকে সামনে রেখে গত বছর উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লি পর্যন্ত পদযাত্রা করেছিল ভারতীয় কিষাণ সঙ্ঘ। যার জেরে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল দিল্লি। এ বছর একই কর্মসূচি হাতে নেয় ওই সংগঠনটি। ঠিক হয়েছিল, প্রতিবাদ মিছিলটি উত্তরপ্রদেশের সহারনপুর থেকে শুরু হয়ে দিল্লিতে কৃষক নেতা চৌধুরি চরণ সিংহের স্মৃতিস্থল কিষাণ ঘাটে শেষ হবে। কৃষকদের মূল পনেরোটি দাবির মধ্যে ছিল— কৃষিঋণ মকুব, আখ বিক্রির দাম অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়া, সেচের কাজে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, চাষিদের পেনশন, স্বামীনাথন কমিটির রিপোর্ট কার্যকর করা। সেই দাবি নিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর সহারনপুর থেকে দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করেন কয়েক হাজার চাষি। গত কালই তাঁরা নয়ডায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। আজ তাঁদের পদযাত্রা করে দিল্লিতে প্রবেশের কথা ছিল।

গত বারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার আর কোনও ঝুঁকি নেয়নি দিল্লি পুলিশ। উত্তরপ্রদেশ-দিল্লি সীমান্তের গাজিপুরেই আটকে দেওয়া হয় চাষিদের। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে বাধা দেয় পুলিশ। চলে জলকামান। লাঠিও চালাতে হয় পুলিশকে। শেষে কৃষকদের একটি প্রতিনিধি দল কৃষি মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে। সেখানে তাঁরা আন্দোলনকারীদের বেশ কিছু দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে ওই আন্দোলন আংশিক ভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ভারতীয় কিষাণ সঙ্ঘের সভাপতি পূরণ সিংহ বলেন, ‘‘আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ঠিক হয়েছে, আগামী দশ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বাকি দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা করবেন চাষিরা। সরকার সব দাবি মেনে না-নিলে ফের আন্দোলন শুরু হবে।’’