দেশের সমরাস্ত্র-সম্ভারকে শক্তিশালী করতে বায়ুসেনায় যুক্ত করা হল আমেরিকার তৈরি অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ই হেলিকপ্টার। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের কাছে পঠানকোট বিমান ঘাঁটিতে আজ আটটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টারকে বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বায়ুসেনা প্রধান বি এস ধনোয়া। তিনি জানান, অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ই হেলিকপ্টারের অন্তর্ভুক্তি বায়ুসেনার শক্তি বহু গুণ বাড়িয়ে দিল।

বায়ুসেনার কাছে বর্তমানে এমআই-৩৫ কপ্টার রয়েছে। সে গুলির পরিবর্তে এ বার থেকে অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ই হেলিকপ্টার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন ধনোয়া। তিনি বলেন, ‘‘আক্রমণাত্মক এবং ধ্বংসাত্মক হেলিকপ্টারগুলির মধ্যে অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ই হেলিকপ্টার অন্যতম। একসঙ্গে অনেকগুলি অভিযানে এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রয়োজন অনুযায়ী হেলিকপ্টারের গঠনে রদবদল করা হয়েছে।’’ সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার আবহে বায়ুসেনায় অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারত ২০১৫ সালে বোয়িংকে ২২টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের বরাত দিয়েছিল। আমেরিকা সরকার এবং ওই মার্কিন সংস্থার সঙ্গে বহু কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল ভারত সরকারের। গত ২৭ জুলাই কয়েকটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার গাজি়য়াবাদের হিন্দোন বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছয়। সে গুলিকে বেশ কয়েকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার করে বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত করা হল। বোয়িংয়ের তরফে জানানো হয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে ২২টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ভারতকে সরবরাহ করা হবে। 

অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ই

• সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৮৪ কিলোমিটার
• উন্নত লেজ়ার, ইনফ্রারেড ও লক্ষ্য স্থির করার ক্ষমতা
• লেজ়ার-চালিত হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র, ৭০ মিলিমিটার রকেট, ৩০ মিলিমিটার স্বয়ংক্রিয় কামান
• প্রয়োজনে মিনিটে ২৮০০ ফুট উচ্চতায় উঠে যেতে পারে 

একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে পারে এমন হেলিকপ্টারগুলির মধ্যে অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ই অন্যতম। আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের বায়ুসেনা ওই হেলিকপ্টার ব্যবহার করে। এই কপ্টারের ডিজিটাল ককপিট রয়েছে। শত্রুপক্ষকে নিশানা করে অ্যাপাচে মিনিটে ১২৮ বার গুলি ছুড়তে পারে। এতে হাইড্রো রকেট ছোড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এয়ার-টু-এয়ার স্ট্রিংগার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তেও সক্ষম এই হেলিকপ্টার। এটি মিনিটে ২,৮০০ ফুটের বেশি উচ্চতায় উড়তে পারে।