বালাকোট অভিযান এবং সেই ঘটনার পর পরই পাক বিমানবাহিনীর হামলার যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য ভারতীয় বায়ুসেনার ৫১ ও ৯ স্কোয়াড্রন এবং ৬১ সিগন্যাল ইউনিটকে সম্মানিত করবেন নবনিযুক্ত বায়ুসেনা প্রধান আরকেএস ভাদৌরিয়া। ৫১ স্কোয়াড্রনের গ্রুপ কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন সতীশ পওয়ার এই সম্মান গ্রহণ করবেন বলে বায়ুসেনা সূত্রে খবর।

বালাকোটে জইশ ঘাঁটি ধ্বংসে মুখ্য ভূমিকা ছিল বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন ৯-এর। এই স্কোয়াড্রনের মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে জইশ ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করে। নিখুঁত ভাবে অভিযান চালানোর জন্য এই স্কোয়াড্রনকেও সম্মানিত করা হবে।  অন্য দিকে, গোটা অভিযানে বায়ুসেনার ৬১ সিগন্যাল ইউনিটের ভূমিকাও ছিল অনস্বীকার্য। পাক বায়ুসেনার বিমান হামলা চালাতে আসছে, এই সঙ্কেতটাই তারা পৌঁছে দিয়ে সতর্ক করেছিল বায়ুসেনাকে। তাদের এই ভূমিকার জন্য পুরস্কৃত করা হবে।   

বায়ুসেনার এই ৫১ স্কোয়াড্রনে ছিলেন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইকের পর নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারতীয় সেনার ক্যাম্পগুলোতে পাল্টা হামলা চালানোর জন্য পাকিস্তান থেকে কয়েকটি এফ ১৬, জেএফ ১৭ এবং মিরাজ ৬ উড়ে এসেছিল। কিন্তু সে চেষ্টা তত্পরতার সঙ্গে ব্যর্থ করে দেয় বায়ুসেনার মিরাজ ২০০০ এবং মিগ ২৯ বিমান।  তাদের মধ্যে একটিতে ছিলেন অভিনন্দন বর্তমান।

নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় থাকা পাক ফাইটারকে টার্গেট ‘লক ইন’ করে অভিনন্দনের বাইসন জেট। সেকেন্ডের মধ্যে মিগ-২১ থেকে আর-৭৩ এয়ার টু এয়ার মিসাইল আঘাত করে পাক ফাইটারকে। কিন্তু তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অভিনন্দনের মিগে আঘাত করে পাক জেটের গুলি। বিমান নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে রেডিও বার্তা দিয়েই ‘ইজেক্ট’ করে বিমানের বাইরে চলে আসেন তিনি। কিন্তু হাওয়ার গতি উল্টো দিকে থাকায় অভিনন্দনকে নিয়ে প্যারাশুট ভেসে যায় পাক অধিকৃত কাশ্মীরের দিকে। পাক অধিকৃত এলাকায় গিয়ে পড়েন অভিনন্দন। তার পরই তাঁকে গ্রেফতার করে পাক সেনারা।