পিছতে হবে না তো উত্‌ক্ষেপণের দিন? রবিবার পর্যন্তও এই আশঙ্কাটা ছিল ইসরোর বিজ্ঞানীদের। তবে সে সব আশঙ্কা কাটিয়েই সোমবার নির্ধারিত সময়ে উত্‌ক্ষেপণ করা হল ‘এমিস্যাট’ উপগ্রহের। এ দিন সকাল ৯.২৭ মিনিটে  অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে ‘এমিস্যাট’ এবং আরও ২৮টি ছোট কৃত্রিম উপগ্রহকে নিয়ে মহাকাশে পাড়ি দেয় পিএসএলভি সি-৪৫ রকেট। এটা ছিল পিএসএলভি-র ৪৭তম অভিযান এবং শ্রীহরিকোটার ৭১তম উত্‌ক্ষেপণ মিশন।

এমিস্যাট-এর সফল উত্‌ক্ষেপণের পরই ডিআরডিও অধিকর্তা জি সতীশ রেড্ডি বলেন, “আমি খুব খুশি ভারত সাফল্যের সঙ্গে মহাকাশে দু’টি কৃতিত্ব অর্জন করেছে। প্রথমটা মিশন শক্তির আওতায় এ-স্যাটের সফল উত্‌ক্ষেপণ। আর দ্বিতীয়টা হল হল এমিস্যাট। এই মিশনও সফল হল।”

এ-স্যাট উত্‌ক্ষেপণের পর একটা আশঙ্কা ঘিরে ধরেছিল ইসরোর বিজ্ঞানীদের। এমিস্যাট উত্‌ক্ষেপণ করা যাবে তো? কেননা, এ-স্যাট যে মাইক্রোস্যাটকে ধ্বংস করেছিল তার টুকরোগুলো কক্ষপথেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়। ৩০০-রও বেশি। আর এটাই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল ইসরোর বিজ্ঞানীদের। তাঁরা জানিয়েছেন, পিএসএলভি-র পথে ওই টুকরোগুলোর কোনও একটি এসে গেলে সংঘর্ষ হতে পারে। এবং তাতে পুরো মিশনটাই বিফলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে রবিবার পর্যন্ত যে দুশ্চিন্তার মেঘ ছিল ইসরোর অন্দরে, সোমবার এমিস্যাট-এর সফল উত্‌ক্ষেপণে এক গিয়েছে সেই লহমাতেই সরে মেঘ।

আরও পড়ুন: রাতভর গুলির লড়াই, পুলওয়ামায় ৪ লস্কর জঙ্গিকে খতম করল সেনা

আরও পড়ুন: দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯      

শত্রু দেশের রেডারের উপর নজরদারি চালাবে ‘এমিস্যাট’। গত ২৭ মার্চ  পৃথিবীর ৩০০ কিলোমিটার উপরের একটি কক্ষপথে থাকা নিজেদেরই কাজ না করা ‘মাইক্রোস্যাট’ উপগ্রহকে এ-স্যাট ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ধ্বংস করেছিলেন ডিআরডিও-র বিজ্ঞানীরা। তার ঠিক পাঁচ দিন পরেই রেডার নজরদারি উপগ্রহ এমিস্যাট-এর সফল উত্‌ক্ষেপণ নিঃসন্দেহে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করল বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

৪৩৬ কিলোগ্রাম ওজনের এই ‘এমিস্যাট’ উপগ্রহ শত্রু দেশের রেডারের উপর নজরদারির চালানোর পাশাপাশি রেডারের অবস্থানও জানাবে। এত দিন পর্যন্ত ভারত এ কাজে নজরদারি চালানোর জন্য বাহিনী তাদের বিমান ব্যবহার করত। কিন্তু এ বার থেকে এমিস্যাট-ই এই নজরদারি চালাবে।