ক্ষমতায় এলেই দরিদ্রতম ২০ শতাংশকে বছরে ৭২ হাজার টাকা, প্রতিশ্রুতি রাহুলের
সোমবার দেশের সমস্ত মানুষের কাছে এই নয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
Rahul Gandhi

সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী।

লোকসভা নির্বাচনের দোরগড়ায় এসে নরেন্দ্র মোদীকে চাপে ফেলে দিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী!

ক্ষমতায় এলে গরিবদের জন্য ন্যূনতম আয় নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি আগেই দিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী। এ বার সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দিলেন, ক্ষমতায় এসেই দেশের সবথেকে গরিব ২০ শতাংশ মানুষের অ্যাকাউন্টে বছরে ৭২,০০০ টাকা দেবে তাঁর সরকার। সোমবার দেশের সমস্ত মানুষের কাছে এই নয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

এ দিন নয়াদিল্লিতে একটি সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি। সেখানে তিনি জানান, দারিদ্রসীমার নীচে রয়েছেন এমন ২০ শতাংশ মানুষের অ্যাকাউন্টে বছরে ৭২ হাজার টাকা দেবে সরকার। এর ফলে ৫ কোটি পরিবার উপকৃত হবেন। দেশের ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার উপরে উঠে আসবেন। এই টাকা সরাসরি ওই সমস্ত মানুষের অ্যাকাউন্টে চলে আসবে।

আরও পড়ুন: বেহালার জন্য আলাদা কর্মী সম্মেলনে তৃণমূল, আজও যাচ্ছেন না শোভন

রাহুল গাঁধীর ন্যূনতম আয়ের ঘোষণায় প্রথম থেকেই সরব বিজেপি। মাস দুয়েক আগে এর বিরোধিতায় নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান রাজীব কুমারকে আসরে নামায় মোদী সরকার। এক সাক্ষাৎকারে রাজীব কুমার দাবি করেন, রাহুলের এই প্রকল্প বাস্তবে কার্যকর হওয়া সম্ভব নয়। কারণ প্রকল্প কার্যকর করার মতো কোষাগারে জোর ও তথ্য সরকারের নেই। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তে রাহুল গাঁধীর এই নয়া প্রতিশ্রুতি নরেন্দ্র মোদীকে আরও চাপে ফেলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

রাহুল গাঁধী এই নয়া প্রকল্পের নাম দিয়েছেন ‘ন্যায়’। প্রিয়ঙ্কা গাঁধী যখন আমদাবাদে কংগ্রেস নেতাদের আলোচনা সভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন, তখনই ন্যূনতম আয় প্রকল্পের নামকরণ করেছিলেন ‘ন্যায়’। যার অর্থ সুবিচার। রাহুল এ দিন বলেন, ‘‘একবিংশ শতাব্দীতেও দেশে গরিবের উপস্থিতি কংগ্রেস কখনও সমর্থন করে না। দারিদ্র দূরীকরণের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘সত্যিই এটা সম্ভব। আমরা গত ৪-৫ মাস ধরে এই প্রকল্পটা নিয়ে পড়াশোনা করেছি। আমরা এমজিএনরেগা (মহাত্মা গাঁধী জাতীয় গ্রামীন রোজগার সুনিশ্চিত প্রকল্পের)-র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। প্রতিশ্রুতি রেখেছিও। এ বার আমরা গরিবদের জন্য সুবিচার চাই।’’ এটা অত্যন্ত ‘শক্তিশালী’, ‘প্রগতিশীল’ এবং ‘সুচিন্তিত’ একটা প্রকল্প, দাবি রাহুলের।

এমনিতেই নোটবন্দি, বেকারত্ব নিয়ে মোদীকে সারাক্ষণ বিঁধে চলেছেন রাহুল। আসন্ন লোকসভার প্রচারে এ বার রাহুল গাঁধীর অন্যতম হাতিয়ার হতে চলেছে এই ‘ন্যায়’।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত