কাজ না করলে নকুলের জামা ছিঁড়ে নেবেন! ছেলের প্রচারে গিয়ে বললেন কমল নাথ
জনসভায় ছিন্দওয়াড়ার সঙ্গে নিজের ৪০ বছরের সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে কমল নাথ বলেন, ‘‘এই ছিন্দওয়াড়া সারা দেশের কাছে আলাদা পরিচয় পেয়েছে, কারণ এখানকার উন্নয়ন।’’
Kamal Nath

ভোটপ্রচারে অভিনব কৌশল কমল নাথের। —ফাইল চিত্র

ভোটের আগে হাজারো প্রতিশ্রুতি নিয়ে দরজায় হাজির হন প্রার্থীরা। ভোটের পর সেগুলি কতটা পূরণ হয়, সে বিতর্কে না গিয়েও বলা যায়, সেই সব প্রতিশ্রুতিতে মাঝে মধ্যেই দেখা যায় নানা রকম অভিনবত্ব। এ বার সেই রকমই এক প্রতিশ্রুতি দিলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ। শনিবার ছিন্দওয়াড়ায় প্রচার সভায় গিয়ে কংগ্রেস নেতা বললেন, ‘‘আমার ছেলে প্রতিশ্রুতি পূরণ না করলে ওর জামা-কাপড় টেনে ছিঁড়ে দেবেন।’’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরাসরি প্রতিশ্রুতি না হলেও ঘুরিয়ে কার্যত সেটাই করলেন ছিন্দওয়াড়ার ন’বারের সাংসদ।

১৯৮০ সাল থেকে ছিন্দওয়াড়া লোকসভা কেন্দ্রে ভোটে লড়ছেন কমল নাথ। ১৯৯৬ সালের লোকসভা ভোট এবং তার পরের বছর উপনির্বাচনে হেরে যাওয়া ছাড়া আর কখনও তিনি পরাজিত হননি। মোট ন’বার এই ছিন্দওয়াড়া কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন। কয়েক মাস আগেই বিপুল ভোটে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। তাই সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এ বার লোকসভা ভোটে সেই ছিন্দওয়াড়া কেন্দ্র ছেড়েছেন ছেলে নকুলের জন্য। ছিন্দওয়াড়া কেন্দ্রে প্রথমবার প্রার্থী হওয়া নকুলের সমর্থনেই শনিবার ধানোরা গ্রামে একটি নির্বাচনী সভায় যোগ দেন কমল নাথ।

জনসভায় ছিন্দওয়াড়ার সঙ্গে নিজের ৪০ বছরের সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে কমল নাথ বলেন, ‘‘এই ছিন্দওয়াড়া সারা দেশের কাছে আলাদা পরিচয় পেয়েছে, কারণ এখানকার উন্নয়ন।’’ সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতেই ছেলে নকুলের হয়ে ভোট দেওয়ার আর্জি জানান মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু ভোট দেওয়ার পর যদি ছেলে তাঁর নিজের মতো কাজ না করেন? প্রশ্নটা নিজে তুলে জবাবও দিয়েছেন নিজেই। বলেছেন, ‘‘নকুল শুধু আজ নয়, সব সময় আপনাদের পাশে থাকবে। আমিই তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছি। তাঁকে দিয়ে কাজ করান। যদি দায়িত্ব পালন না করে, ওঁর জামা-কাপড় টেনে ছিঁড়ে দেবেন।’’

আরও পডু়ন: ঘণ্টাকয়েকের মধ্যেই ফের বিস্ফোরণ শ্রীলঙ্কায়, আট বিস্ফোরণের বলি অন্তত ১৮৫, দেশজুড়ে কার্ফু

আরও পড়ুন: আমি ইন্দিরা গাঁধী নই, তবে তাঁর মতো কাজ করতে চাই: প্রিয়ঙ্কা

এই ছিন্দওয়াড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই আবার উপনির্বাচনেও লড়ছেন কমল নাথ নিজে। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটে না জিতে মুখ্যমন্ত্রী হলে ছ’মাসের মধ্যে কোনও কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে জিতে আসতে হয় তাঁকে। মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর সেটাই হয়েছিল। ছিন্দওয়াড়া বিধানসভা কেন্দ্রের উপ নির্বাচন হচ্ছে লোকসভা ভোটের সঙ্গেই।

এই সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে কমল নাথ বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মোদী। কিন্তু সেটা পূরণ হয়নি। কালো টাকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, নোটবন্দি— এ সবই ছিল মোদীর গিমিক এবং প্রতারণা।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ওঁরা চেঁচায়, আমরা কাজ করি। কিন্তু আপনারাই বলুন, ওঁরা আপনাদের জন্য কিছু করেছে?’’

 

 

 

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত