লোকসভা নির্বাচনের আজ দ্বিতীয় দফা
বিধিভঙ্গের অভিযোগে ভেলোরের ভোট বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। ত্রিপুরায় ভোট পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ২৩ এপ্রিলে।
vote

প্রতীকী ছবি।

লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্যায়ে আজ, বৃহস্পতিবার ভোট হবে ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরির মোট ৯৫টি আসনে। একই সঙ্গে বিধানসভা ভোট হবে ওড়িশার ৩৫টি এবং তামিলনাড়ুর ১৮টি আসনে। এ দিনই ভোট হওয়ার কথা ছিল তামিলনাড়ুর ভেলোর এবং ত্রিপুরার পূর্ব ত্রিপুরা আসনে। কিন্তু বিধিভঙ্গের অভিযোগে ভেলোরের ভোট বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। ত্রিপুরায় ভোট পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ২৩ এপ্রিলে। 

পশ্চিমবঙ্গে আজ ভোট জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং রায়গঞ্জ— উত্তরবঙ্গের এই তিন আসনে। সেখানে অন্য সব বিষয়কে ছাপিয়ে সামনে চলে এসেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রসঙ্গ। তিন কেন্দ্রের কোথায় কত কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে, এই নিয়ে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ধোঁয়াশা ছিল। শেষে কমিশন সূত্রে এই সংক্রান্ত তথ্য জানানো হয়। বলা হয়, তিন কেন্দ্রে মোতায়েন হচ্ছে মোট ১৭৯ কোম্পানি বাহিনী। জলপাইগুড়িতে ৪৯ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে। রায়গঞ্জে থাকবে ৬৪ কোম্পানি এবং দার্জিলিং কেন্দ্রের জন্য রাখা হচ্ছে ৬৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এ ছাড়া, স্ট্রংরুম পাহারার জন্য ৬ কোম্পানি টহলদারির জন্য ৩ কোম্পানি এবং রিজার্ভে এক কোম্পানি বাহিনী রাখা হবে। 

এরই মধ্যে উত্তর দিনাজপুরের কয়েকটি জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন নেই, এই প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখানো হয়। একই অভিযোগ তোলা হয় বিরোধী দলগুলির তরফেও। তবে কমিশন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, আজ, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণই হবে।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

বাহিনীর দাবিতে এ দিন সব থেকে বেশি উত্তপ্ত হয় উত্তর দিনাজপুর জেলা। এই জেলার বেশির ভাগটাই রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে এই জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের কমলাবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের আব্দুলঘাটা প্রাথমিক স্কুল, ছত্রপুর প্রাথমিক, ছটপড়ুয়া এলাকার একটি বুথ ও ইসলামপুর ব্লকের গাইসাল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের গাইসাল প্রাথমিক স্কুলের বুথে বিক্ষোভ চলে। 

দুর্গম: দার্জিলিঙের শ্রীখোলার কাছে ভারত-নেপাল সীমান্তে রাজ্যের সর্বোচ্চ (প্রায় ৯,২০০ ফুট) ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার সেখানে ভোট। বুধবার ঘোড়ার পিঠে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। ছবি: এএফপি।

কেন্দ্রীয় বাহিনী না আসায় বুধবার রাতে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের ছটপড়ুয়ার বুথে তালা ঝুলিয়ে দেন বাসিন্দারা। নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় রাতেই ওই কেন্দ্রের আব্দুলঘাটা প্রাথমিক স্কুলের একটি বুথ থেকে ইভিএম নিয়ে ভোটকর্মীরা ফিরে গিয়েছেন। এ দিন বিকেলেই ওই বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিতে বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। 

তাঁদের বক্তব্য, গত বছর পঞ্চায়েত ভোটের সময়ে রায়গঞ্জে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘুরতে দেখা গিয়েছে দুষ্কৃতীদের। সেই সময়ে চোপড়ার লক্ষ্মীপুর, দাসপাড়া এলাকায় (যা দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে) রাজনৈতিক সংঘর্ষও হয়েছে। ভোটকর্মীদের বক্তব্য, এই জেলায় (বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের ইটাহারে) ভোটের কাজে এসেই নিখোঁজ হয়েছিলেন রাজকুমার রায়। পরে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। 

এই উদাহরণগুলি তুলে রাজনৈতিক নেতানেত্রীরাও বলছেন, জেলা জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া ভোটারদের সেই আতঙ্ক কাটবে না। বিজেপির জেলা সভাপতি নির্মল দামের দাবি, গত পঞ্চায়েত ভোটে ছত্রপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে সন্ত্রাস চালিয়ে তৃণমূল ভোট লুট করেছিল। লোকসভা নির্বাচনে ভোট লুট রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে বাসিন্দারা আন্দোলন করেছেন।

কংগ্রেস প্রার্থী দীপা দাশমুন্সি বলেন, ‘‘মানুষ অতীত অভিজ্ঞতার আতঙ্ক ভুলতে পারছে না। বাহিনী না হলে তারা বিপদের আশঙ্কা করছে।’’ তিনি জানান, বিকেলের পর থেকে বহু জায়গায় বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিমও জানান, রাজ্য পুলিশের উপর ভরসা নেই। বাহিনীর দাবিতে ঝামেলা হয়েছে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জেও। সেখানে বাহিনী না এলে ভোট করতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করছেন বাসিন্দারা। এ দিন জলপাইগুড়িতে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবের বৈঠকেও বাহিনীর প্রসঙ্গ ওঠে। কমিশন সূত্রের খবর, পুলিশ সুপারকে বিবেক প্রশ্ন করেন, বাহিনী মোতায়েনে কেন দেরি হয়েছে? তাঁর জবাবে বিবেক সন্তুষ্ট নন বলেও জানা গিয়েছে। তবে কমিশন সূত্রে আশ্বাস, বৃহস্পতিবার সকালে ভোটগ্রহণ হলে সব বিক্ষোভ কেটে যাবে। কোথাও গোলমাল হবে না। সমস্যা রয়েছে অন্যত্রও। দার্জিলিং কেন্দ্রের মিরিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ে সমস্যা রয়েছে। তা মেটাতে বিএসএনএলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। দেশের অন্যত্রও নির্বাচন নির্বিঘ্নে করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন। তাদের মাথাব্যথা কাশ্মীর উপত্যকার শ্রীনগর কেন্দ্রের ভোট। জম্মুর উধমপুর কেন্দ্রেও আজ ভোটগ্রহণ হবে।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত