এক দশক আগের আয় বহির্ভূত সম্পত্তি মামলা। তা নিয়ে নির্বাচনের আগে বিপাকে অখিলেশ যাদব এবং মুলায়ম সিংহ যাদব। মামলার তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, তার রিপোর্ট চেয়ে সিবিআইকে নোটিস দিল সুপ্রিম কোর্ট। তাতে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

২০০৫ সালে অখিলেশ ও মুলায়মের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে ওই মামলা দায়ের হয়। সোমবার সেই সংক্রান্ত একটি আবেদনের শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ও বিচারপতি দীপক মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চে, যাতে এতদিনের তদন্তের রিপোর্ট শীর্ষ অথবা নিম্ন আদালতে জমা দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছিল। সেখানে সিবিআইয়ের কাছে জানতে চায় শীর্ষ আদালত, ‘‘এই মুহূর্তে তদন্তের কী অবস্থা?  ২০০৭ সালে একটি রিপোর্ট জমা পড়েছিল। তার পর থেকে কতদূর এগনো গেল? কোনও অভিযোগ আদৌ নথিভুক্ত হয়েছে কি?’’

দু’সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে বলা হলে, তাতে আপত্তি তোলেন মুলায়ম সিংহ যাদবের আইনজীবী। ইচ্ছাকৃত ভাবে লোকসভা নির্বাচনের আগে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। জবাবে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, ‘‘আবেদন কোন সময়ে জমা পড়েছে তাতে কিছু যায় আসে না। এতদিনে তদন্ত কতদূর এগিয়েছে তা জানতে চাই আমরা।’’

আরও পড়ুন: ক্ষমতায় এলেই ৫ কোটি গরীবের অ্যাকাউন্টে বছরে ৭২,০০০ টাকা! প্রতিশ্রুতি রাহুলের​

আরও পড়ুন: বেহালার জন্য আলাদা কর্মী সম্মেলনে তৃণমূল, আজও যাচ্ছেন না শোভন​

১৯৮৯-৯১, ১৯৯৩-১৯৯৫ এবং ২০০৩-০৪ সাল পর্যন্ত মোট তিনদফায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মুলায়ম। ২০০০ সালে প্রথমবার লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হন তাঁর ছেলে অখিলেশ। সেই সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাবা-ছেলে ১০০ কোটির বেশি সম্পত্তি হাতিয়েছিলেন বলে ২০০৫ সালে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন পেশায় আইনজীবী তথা সমাজকর্মী বিশ্বনাথ চতুর্বেদী। আয় বহির্ভূত সম্পত্তি মামলায় মুলায়ম সিংহ যাদব, অখিলেশ যাদব, তাঁর স্ত্রী ডিম্পল যাদব ও ভাই প্রতীক যাদবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে তদন্তের আর্জি জানান। যার পর ২০০৭ সালে সিবিআই-কে তদন্ত শুরু করতে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে আবার আদালত ডিম্পল যাদবকে বাদ দিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। কিন্তু আজ পর্যন্ত যাদব পরিবারের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের তরফে কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি। তাতে মামলার ক্ষতি তো হয়েইছে, সিবিআই-এর ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল।