প্রয়োজনীয় পাম্প ও অন্য সামগ্রী এসে না পৌঁছনোয় মেঘালয়ের কসান কয়লা খনির দ্বিতীয় দফার উদ্ধার অভিযান আজও পুরোদমে শুরু করা গেল না। নৌসেনার দক্ষ ডুবুরিবাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডুবুরি ছাড়াও কোল ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞ দল এবং পশ্চিমবঙ্গের মহাবীর কোলিয়ারিতে আটক ৬৫ জন শ্রমিকের উদ্ধারকারী খনি বিশেষজ্ঞ, কোল ইন্ডিয়ার প্রাক্তন কর্তা যশবন্ত সিংহ গিল—সকলেই আজ সকাল থেকে কসান খনিতে দ্বিতীয় দফার উদ্ধার অভিযানে নামেন। জলের তলায় ঠিক কতজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 

প্রথম পর্বে রাজ্যের ২টি ২৫ হর্সপাওয়ারের পাম্প দিয়ে সুড়ঙ্গের জমা জল বের করা যায়নি। ঘটনার তিন দিন পরই গিল সেখানে যান। আজ সকাল থেকে ফের তিনি উদ্ধার কাজের তদারকিতে নামেন। গিল বলেন, ‘‘পাশের নদীর জলতল গুহা থেকে ১৩ মিটার উঁচুতে। তবে এখন আর জল নতুন করে কসানের পিট-এ ঢুকছে না। আগামীকাল থেকে পাম্প করে জল বের করতে থাকলে গুহায় নামা সম্ভব হবে।’’ তিনি জানান, তবে তার জন্য দরকার ১০০ হর্স পাওয়ারের পাম্প। আসানসোল ও ধানবাদ থেকে কোল ইন্ডিয়া উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প নিয়ে আসছে। তা আজ সন্ধ্যায় মেঘালয়ে পৌঁছবে। ইতিমধ্যেই কির্লোস্কার কোম্পানি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প-সহ একটি উদ্ধারকারী দল কসানে পাঠিয়েছে। 

নৌবাহিনীর ডুবুরিরা ডাইভিং সরঞ্জাম, রি-কমপ্রেসন চেম্বার ও জলের তলায় সন্ধান চালাতে পারে এমন দূর-নিয়ন্ত্রিত যান নিয়ে অভিযানে এসেছেন। যদিও গিলের মতে, এই পর্বে এসে নৌসেনার ওই অভিযান তেমন কাজে লাগবে না। তিনি বলেন, ‘‘রানিগঞ্জের কয়লাখনিতে ছিল সেফটি চেম্বার। তাই শ্রমিকরা সেখানে আশ্রয় নিতে পেরেছিলেন। তাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া খুদে ফুটবলারদের ক্ষেত্রেও গুহার ফাঁকা অংশে আশ্রয় নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু কসানের কয়লা গহ্বরে তেমন কোনও আশ্রয়স্থল থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ।’’