গত লোকসভা ভোটের সময়ে আরএসএসকে সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ২০১৯-এর ভোটের আগে তার ‘মধুর প্রতিশোধ’ নিতে সক্রিয় আরএসএস। রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে এ বারে মোদীকে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে মরিয়া সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত।

নানা সমস্যায় জেরবার মোদী এখন সংঘাত এড়িয়ে নাগপুরের শরণাপন্ন হয়েছেন। সঙ্ঘ সূত্র বলছে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং সাধু সংসদের সঙ্গে বৈঠক করে মোহন ভাগবত মোদীকে ‘চূড়ান্ত সময়সীমা’ দিয়েছেন যে, নভেম্বরেই অধ্যাদেশ এনে ৬ ডিসেম্বর থেকে মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে। কিন্তু অরুণ জেটলি, রাজনাথ সিংহের মতো নেতারা জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান না দেখে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে নন। তা ছাড়া, বাবরি মসজিদ ভাঙার ২৬ বছর পরে রামমন্দির ইস্যু কার্যত মৃত বলেই মনে করছেন বিজেপির একাংশ। 

কিন্তু সঙ্ঘ মনে করছে, নানা বিষয়ে চাপে থাকা মোদীর কাছে রাম ছাড়া পথ নেই। অর্থনীতির অবস্থা খারাপ। ক্রমবর্ধমান বেকারি। সিবিআই, আরবিআইয়ের মতো সংস্থায় ডামাডোল। রাহুল গাঁধী রাফাল নিয়ে প্রচারকে যে ভাবে গোটা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তাতে মন্দিরের মতো বিষয় নিয়ে ঝাঁপানো ছাড়া পথ নেই। ভাগবত সম্প্রতি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁরাও ভাগবতের এই মতের পক্ষে।আর এটাকেই কাজে লাগিয়ে মোদীকে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইছে সঙ্ঘ। ২০১৪ সালের আগে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বাছাইয়ের প্রশ্নে আরএসএসের প্রথম পছন্দ ছিলেন নিতিন গডকড়ী। মোদী আরএসএসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন না বলেই তাঁর ব্যাপারে আপত্তি ছিল। কিন্তু কর্মীদের দাবি সে সময় মানতে হয়েছিল আরএসএসকে।  

আরও পড়ুন: মন্দির চাই, তারও আগে মোদীকে চাই, বলছে সন্ত সমিতি

সাড়ে চার বছরে সেই পরিস্থিতি বদলাতেই রাশ হাতে নিয়েছে সঙ্ঘ। এখন তাদের অন্যতম অস্ত্র যোগী আদিত্যনাথ। যোগীকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চাননি মোদী, চায়নি সঙ্ঘও। কিন্তু এখন তাঁকেই কাজে লাগাচ্ছে আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, সাধু সংসদ। 

সম্প্রতি লখনউয়ে যোগীর সঙ্গে দেখা করেন মোদীর সেনাপতি অমিত শাহ। তার পরেই আরএসএস আইন করে মন্দির নির্মাণের দাবি তুলেছে। যোগীও বিরাট রাম মূর্তি নির্মাণের ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণার আগে মোদীর মতামতের তোয়াক্কাই করেননি তিনি। সঙ্ঘের অন্দরে অনেকেই বলছেন, মোদীর পটেল মূর্তির পাল্টা হিসেবেই রাম মূর্তি নিয়ে সুর চড়াচ্ছেন যোগী। সঙ্ঘের প্রশ্রয়ে এই ঠাকুর নেতার চড়া সুর মোদী-অমিত শাহের চিন্তা বাড়াচ্ছে। 

আরও পড়ুন: বিশুদ্ধ রাম নামই ভোটে অস্ত্র কম্পিউটার বাবার

মোদী-শাহের চিন্তা রয়েছে গডকড়ীকে নিয়েও। ভাগবত এখনও গডকড়ীর উপরে বেশি নির্ভরশীল। প্রতি সপ্তাহে নিতিন নাগপুরে গিয়ে ভাগবতের সঙ্গে দেখা করেন। বিজেপি সূত্র বলছে, সম্প্রতি ভাগবত বিদেশে গিয়েছিলেন অনাবাসী ও প্রবাসী সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করতে। তিনি গডকড়ীকে সঙ্গে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকারি কাজের যুক্তি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর নিতিনকে বিদেশে যাওয়ার ছাড়পত্র দেয়নি। তাতে আরএসএস অখুশি। সঙ্ঘের এই ক্ষোভ নিঃসন্দেহে মোদী-অমিত শাহের কাছে অস্বস্তির।

কিন্তু উপায়ও যে নেই! সঙ্ঘের রাম-চাপে দিশেহারা মোদীরা।