প্রধানমন্ত্রী হয়েও গুজরাত দাঙ্গার কাঁটায় মাঝেমধ্যেই বিদ্ধ হতে হয় নরেন্দ্র মোদীকে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু নতুন করে সেই ‘খোঁচা’ দিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ীর ‘রাজধর্ম’ প্রসঙ্গ টেনে। দিল্লিতে অনশনে বসে তেলুগু দেশম পার্ট (টিডিপি) সুপ্রিমোর কটাক্ষ, ‘‘অন্ধ্রকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার প্রশ্নেও রাজধর্ম পালন করছেন না মোদী।’’ চন্দ্রবাবুর আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন রাহুল গাঁধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফারুক আবদুল্লা, মুলায়ম সিংহ যাদবের মতো নেতা-নেত্রীরা। অন্য দিকে শিবসেনার দূত হিসেবে অনশন মঞ্চে সঞ্জয় রাউত উপস্থিত হওয়ায় অন্য মাত্রা নিয়েছে চন্দ্রবাবুর আন্দোলন। 

রবিবারই অন্ধ্রপ্রদেশে গিয়ে জনসভায় চন্দ্রবাবুর বিরুদ্ধে এক গুচ্ছ তোপ দেগে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রের টাকা নয়ছয়, জনগণের টাকায় দলের প্রচারের মতো একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ করেন অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রীকে। আর তার পরের দিন সোমবারই দিল্লিতে অনশনে বসে পড়লেন চন্দ্রবাবু। রাজ্য ভাগ হওয়ার সময় অন্ধ্রকে ‘বিশেষ মর্যাদা’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পালন করেনি মোদী সরকার।

বস্তুত, এই  প্রতিশ্রুতিভঙ্গের অভিযোগ তুলেই গত বছরের গোড়ার দিকে এনডিএ থেকে বেরিয়ে আসে দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী টিডিপি। তার পর থেকেই বিজেপি তথা মোদী-অমিত শাহদের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত টিডিপি প্রধান। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলিকে একজোট করার প্রচেষ্টা চলছিলই। জোট ছেড়ে বেরিয়েই সেই প্রচেষ্টায় অগ্রগণ্য ভূমিকা নেন চন্দ্রবাবু। মূলত তিনিই রাজ্যে রাজ্যে গিয়ে মহাজোটের দৌত্য করছেন।

আরও পডু়ন: প্রিয়ঙ্কা ময়দানে নামতেই নতুন ভাবনা অখিলেশ-মায়াবতীর, যাচ্ছে ‘সমঝোতা’র প্রস্তাব!

২০০২ সালে গুজরাত দাঙ্গার সময় সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রেও ক্ষমতায় ছিল বিজেপি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল  বিহারী বাজপেয়ী গুজরাত দাঙ্গা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘রাজধর্ম’ পালন করছেন না নরেন্দ্র মোদী। অনশনরত চন্দ্রবাবু এ দিন সেই প্রসঙ্গই টেনে এনে বলেন, ২০১৪ সালের জুনে অন্ধ্র ভেঙে তেলঙ্গানা তৈরি হওয়ার সময় কেন্দ্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, অন্ধ্রকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দিয়ে আর্থিক প্যাকেজ-সহ বহু ক্ষেত্রে সাহায্য করা হবে। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই ‘রাজধর্ম’ আর পালন করেননি মোদী।

চন্দ্রবাবু বলেন, ‘‘গুজরাত দাঙ্গার সময় বাজপেয়ী বলেছিলেন, গুজরাতে রাজধর্ম পালন করা হচ্ছে না। অন্ধ্রের ক্ষেত্রেরও রাজধর্ম মানছেন না মোদী। আমাদের যেটা অধিকার, সেটা অস্বীকার করা হচ্ছে। আপনি না দিলে কীভাবে অধিকার আদায় করতে হয়, তা আমরা জানি।’’

আরও পড়ুন: দুর্নীতি বিরোধী শর্তই বাদ দেওয়া হয়েছিল! রাফাল নিয়ে ফের বিপাকে মোদী সরকার

রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গাঁধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ রাজধানীতে অন্ধ্র ভবনের সামনে এক দিনের অনশনে বসেন চন্দ্রবাবু। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দলের সাংসদ-নেতা-মন্ত্রীরা। সেখানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে সমর্থন এবং পাশে থাকার বার্তা দিয়ে আসেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী, ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লার মতো নেতারা। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় সমর্থন জানিয়েছে অধিকাংশ বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীরা। সেখানে রাহুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেখানেই যান, মিথ্যে কথা বলেন। অন্ধ্রে গিয়ে বলেছেন, উত্তর-পূর্বেও বলে এসেছেন। মোদীর কোনও বিশ্বাসযোগ্যতাই অবশিষ্ট নেই।’’ তৃণমূল সূত্রে খবর, পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন দলনেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অন্য দিকে এনডিএ-র শরিক শিবসেনাও চন্দ্রবাবুর আন্দোলনকে সমর্থন করেছে। দলের পক্ষ থেকে এদিন অনশন মঞ্চে যান সঞ্জয় রাউত। আগামিকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতিকে একটি দাবিপত্রও পেশ করবেন চন্দ্রবাবু।

(ভারতের রাজনীতি, ভারতের অর্থনীতি- সব গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে আমাদের দেশ বিভাগে ক্লিক করুন।)