• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘কৃষি বিল নিয়ে মিথ্যা প্রচার চলছে’, মোদীর নিশানায় বিরোধীরা

PM Narendra Modi said, some forces trying to mislead farmers Over Agriculture Bills
কৃষকদের স্বার্থরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: পিটিআই।
কৃষিক্ষেত্রে সংস্কারের বিলকে ‘কৃষক-বিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করে বৃহস্পতিবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন শিরোমণি অকালি দলের নেত্রী হরসিমরত কউর বাদল। শুক্রবার সেই বিলের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলে দিলেন, ‘‘ঐতিহাসিক এই বিল কৃষকদের রক্ষাকবচ।’’ একটি শক্তি কৃষি বিল নিয়ে চাষিদের বিভ্রান্ত করছে অভিযোগ তুলে তাঁর মন্তব্য, ‘‘কৃষকেরা যাতে ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পান, তা নিশ্চিত করতে আমার সরকার দায়বদ্ধ।’’
 
অর্থাৎ, হরসিমরতের ইস্তফা মোদী এবং তাঁর সরকারকে টলাতে পারেনি।
 
বিহারে কোশী নদীর একটি সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে ভার্চুয়াল সভায় মোদী এদিন বলেন, ‘‘নানা ভুল তথ্য ও পরিসংখ্যান পেশ করে কৃষকদের উস্কে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বলা হচ্ছে, তাঁরা নাকি ফসলের ন্যায্য দাম পাবেন না! কিন্তু যাঁরা এটা করছেন, তাঁরা ভুলে যাচ্ছেন, আমাদের কৃষকেরা অনেক সচেতন।’’
 
লকডাউনের পরিস্থিতির মধ্যেই গত জুন মাসে কৃষিক্ষেত্রে সংস্কার সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ (অর্ডিন্যান্স) জারি করেছিল মোদী সরকার। প্রথম অধ্যাদেশটিতে পণ্য আইনে সংশোধন করে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, গম, ভোজ্যতেল, তৈলবীজ যত ইচ্ছে মজুত করার ছাড়পত্র দেওয়া হয়। দ্বিতীয় অধ্যাদেশে কৃষিপণ্যের ব্যবসায়ী, রফতানিকারী ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থাগুলি যাতে চুক্তির ভিত্তিতে চাষ করিয়ে সরাসরি চাষিদের থেকে ফসল কিনতে পারে, তার ব্যবস্থা করা হয়। তৃতীয় অধ্যাদেশটিতে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ও চাষিদের স্বার্থরক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়।
 
 
বিজেপি চাইছে, সংসদের চলতি বাদল অধিবেশনেই ওই তিনটি বিল পাশ করাতে। কিন্তু কংগ্রেস-সহ বিরোধী নেতৃত্বের অভিযোগ, তিনটি বিলই ‘কৃষকবিরোধী’। সেগুলিতে কৃষকদের স্বার্থ না দেখে শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখা হয়েছে। পাশাপাশি, কৃষিপণ্য কেনায় সরকারে ভূমিকাও কমানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে একই কথা বলেছেন বিজেপি-র সবচেয়ে পুরনো সহযোগী দলের নেত্রী হরসিমরত। বৃহস্পতিবার লোকসভায় বিলটি পেশের পরেই বিরোধীরা বিক্ষোভ শুরু করে। এনডিএ জোটের শরিক হরসিমরতের অকালি দলও প্রতিবাদে সামিল হয়। কিন্তু তারই মধ্যে ‘কৃষকদের (ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষা) ন্যায্যমূল্যের আশ্বাস ও বেসরকারি সংস্থা (ফার্ম) পরিষেবা বিল’ এবং ‘কৃষি উৎপাদন ও বাণিজ্য (প্রচার ও সুবিধা প্রদান) সংক্রান্ত বিল’ পাশ করিয়ে নেয় সরকার।
 
 
মোদী এদিন বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ করে বলেন, ‘‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে প্রচার করা হচ্ছে, সরকারি সংস্থাগুলি আর কৃষকদের থেকে চাল-গম কিনবে না। এই প্রচার পুরোপুরি মিথ্যা। দেশের কৃষকদের কাছে আমার আবেদন, আপনারা গুজবে কান দেবেন না। বিভ্রান্ত হবেন না। যাঁরা আপনাদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে, তাঁদের থেকে সাবধান থাকুন।’’
 
ইতিমধ্যেই পঞ্জাব-সহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নয়া কৃষি বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। হরিয়ানায় বিজেপি জোটের সরকারের উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা জেজেপি’র প্রধান দুষ্মন্ত চৌটালাও বিলের সমালোচনা করেছেন। বিহারে বিধানসভা ভোটের আগে কৃষি বিলের বিরোধিতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চাইছে বিরোধীরা। এই আবহে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা আক্রমণের রাস্তায় হেঁটে বিরোধীদের মোকাবিলার কৌশল নিলেন বলেই রাজনীতির কারবারিদের একাংশ মনে করছেন।
 
 
প্রসঙ্গত, মোদী সরকারের প্রথম দফাতেই মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান-সহ বিভিন্ন রাজ্যে কৃষিঋণ মকুব-সহ একাধিক দাবি নিয়ে পথে নেমেছিলেন কৃষকেরা। দেশজুড়ে বাড়তে থাকা কৃষক অসন্তোষ প্রশমিত করতে গত বছর লোকসভা ভোটের আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে ‘প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মাননিধি’ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ২০২২ সালের মধ্যে দেশের কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হবে। কিন্তু করোনা-কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন