Advertisement
E-Paper

‘আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে বসা সব জঙ্গিগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে স্পষ্ট পদক্ষেপ চাই’! পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ চিনের

পাকিস্তানের আফগান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় তালিব বিদ্রোহীরা। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামে ওই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রায়শই সংঘর্ষ লেগে থাকে পাকিস্তানের সেনা এবং আধাসেনা বাহিনীর।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪৬
(বাঁ দিকে) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে এ বার আফগানিস্তানের উদ্দেশে বার্তা দিল চিনও। আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ সাম্প্রতিক সময়ে বার বার তুলেছে পাকিস্তান। এ বার সেই অভিযোগকেই একপ্রকার সমর্থন করল চিন।

রবিবারই পাকিস্তানি বিদেশমন্ত্রী তথা উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। তার পরেই এই যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করল বেজিং এবং ইসলামাবাদ। বিবৃতিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বার্তার পাশাপাশি উঠে এসেছ আফগানিস্তানের প্রসঙ্গও। পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে চিন জানিয়েছে, আফগানিস্তানের মাটিতে ঘাঁটি গেড়ে থাকা সকল জঙ্গি সংগঠনকে নির্মূল করতে আরও স্পষ্ট পদক্ষেপ করা হোক।

পাকিস্তানের আফগান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় তালিব বিদ্রোহীরা। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামে ওই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রায়শই সংঘর্ষ লেগে থাকে পাকিস্তানের সেনা এবং আধাসেনা বাহিনীর। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানই ওই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে মদত দিচ্ছে। কাবুলে তালিবান সরকার পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরে পাকিস্তানের তালিবান বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরও সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে গত বছরের অক্টোবরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বোমাবর্ষণ করে রাওয়ালপিন্ডি। তার পরে পাল্টা পাকিস্তানি সীমান্তে হামলা চালায় তালিবান বাহিনী। পাক সেনার সঙ্গে ওই সময়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে তালিবান বাহিনীর। কাবুলে পাকিস্তানের হামলা নিয়ে মুখ খুলেছিল ভারতও। নয়াদিল্লির বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছিল, আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান। সেই কারণেই তারা কাবুলে হামলা চালিয়েছে বলে মনে করে ভারত।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে ওই সময়ে বলা হয়, “পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে আশ্রয় দেয়, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত দেয়। প্রতিবেশীদের দোষারোপ করা ওদের পুরনো স্বভাব।’’ আফগানিস্তানের পক্ষ নিয়ে ভারত ওই সময়ে বলে, ‘‘আফগানিস্তান নিজেদের মাটিতে সার্বভৌম হয়েছে। তাতে পাকিস্তান ক্ষুব্ধ। আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার প্রতি ভারত শ্রদ্ধাশীল।”

এক দিকে যখন ভারত আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে, তখন চিনকে পাশে পেল পাকিস্তানও। যৌথ বিবৃতি দিয়ে পাকিস্তানের প্রতি নিজেদের সমর্থন দৃশ্যতই স্পষ্ট করে দিল বেজিং। ওই যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাণিজ্য, অর্থনীতি, নিরাপত্তা, শিল্প, কৃষি, খনি, বিনিয়োগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করবে বেজিং এবং ইসলামাবাদ। বিভিন্ন বহুদেশীয় অর্থনৈতিক মঞ্চে একে অপরের পাশে দাঁড়াবে দুই দেশ।

China Pakistan Afghanistan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy