দলের ছাত্র সংগঠন বর্তমানে নিষিদ্ধ। স্বাভাবিক ভাবেই ছন্নছাড়া নেতৃত্ব, সদস্যেরাও ঝিমিয়ে। এই অবস্থায় সংগঠনকে চাঙ্গা করার দাওয়াই দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রবিবার আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে দেওয়া ভার্চুয়াল বক্তৃতায় সংগঠনের সদস্যদের কী করণীয় তা বাতলে দেন। নির্দেশ দেন, আরও শক্তিশালী হয়ে মাঠে নামতে হবে। বলেন, “জনসংযোগ বাড়াতে হবে।”
রবিবার ছিল ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা দিবস। তবে ইউনূস প্রশাসন ওই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় বাংলাদেশে কোনও কর্মসূচিই পালিত হয়নি। রাতে ভার্চুয়াল বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের সর্বময় নেত্রী হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উপর নির্যাতন, খুন, গণহত্যা করে সংগঠন পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।” তাঁর দাবি, কারাগারে ১১৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। সংগঠনের নেতা-কর্মী, যাঁরা কারাগারে বন্দি, তাঁদের খাবার ও শোয়ার জায়গাটুকু দেওয়া হচ্ছে না। এই নির্যাতিতদের তথ্য সংগ্রহ করে কর্মীদের তালিকা তৈরি করা এবং সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছেন হাসিনা।
আরও পড়ুন:
নেতা-কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার বার্তাও দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশ, “রাজধানী থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত জনসংযোগ বাড়াতে হবে।” সমাজমাধ্যমে সক্রিয় থাকারও উপদেশ দেন তিনি। পাশাপাশি, বর্তমান সরকারের ‘অপকর্মে’র বিরুদ্ধে সরব হওয়ার নির্দেশও দেন। সংগঠনকে শক্তিশালী করে আন্দোলনের পরিকল্পনার নির্দেশও দিয়েছেন।
দলের নেতা-কর্মীদের নেত্রীর আশ্বাস, “একদিন অন্ধকার সময় কেটে যাবে এবং আওয়ামী লীগ আবারও আলোতে ফিরে আসবে।”
সংগঠন চাঙ্গা করার দাওয়াই দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে চুরি, বিদেশে অর্থ পাচার করা (৫০০০ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজ়িট ও বিদেশে বিনিয়োগ) এবং দেশের মানুষকে নির্যাতন করার মতো অভিযোগ ফের তুলেছেন হাসিনা। তাঁর মতে, দেশে আইনশৃঙ্খলা নেই। ফলে, মানুষ ভীত। তিনি ইউনূসকে ‘জঙ্গি’ ও ‘খুনিদের’ সঙ্গী হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ভোট। তবে লড়তে পারবে না আওয়ামী লীগ। এ প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, “জনসমর্থনের ভয়েই ইউনূস সরকার আওয়ামী লীগ ও ছাত্র লীগকে দমানোর চেষ্টা করছে।”