Advertisement
E-Paper

আয়নাঘরে গুম করে রাখা হত মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই! ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট দিয়ে দাবি কমিশনের

ইউনূস গঠিত এই কমিশনের দাবি, গুমের নেপথ্যে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলেই মনে করছে তারা। এর আগে তারা দাবি করেছিল, গুমের নির্দেশদাতা হিসাবে হাসিনার যোগ পাওয়া গিয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:১২
(বাঁ দিকে) বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই গুম (গোপন বন্দিশালায় আটক করে রাখা) করা হত। এমনটাই দাবি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশন। রবিবার ওই কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। কমিশনের সদস্যদের বক্তব্য, “আমরা যে তথ্য পেয়েছি তা থেকে প্রমাণিত যে এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ।”

অতীতে বাংলাদেশে বিভিন্ন গোপন বন্দিশালায় অনেককে আটকে রাখা হত বলে অভিযোগ উঠেছে। এই গোপন বন্দিশালাগুলি ‘আয়নাঘর’ নামেই পরিচিত বাংলাদেশে। হাসিনা সরকারের পতনের পরে গুমসংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে এই কমিশনটি গঠন করে ইউনূস সরকার। এর আগে কমিশন বেশ কিছু অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা দিয়েছে ইউনূসের কাছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক অন্তর্বর্তী রিপোর্টে কমিশন দাবি করেছিল, আয়নাঘরে মানুষকে আটকে রাখার ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসাবে হাসিনার যোগ পাওয়া গিয়েছে।

রবিবার গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশন ইউনূসকে জানায়, গুম হওয়া যে ব্যক্তিরা জীবিত ফিরেছেন তাঁদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই জামায়েত (জামাত নামেই পরিচিত) শিবিরের নেতাকর্মী। এ ছাড়া ২২ শতাংশ রয়েছেন বিএনপি এবং তার শাখা সংগঠনের নেতাকর্মী। ইউনূস গঠিত এই কমিশনের দাবি, গুমের নেপথ্যে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলেই মনে করছে তারা।

বাংলাদেশের ওই কমিশন আরও জানিয়েছে, তাদের কাছে মোট ১,৯১৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেগুলি যাচাই করার পরে ১,৫৫৯টি অভিযোগকে তারা গুম হিসাবে বিবেচনা করছে। এর মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগকে ‘গুম এবং মৃত’ (মিসিং অ্যান্ড ডেড) বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে ইউনূস গঠিত এই কমিশনের দাবি, গুমের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই কমিশনের অন্যতম সদস্য নাবিলা ইদ্রিসের কথায়, “গুমের সংখ্যা চার-ছয় হাজার হতে পারে। গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তাঁদের থেকে অন্য ‘ভিক্টিম’দেরও খোঁজ পাওয়া যায়। কিন্তু তাঁরা কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। আবার অনেকে অন্য দেশে চলে গিয়েছেন। আবার এমনও অনেকে আছেন, যাঁদের সঙ্গে কমিশন যোগাযোগ করলেও তাঁরা অন রেকর্ড কথা বলতে চাননি।”

বাংলাদেশে হাসিনার আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিরোধীদের দমনপীড়ন, অবৈধ ভাবে আটক করে রাখা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, এমনকি গুপ্তহত্যার মতো অভিযোগও উঠেছে। আন্তর্জাতিক স্তরেও এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে চর্চাও হয়েছে। এই অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার একটি কমিশন গঠন করে। কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী।

Bangladesh Situation Sheikh Hasina Muhammad Yunus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy