প্রদ্যুম্ন ঠাকুরকে তিনি খুন করেননি। বরং তাঁর উপর অমানুষিক অত্যাচার চালিয়ে সে কথা বলতে বাধ্য করিয়েছে পুলিশ। বুধবার জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর এমন দাবি-ই করলেন রায়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বাসের হেল্পার অশোক কুমার

তাঁর বিরুদ্ধে ওই স্কুলের ছাত্র ছ’বছরের প্রদ্যুম্ন ঠাকুরকে যৌন নির্যাতন করে খুনের অভিযোগ এনেছিল গুরুগ্রাম পুলিশ। কিন্তু, তদন্তভার নিজেদের হাতে নেওয়ার পর সিবিআই সে তত্ত্ব খারিজ করে দেয়। আর তাতেই সহজ হয়ে যায় অশোকের জামিনের পথ।

৮ সেপ্টেম্বর সেই খুনের পর কেটে গিয়েছে প্রায় ৭৫ দিন। জামিনে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন অশোক কুমার। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন তিনি। একই দাবি তাঁর স্ত্রী-রও। তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই জানতাম খুনের ঘটনায় উনি জড়িত নন। গুরুগ্রাম পুলিশ ঠিক মতো তদন্ত করেনি। তবে বিচার ব্যবস্থায় আমাদের ভরসা রয়েছে।” তাঁর আরও দাবি, পুলিশি অত্যাতারের ফলে শারীরিক ভাবে খুবই দুর্বল পড়েছেন অশোক। তাঁর কথায়: “পুলিশ তাঁকে মারধর করত। উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখত। এমনকী, মাদক খাইয়েই দোষ কবুল করিয়েছে।”

আরও পড়ুন

যে বোতামই টিপুন, ভোট যাচ্ছে পদ্মফুলে! মেরঠের পুরভোট ঘিরে তুলকালাম

চার বছরের ছেলে ‘যৌন’ নিগ্রহে অভিযুক্ত!

অধস্তনের মেয়েকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ভারতীয় সেনার কর্নেল

প্রদ্যুম্ন খুনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অশোককে গ্রেফতার করে গুরুগ্রাম পুলিশ। পরের দিন সংবাদমাধ্যমের সামনে প্যারেড করানো হয় তাঁকে। সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে প্রদ্যুম্নকে খুনের কথা কবুল করেন তিনি। তবে এর পর সিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করলে প্রদ্যুম্ন খুনের মামলায় নাটকীয় মোড় নেয়। সিবিআই দাবি করে, অশোক নন ওই স্কুলেরই একাদশ শ্রেণির এক পড়ুয়া প্রদ্যুম্নকে খুন করেছে। উদ্দেশ্য ছিল, কোনও একটা গোলমাল পাকিয়ে পরীক্ষা-সহ শিক্ষক-অভিভাবক বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া। সিবিআইয়ের আরও দাবি, তদন্তে তড়িঘড়ি করেছে গুরুগ্রাম পুলিশ। তা ছাড়া, প্রদ্যুম্ন খুনে অশোকের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ মেলেনি। যদিও এখনই অশোককে ক্লিন-চিট দিতে রাজি নয় সিবিআই। তবে তাদের ওই দাবির ভিত্তিতেই আদালতে জামিন পেয়েছেন অশোক।