রেল লাইনে কংক্রিটের চাঙড় রেখে ট্রেন ওড়ানোর ছক কষেছিল দুষ্কৃতীরা। রেল পুলিশের দাবি, রেলকর্মীরা সেটি সরাতে গেলে বাধা দেয় ৩-৪ জন দুষ্কৃতী। রেলরক্ষী বাহিনী গিয়ে সেটি সরায়। বেগতিক দেখে গা-ঢাকা দেয় দুষ্কৃতীরা।

গত রাতে বিহারের সমস্তীপুরে দলসিংহরাই স্টেশনের কাছে ওই ঘটনায় চিন্তায় রেল প্রশাসন। রেলকর্তারা জানিয়েছেন, ঠিক সময়ে খবর না মিললে বড় দুর্ঘটনায় পড়ত ভাগলপুর-মুজফফরপুর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস। পূর্ব-মধ্য রেলের জেনারেল ম্যানেজার ডি কে গায়েন বলেন, ‘‘ওই লাইনে নাশকতার ছক কষা হয়েছিল। বিহারের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজিকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। তদন্ত করছে রেলও।’’

রেল সূত্রে খবর, কাল রাত ১২টা ২০ মিনিট নাগাদ দলসিংহসরাই এবং সাতহাজগত স্টেশনের মাঝখানে পরিদর্শনের সময় একটি ছোট সেতুর উপর আপ লাইনে কংক্রিট চাঙ়়ড় দেখতে পান রেলকর্মী মনজুর আলম ও রমেশ প্রজাপতি। সেটি সরাতে গেলে তিন-চার অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী তাঁদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। রেলকর্মীরা দলসিংহরাই স্টেশনে গিয়ে রেলরক্ষীদের খবর দেন। রাত দেড়টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাইন থেকে চাঙড় সরান রেলরক্ষীরা। ডি কে গায়েন জানান, ওই সময়ে সেখান দিয়ে ভাগলপুর-মুজফফরপুর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের যাওয়ার কথা ছিল। ট্রেনে প্রায় ৮০০ যাত্রী ছিলেন। রেলকর্তার মন্তব্য, ‘‘ট্রেনটি লাইনচ্যুত হলে অনেক প্রাণহানি হতে পারত।’’ প্রাথমিক তদন্তের পর রেলের বক্তব্য, নাশকতা ঘটাতেই লাইনে কংক্রিটের চাঙড় রাখা হয়েছিল।

বিহারের পূর্ব চম্পারণ জেলার মোতিহারি থেকে সম্প্রতি ট্রেন ওড়ানোর ছকে জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ২০ নভেম্বর কানপুরে ইনদউর-পটনা এক্সপ্রেস লাইনচ্যূত হওয়ার ঘটনায় তাদের হাত রয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর শিয়ালদহ-অজমেঢ় এক্সপ্রেস লাইনচ্যূত হয়েছিল। তাতেও মিলেছে নাশকতার প্রমাণ। সে সবের সঙ্গে আইএসআইয়ের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। গত রাতের ঘটনাও সে দিকে ইঙ্গিত করছে বলে আশঙ্কা রেল ও বিহার পুলিশের।